ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় 'বাসাপ' এর প্রার্থনা মানবিক মূল্যবোধ থেকেই জাতীয় নেত্রীর আরোগ্য প্রত্যাশা : “ভোগান্তির আরেক নাম মৌলভীবাজার টু কাজীরহাট স্লুইসগেট দুই যুগের কান্না : হাজ্বী আবুল খায়ের দাখিল মাদরাসায় পাঠ পরিকল্পনা, দোয়া ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত: হাকিম মাওলানা ইলিয়াস (রাঃ) ইউনানী চিকিৎসার বাতিঘর,আর তাঁর উওরসূরী হাকিম শহিদ উল্ল্যাহর গবেষণা ,সেবা,ঐতিহ্যের বৃহৎযাএা : নুরে হিদায়তের আলোয় 'রহমানিয়া মাদরাসা' চরপার্বতী ধর্মীয় জাগরনের দীপ্তাঙ্গন: 'দীন দুনিয়ার মালিক খোদা' ইসলামী গান আধ্যাত্মিকতার আলোয় এক অনন্য সৃজন যাত্রা : "সংবাদ ও সত্যের পথিক প্রবীন সাংবাদিক এমজি বাবর" খোঁজ নিতে ছুটে গেলেন নের্তৃবৃন্দ ও সহকর্মীরা : "চরপার্বতীর বুকে মৌলভীবাজার স্পোর্টিং ক্লাবের ক্রীড়া, করুণা ও স্বপ্নযাত্রার মহাকাব্য" "একান্ত সাক্ষাতকারে মাওলানা আলী আহমদ জমিরী" কোম্পানীগঞ্জ কৃষি অফিসে দুদকের অভিযান যন্ত্রপাতি ক্রয় ভর্তুকি বণ্টনে ব্যাপক অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ :

জুলাই সনদ নিয়ে গলদঘর্ম সরকার

জুলাই সনদ নিয়ে গলদঘর্ম সরকার

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি নিয়ে গলদঘর্ম অবস্থায় পড়েছে সরকার। সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট নিয়ে দলগুলোকে এক সপ্তাহের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত জানাতে সরকার আহ্বান জানালেও কোনো সাড়া মেলেনি। এ অবস্থায় সরকার নিজেই আদেশ জারির চেষ্টা করছে। কিন্তু

আদেশে দলগুলো সন্তুষ্ট হয় কিনা, না হলে কি প্রতিক্রিয়া হতে পারে এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকারের ভেতরে আলোচনা চলছে। আগামীকাল উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে। গতকাল আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, তিন চারদিনের মধ্যেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হবে। সরকার সব দলের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করছে বলেও তিনি জানান।

ওদিকে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সনদের বাইরের কোনো বিষয় স্বাক্ষরকারী দল মানতে বাধ্য না। গণভোট বিষয়ে দলগুলোর বিভেদ আরও বাড়ছে। বিএনপি নির্বাচনের আগে গণভোট চায় না। অন্যদিকে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ ৮টি দল নির্বাচনের আগে গণভোট এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তিসহ ৫ দাবিতে যৌথ কর্মসূচি পালন করেছে। গতকাল এই আট দলের সমাবেশ থেকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছাড়া কোনো ভোট হবে না। গণভোটের আগে জাতীয় নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। দলগুলোর এই বিপরীত অবস্থানের মধ্যে এ বিষয়ে সরকার কি সিদ্ধান্ত নেবে তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তে দলগুলো সায় না দিলে নির্বাচন ঘিরে নতুন কোনো অনিশ্চয়তা তৈরি হয় কিনা এমন প্রশ্নও দেখা দিয়েছে।

ওদিকে বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকেই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোটের সময়সূচি নিয়ে ‘গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত’ আসতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে। সূত্র বলছে, ১৫ই নভেম্বরের মধ্যে সরকার সনদের বাস্তবায়ন আদেশ জারি করতে পারে। দলগুলোর প্রত্যাশা কিছুটা সমন্বয়েরও চেষ্টা করা হচ্ছে। সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট একইদিনে করাসহ সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখছে সরকার।

গণভোট ও সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে ৩রা নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক শেষে সরকারের তরফ থেকে দলগুলোকে এক সপ্তাহের আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, নিজেদের মধ্যে ঐকমত্য না এলে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। এ বিষয়ে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান মানবজমিনকে বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে ১৩ই নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

গতকাল এক মতবিনিময় সভায় আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের পদক্ষেপ ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে জানা যাবে। সরকার সব দলের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, আমরা উপদেষ্টা পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ে এটা আলোচনা করেছি। সব দলের প্রত্যাশার প্রতি সমন্বয় ঘটিয়ে দেশের এবং জনগণের স্বার্থে যা করা দরকার সেটাই আমরা করতে যাচ্ছি।

গতকাল এক সমাবেশে বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন যদি পিছিয়ে দেয়া হয়, তাহলে বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। সংস্কারের যেসব বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি, তার বাইরে কিছু জোর করে চাপিয়ে দিলে সমস্ত দায় নিতে হবে সরকারকেই।

এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই যে, জুলাই জাতীয় সনদে উল্লিখিত বিষয়াদির বাইরে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলে সনদে স্বাক্ষরকারী কোনো দলের জন্য তা মান্য করার বাধ্যবাধকতা থাকবে না। সেই ক্ষেত্রে সকল দায় দায়িত্ব সরকারের ওপরই বর্তাবে। এ ব্যাপারে সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

পাঁচ দফা কর্মসূচিতে গতকাল জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের দাবি কম, কিন্তু খুব সুস্পষ্ট। জুলাই বিপ্লবকে স্বীকৃতি দিতে হবে। জুলাই বিপ্লবের স্বীকৃতি দিতে হলে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতেই হবে। এই আইনি ভিত্তি ছাড়া কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠান হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। ২০২৬ সালে নির্বাচন দেখতে হলে আগে জুলাই বিপ্লবের স্বীকৃতি লাগবে। যারা জুলাই বিপ্লব মানবেন না, তাদের জন্য ২৬ সালে কোনো নির্বাচন নেই।

উল্লেখ্য, ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ৬টি সংস্কার কমিশনের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে তৈরি করা হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ। ৮৪টি প্রস্তাবের মধ্যে ৪৮টি সংবিধান-সম্পর্কিত। সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর অন্তত ৩৬টিতে কোনো না কোনো দলের ভিন্নমত বা নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে গত ২৭ই অক্টোবর সরকারের কাছে দুটি বিকল্প সুপারিশ দেয় ঐকমত্য কমিশন। বিকল্প প্রস্তাবে, কোনোটিতেই নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমতের বিষয়টি রাখা হয়নি। সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথমে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করা হবে। এরপর ওই আদেশ ও ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে আগামী সংসদ সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে ২৭০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে। বিকল্প সুপারিশে বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে সংসদ সংবিধান সংস্কারে ব্যর্থ হলে প্রস্তাবগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে যুক্ত হবে। গণভোট কবে হবে, সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সরকারের ওপর ছেড়ে দিয়েছে কমিশন।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.