ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : 'পশ্চিমা শক্তির কাছে খোমেনীর ইরান মাথা নত করেনি করবে না' দাগনভূঞায় ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ উদ্যোগে শীতার্ত পরিবারে মাঝে কম্বল বিতরণ: জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা রাজনৈতিক ফিলোসফি ও সংঘটনের অভ্যন্তরীণ আদর্শিক অবকাঠামো পরিবর্তন : 'সাদা অ্যাপ্রনের নীরব আলো' 'আলোর পথে চিকিৎসক ফরিদুল ইসলামের জীবনযাত্রা' 'শতবর্ষী তাকিয়া জামে মসজিদের নিচ তলায় মার্কেট নির্মানের চেষ্টা' দাগনভূঞায় সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১ আহত ৬: জাতীয় সড়ক যোদ্ধা পুরস্কারে ভূষিত দাগনভূঞার সাংবাদিক সোহেল: নির্বাচন কমিশনের যাচাইয়ে উত্তীর্ণ জামায়াত প্রার্থী নোয়াখালী-৫ এ উৎসবমুখর পরিবেশ : গণতন্ত্র রক্ষায় বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অবিস্মরনীয়' কোম্পানীগঞ্জে মোঃ ফখরুল ইসলাম :

জুলুম যন্ত্রণা পেরিয়ে জনতার অতন্দ্র প্রহরী চরহাজারীর হারুনুর রশীদ হারুন ভুইয়ার রাজনৈতিক জীবন :

জুলুম যন্ত্রণা পেরিয়ে জনতার অতন্দ্র প্রহরী চরহাজারীর হারুনুর রশীদ হারুন ভুইয়ার রাজনৈতিক জীবন :

জুলুম যন্ত্রণা পেরিয়ে জনতার অতন্দ্র প্রহরী চরহাজারীর হারুনুর রশীদ হারুন ভুইয়ার রাজনৈতিক জীবন :

নব জ্যোতি ফিচার ডেস্ক:

রাজনীতি কখনোই কেবল ক্ষমতার আসন দখলের নাম নয়; রাজনীতি কখনো কখনো হয়ে ওঠে এক মানুষের সমগ্র জীবন সংগ্রামের নিরলস পথচলা।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর, গণতন্ত্রের পক্ষে মাথা উঁচু করে লড়ে যাওয়ার সাহসের নামই প্রকৃত রাজনীতি। আর ঠিক এমনই এক দৃঢ়চেতা সংগ্রামী মানুষের নাম

হারুনুর রশীদ হারুন ভুইয়া।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৩নং চরহাজারী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে জন্ম নেয়া এই মানুষের জীবনকথা যেন এক অনলস লড়াইয়ের মহাকাব্য।

১৯৭২ সালে জন্ম নেওয়া হারুন ভুইয়া একজন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। তাঁর পিতা প্রয়াত মমিনুল হক ছিলেন আমেরিকান প্রবাসী সীম্যান।

কিন্তু প্রবাসী বাবার আর্থিক স্বচ্ছলতা কখনোই তাকে নরম রাজনীতির পথ বেছে নিতে দেয়নি। কৈশোর থেকেই তিনি ছিলেন প্রতিবাদী, অন্যায়ের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ একদম মানুষের পাশে থাকা ধুলোমাখা রাজনীতির সৈনিক।

হারুন ভুইয়ার রাজনীতির হাতেখড়ি ১৯৯১ সালে, যখন তিনি আবু মাঝির হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন।

ছোট্ট স্কুল প্রাঙ্গণেই গড়ে ওঠে তাঁর সাংগঠনিক নেতৃত্বের বীজ, যা পরবর্তীতে বিস্তৃত হয়ে দাঁড়ায় ইউনিয়ন, উপজেলা,অসংখ্য কর্মীর আশ্রয়স্থল হিসেবে।

১৯৯৪ সালে তিনি হন চরহাজারী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি। তার নেতৃত্বে ইউনিয়নের ছাত্ররা সংগঠিত, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সচেতনতামূলক বিভিন্ন আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে।

তার এই নেতৃত্ব গুণ তাঁকে দ্রুত এগিয়ে দেয় যুবদলের মূলধারায়।এক নিবেদিতপ্রাণ সংগঠকের পরিচয়

১৯৯৮ সালে যুবদলের ঝাণ্ডা হাতে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বছর।

তিনি হন ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক, দায়িত্ব পালন করেন ২০০১ পর্যন্ত।পরবর্তীতে ২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে।

পরপর এক যুগ ২০০৮ থেকে ২০২০সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন চরহাজারী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি।

এই সময়টাতেই তাঁর নেতৃত্বের দৃঢ়তা, কর্মীদের প্রতি মমত্ববোধ, এবং দুঃসাহসী অবস্থান তাঁকে তৃণমূলের মানুষের এক অনন্য ভরসার স্থানে দাঁড় করায়।

নির্যাতন জুলুমের অন্ধকারেও অবিচল সংগ্রামী, বিগত ১৭ বছরের নির্যাতন, হামলা-মামলা, পুলিশের হয়রানি, অর্থনৈতিক ক্ষতি সবকিছুর মধ্য দিয়েই হেঁটেছেন হারুন ভুইয়া।

আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনের দমন-পীড়নের কারণে তিনি রাতের পর রাত নিজের ঘরে থাকতে পারেননি।

কখনো পুলিশি তাড়া, কখনো নাশকতা মামলায় হয়রানি, কখনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দাঁত নখে ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন তিনি তবুও থামেননি।

রাজপথে থেকেছেন, মিছিলে ছিলেন, গণতন্ত্রের প্রতিটি আন্দোলনে তিনি ছিলেন কর্মীদের আগুয়ান ঢাল হিসেবে।

একাধিকবার কারাবরণ করেছেন, তবুও দ্বিধাহীন কণ্ঠে বলেছেন,"আমি অন্যায়ের কাছে মাথা নোয়াইনি, নোয়াবোও না।”

অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠ চরহাজারীর এক আস্থার নাম হারুন ভুইয়া।

চরহাজারীতে হারুন ভুইয়ার নাম উচ্চারিত হলে মানুষ বিএনপির কথা মনে করে এটাই বাস্তবতা।

তাঁর প্রভাব, তাঁর অবস্থান, তাঁর পরিষ্কার বক্তব্য সবই তাঁকে তৃণমূল বিএনপির এক অখণ্ড প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ভয়ংকর সামাজিক সমস্যাগুলোর মধ্যে কিশোর গ্যাং, মাদক, চাঁদাবাজি

এর বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন হারুন ভুইয়া।

তাই সমাজে তাঁর একটি ক্লিন ইমেজ তৈরি হয়েছে, এবং মানুষ তাঁকে দেখে নিরাপত্তা, সুশাসন ও নৈতিকতার প্রতীক হিসেবে।

ব্যবসায়িক ক্ষতি, তবুও থামেননি রাজনৈতিক পথে

রাজনীতির কারণে তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদারদের বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছে।

অনেক সময় তিনি ব্যবসায় মনোযোগ দিতে পারেননি; আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রচুর।কিন্তু কর্মীদের কাছে তাঁর অদম্য প্রতিশ্রুতি দলের স্বার্থে ব্যক্তিগত ক্ষতি কোনো বিষয় নয়।

এমন শক্ত অবস্থানই তাঁকে আলাদা করে। ৫ আগস্টের পর কঠিন সময়ে শান্ত নেতৃত্ব বিগত ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠে।

কিন্তু সে কঠিন সময়ে চরহাজারীতে তিনি ছিলেন শান্তির নেতৃত্বদাতা।কর্মীদের শৃঙ্খলা, আন্দোলনের দিকনির্দেশনা, মানুষের নিরাপত্তা সবকিছুতে তাঁর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।

একইসাথে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বিএনপির বর্তমান মনোনীত প্রার্থী, মেট্রো হোমসের মালিক, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান আলহাজ মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামএর জন্য।

দিন-রাত মিছিল, গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ

সবকিছুতে তিনি সামনের সারিতে।

তিনি দলীয় কোন্দলে জড়ান না, বরং সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেন।

বিগত ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতায় তিনি ছিলেন তৎকালীন বিএনপি আন্দোলনের অন্যতম অতন্দ্র প্রহরি। তিনি ছিলেন কর্মীদের জন্য ঢালস্বরূপ।

চরহাজারীর নেতা-কর্মীরা তাঁকে ভালোবেসে ডাকেন

আমাদের হারুন ভুইয়া ভাই ।এটাই তাঁর প্রকৃত পরিচয়

একজন নেতা, যিনি নিজের জন্য নয়, মানুষের জন্য বাঁচেন।

আজ তিনি চরহাজারী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থী।এই পদ তাঁর কাছে ক্ষমতার প্রতীক নয়;এটি তাঁর কাছে জনগণের সেবা করার সুযোগ।

তাঁর কথায়, চরহাজারীর প্রতিটি মানুষ আমার পরিবার। তাদের জন্যই আমার রাজনীতি।

নিজের মেধা, শ্রম এবং অর্থ ব্যয় করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে যাচ্ছেন।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে কাজ করছেন এটাই তাঁকে আলাদা করে।

হারুনুর রশীদ হারুন ভুইয়ার জীবনগাঁথা হলো এক সংগ্রামী পথচলার গল্প। প্রতিবাদ, প্রতিকূলতা, নির্যাতন সব পেরিয়ে আজও তিনি দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছেন মানুষের পাশে।

যিনি রাজনীতি করেন ক্ষমতার জন্য নয়,

সেবা, ন্যায় ও গণতন্ত্রের জন্য। চরহাজারীর মানুষ তাঁকে চেনে একজন সৎ, সাহসী, ত্যাগী নেতা হিসেবে।

এমন নেতাই একদিন মানুষের হৃদয় জয় করে সত্যিকার পরিবর্তন আনতে পারে।

হারুন ভুইয়া তাই শুধু একটি নাম নয়,

তিনি চরহাজারীর আন্দোলন, গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা আর মানুষের মনের আশার প্রতীক।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.