ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : 'পশ্চিমা শক্তির কাছে খোমেনীর ইরান মাথা নত করেনি করবে না' দাগনভূঞায় ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ উদ্যোগে শীতার্ত পরিবারে মাঝে কম্বল বিতরণ: জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা রাজনৈতিক ফিলোসফি ও সংঘটনের অভ্যন্তরীণ আদর্শিক অবকাঠামো পরিবর্তন : 'সাদা অ্যাপ্রনের নীরব আলো' 'আলোর পথে চিকিৎসক ফরিদুল ইসলামের জীবনযাত্রা' 'শতবর্ষী তাকিয়া জামে মসজিদের নিচ তলায় মার্কেট নির্মানের চেষ্টা' দাগনভূঞায় সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১ আহত ৬: জাতীয় সড়ক যোদ্ধা পুরস্কারে ভূষিত দাগনভূঞার সাংবাদিক সোহেল: নির্বাচন কমিশনের যাচাইয়ে উত্তীর্ণ জামায়াত প্রার্থী নোয়াখালী-৫ এ উৎসবমুখর পরিবেশ : গণতন্ত্র রক্ষায় বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অবিস্মরনীয়' কোম্পানীগঞ্জে মোঃ ফখরুল ইসলাম :

কবর জগতে আপনজনদের সাক্ষাত: ''সাহেবজাদা আল্লামা হাসনাইন আহমদ কাদেরী''

কবর জগতে আপনজনদের সাক্ষাত: ''সাহেবজাদা আল্লামা হাসনাইন আহমদ কাদেরী''

কবর জগতে আপনজনদের সাক্ষাত:

''সাহেবজাদা আল্লামা হাসনাইন আহমদ কাদেরী''

দুনিয়া হলো আখেরাতের সঞ্চয় হাসিলের স্থান। আমাদের ঈমান - আমল কবর ও হাশরের মুক্তির পাথেয়। যে ঈমানদার আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের গোলামীতে সফলতা লাভ করবে কবর ও হাশরের জগতে তার মকাম বেড়ে যাবে।

এমনকি তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর আগে যারা কবরস্থ হয়েছেন, তাদের মধ্যকার ঈমানদার সালেহীনগন এসে তাঁকে স্বাগতম জানানোর জন্য আসবেন।

আল্লাহ তায়ালা কোরআন শরিফে বলেছেন,

আর তোমরা নামাজ কায়েম কর এবং যাকাত দাও। আর তোমরা নিজেদের জন্য যে নেক আমল আগাম পাঠাও, তা আল্লাহর নিকট পাবে। নিশ্চয় তোমরা যা কর, আল্লাহ তা সম্পূর্ণরূপে দেখেন।

সুত্র:- সূরা আল-বাকারা, আয়াত নং ১১০;

অপর আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা বলেছেন, যেসব ঈমানদারদের সন্তানরা ঈমানসহ তাদের অনুসরণ করেছে, আমি তাদের সন্তানদেরকে তাদের সঙ্গে (কবরে) মিলিয়ে দেব।

আর আমি তাদের আমলের প্রতিদান থেকে কিছুই কমাবো না। প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজ কর্মের বন্ধনে আবদ্ধ।

সুত্র:- সূরা আত-তূর, আয়াত ২১;

এই বিষয়ে একটি হাদিস ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনে মোবারাক উল্লেখ করে লিখেছেন,

আবু আইয়ুব আনসারী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন:“যখন কোনো বান্দার প্রাণ কবজ করা হয়,

তখন আল্লাহর রহমতপ্রাপ্ত বান্দারা তাকে এভাবে অভ্যর্থনা করে, যেমন দুনিয়ায় সুসংবাদ বাহককে অভ্যর্থনা করা হয়। তারা তার দিকে ধাবিত হয় তাকে প্রশ্ন করার জন্য। কেউ কেউ বলে: ‘তোমাদের ভাইকে একটু বিশ্রাম নিতে দাও, সে তো (দুনিয়াতে) কষ্টে ছিল।’

তারপর তারা তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করে: ‘অমুক কী করল? অমুকা (মহিলা) কী করল? সে কি বিবাহ করেছে?’ যদি তারা এমন কারও ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে যে সে তার আগেই মারা গেছে,

তখন সে বলে, ‘সে তো ধ্বংস হয়ে গেছে।’ তখন তারা বলে: ‘ইন্নালিল্লাহী ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন —...

(ইবনু মুবারক, আয-যুহুদ, হাদীস ৪৪৩)

আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বলেছেন:

“দুই মুমিনের আত্মা এক দিনের পথ দূরত্বেও পরস্পরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, যদিও তারা কখনও একে অপরকে দেখেনি।”

সুত্র:- মুসনাদু আহমাদ, ১১/৬২৬ পৃষ্ঠা হাদীস নং ৭০৪৭

আরেকটি হাদিসে এসেছে, “তোমাদের কেউ যখন তার ভাইয়ের দাফন সম্পন্ন করতে যাবে, তার কাফন ভালোভাবে/উত্তমরূপে প্রদান করো, কেননা তারা কবরে একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।”

সুত্র:- ইবনু আবিদ দুনিয়া, আল-মুনামাত, হাদীস নং ৮৮;

ইমাম ইবনু হাজার হায়তামীর ফাতাওয়া কুবরায় একটি প্রশ্ন উল্লেখপূর্বক লিখা হয়েছে

“আত্মাগুলো কি একত্রিত হয় এবং তারা কি একে অপরকে দেখে?” তিনি উত্তর দিলেন: “হ্যাঁ, সহীহ হাদীসে এসেছে যে তারা একত্রিত হয় এবং নতুন মৃত ব্যক্তিকে গ্রহণ করে, তারপর জিজ্ঞেস করে— অমুক কী করল? অমুকা কী করল?”

সুত্র: ইবনু হাজার হায়তামী, আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা, ২/৩০ পৃষ্ঠা ;

এক আনসারী সাহাবীর স্ত্রী মারা গেলেন।

তিনি (স্বামী) রাতে স্বপ্নে দেখলেন কবরে কিছু মহিলাদের সমাবেশ কিন্তু তাঁর স্ত্রী তাদের সঙ্গে নেই।তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, “আমার স্ত্রী কোথায়?” তারা বলল, “তোমরা তাঁর কাফন ঠিকভাবে দাওনি,

তাই তিনি লজ্জায় আমাদের সঙ্গে বের হতে পারেন না।” এ খবর শুনে সেই সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গেলেন এবং বিষয়টি জানালেন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তুমি এমন একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তির কাছে যাও,

যে মৃত্যুর কাছাকাছি রয়েছে।” তিনি আরেকজন আনসারীর কাছে গেলেন, যার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছিল। তাঁকে সব ঘটনা জানালে তিনি বললেন, “যদি মৃতদের কাছে পৌঁছায়, আমি তাকে পৌছে দেব।”

এরপর সেই আনসারীর ইন্তেকাল হলো।

তাঁকে (তার কাফনের ভিতর) দুইটি জাফরান-রঞ্জিত কাপড় দেওয়া হলো। রাতে (প্রথম সাহাবী) স্বপ্নে দেখলেন— ঐ মহিলাদের মধ্যে তাঁর স্ত্রীও আছে, এবং তাঁর গায়ে হলুদ দুইটি কাপড় (যা ঐ আনসারী সাহাবী পাঠিয়েছিলেন)।

সুত্র:- ইবনু আবিদ দুনিয়া, আল-মুনামাত, ৮৭ পৃষ্ঠা, হাদীস নং ১৬১;

অতএব বুঝা গেলো কবর জগতেও ঈমানদার সালেহীনরা রাজত্ব করবে।

ইমাম ইবনে আবিদ দুনিয়া একই কিতাবে আরেকটা হাদিস বর্ণনা করে লিখেছেন।

যখন বিশর ইবনুল বারা ইবনু মা’রূফ ইন্তেকাল হয়ে যান, তাঁর মা গভীরভাবে শোকাহত হলেন এবং নবিজীকে বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল, বানু সালিমা গোত্রের লোকজন একের পর এক মারা যাচ্ছে;

মৃতেরা কি একে অপরকে চিনতে পারে, যেন আমি বিশরকে সালাম পাঠাতে পারি?” নবিজী বললেন: “হ্যাঁ, সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ! তারা একে অপরকে চিনতে পারে যেমন গাছের ডালে বসা পাখিরা একে অপরকে চেনে।”

তারপর থেকে, যখনই বানু সালমা গোত্রের কেউ মারা যেত, বিশরের মা তাকে বলতেন: “হে অমুক, তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক।” সে বলত, “ওয়ালাইকা সালাম।” তখন তিনি বলতেন, “বিশরকে আমার সালাম পৌঁছে দিও।”

সুত্র:- ইবনু আবিদ দুনিয়া, আল-মুনামাত,১৭ পৃষ্ঠা, হাদিস নং ১৪;

সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি ) বলেন — একদিন সালমান ফারসী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন।

তাদের একজন অপরজনকে বললেন, “যদি আমি আপনারর আগে ইন্তেকাল হয়ে যাই, তবে আপনি আমার কাছে এসে সাক্ষাৎ করে জানাবেন আপনার র প্রতি আপনার প্রভু কেমন আচরণ করেছেন।

আর যদি আপনি আমার আগে ইন্তেকাল হয়ে যান, আমি আপনার সঙ্গে দেখা করে জানাবো।”

তখন আবদুল্লাহ ইবনে সালাম বললেন,

“হে আবা আবদিল্লাহ (সালমান), এটা কিভাবে সম্ভব? এমন কি হতে পারে?”

সালমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন,

“হ্যাঁ, অবশ্যই হয়। মুমিনদের রূহ (আত্মা) বরযখে জমিনে’  ইচ্ছেমতো চলাফেরা করতে পারে।”

পরে সালমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ইন্তেকাল করলেন আবদুল্লাহ  ইবনে সালাম তাঁকে স্বপ্নে দেখলেন। তখন সালমান ফারসি তাঁকে বললেন —“আমি তাওয়াক্কুল করার জন্য এর চেয়ে উত্তম আর কিছু দেখিনি।”

সূত্র: আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক, আয-যুহদ, হাদীস নং ৪২৮–৪২৯

ইমাম মালিক বিন আনাস বলেন “আমার কাছে পৌঁছেছে যে, মুমিনদের আত্মাগুলো মুক্ত থাকে, তারা যেখানে ইচ্ছা সেখানে যায়।”

সুত্র:- ইবনু আবদিল বার, আল-ইস্তিজকার, হাদিস নং ৫২৪;

হুজ্জাতুল মোহাদ্দেসীন ইমাম বোখারী উল্লেখ করেছেন, যখন হারিসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) শহিদ হলেন, তাঁর মা নবী ﷺ-এর কাছে এসে বললেন: “হে আল্লাহর রাসূল, আপনি তো জানেন হারিসা আমার কাছে কত প্রিয়।

যদি সে জান্নাতে থাকে, আমি ধৈর্য ধরব ও সওয়াবের আশায় থাকব; কিন্তু যদি অন্যরকম হয়, তাহলে আমি কী করব জানি না।”

নবী ﷺ বললেন: “হায়, তুমি কী বলছ! জান্নাত কি একটাই? অনেক জান্নাত আছে, আর নিশ্চয়ই তোমার পুত্র হারিসা ফিরদাউস জান্নাতে আছে।”

সুত্র: সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৭৬১;

অতএব আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পথে চলে যারা সফলতা লাভ করবে তাঁরা ইহকাল পরকালে সম্মানিত হবে। এমনকি স্বয়ং কবর তাদেরকে স্বাগতম জানাবে।

ইমাম তিরমিজি এই বিষয়ে একটি হাদিস এভাবে উল্লেখ করেছেন যে,

যখন কোনো মুমিন বান্দাকে কবর দেওয়া হয়, তখন কবর তাকে বলে —“স্বাগতম, তোমাকে স্বাগতম! তুমি তো ছিলে আমার পিঠের উপর হাঁটা-চলা করা লোকদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় একজন।

আজ তুমি আমার কাছে এসেছো, এখন দেখবে আমি তোমার সঙ্গে কেমন (উত্তম) আচরণ করি।” তারপর কবরটি তার জন্য দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত প্রসারিত হয়ে যায় এবং তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দেওয়া হয়।

সুত্র:- সুনান তিরমিজি, ৪/৬৩৯ পৃষ্ঠা, হাদিস নং ২৪৬০;

অতএব বিষয়টা পরিস্কার, ইন্তেকালের পর এবং কবর জগতে খাঁটি ঈমানদারদের ক্ষমতা শেষ হয়ে যায়না বরং বেড়ে যায়। মৃত্যু মুমিনের নতুন জীবনের সূচনা। কবরেও খাঁটি ঈমানদারদের সম্মান ও সাক্ষাৎ অব্যাহত থাকে।

তারা বরযখের জগতে একে অপরের সঙ্গে দেখা করে, কথা বলে, সালাম বিনিময় করে,

অতএব, আমাদের কর্তব্য হলো— ঈমান ও আমলে দৃঢ় থাকা, যাতে কবরও আমাদেরকে স্বাগত জানায় এবং জান্নাতের পথ খুলে যায়।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.