কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদে আলোচনার কেন্দ্রে নুরুল আলম সিকদার:
৩৭ বছরের রাজনৈতিক পথচলা, ত্যাগ-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতায় কর্মী-সমর্থকদের প্রত্যাশা:
নবজ্যোতি রিপোর্ট ডেস্কঃ
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতে এখন আলোচনার অন্যতম বিষয় কে হচ্ছেন উপজেলা বিএনপির পরবর্তী সভাপতি? সম্ভাব্য কমিটি গঠন নিয়ে যখন দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে নানা আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা চলছে, তখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত রাজনৈতিক নেতা নুরুল আলম সিকদারের নাম।
দলীয় নেতা-কর্মীদের একটি অংশ তাঁকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর অনুসারীদের অনেকেই এ দাবি তুলে বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্য করছেন।
রাজনীতির মাঠে নুরুল আলম সিকদার নতুন কোনো নাম নন। দীর্ঘ প্রায় ৩৭ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
মেধা, শ্রম, ত্যাগ, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে দলের একটি অংশের কাছে তিনি আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিত। ফলে উপজেলা বিএনপির নতুন কমিটি গঠনকে ঘিরে তাঁর নাম নিয়ে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
স্থানীয় দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নুরুল আলম সিকদার বর্তমানে নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। এর আগে তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এরও আগে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দুই দফা দায়িত্ব পালন করেন। পরে পরপর দুইবার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।
ছাত্রজীবনে ছিলেন সক্রিয় ও প্রভাবশালী ছাত্রনেতা। বসুরহাট সরকারি মুজিব কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
এ দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়েছেন নুরুল আলম সিকদার। দলীয় নেতা-কর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার হামলা-মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন তিনি।
গত ১৭ বছরে অর্ধশতাধিক মামলায় আসামি হয়েছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা দাবি করেন। এসব মামলার কারণে কারাভোগের পাশাপাশি এখনো আদালতের বারান্দায় তাঁকে নিয়মিত যেতে হয়। রাজনৈতিক বিরোধের জেরে অন্তত দশবার হামলার শিকার হওয়ার কথাও তাঁর অনুসারীরা উল্লেখ করেন।
কয়েকটি ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীনও ছিলেন তিনি।তবে এসব প্রতিকূলতা তাঁর রাজনৈতিক পথচলায় স্থায়ী বিরতি ঘটাতে পারেনি। বরং দলীয় কর্মসূচি ও আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁকে সক্রিয় দেখা গেছে বলে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানান।
বিএনপির কেন্দ্রীয় ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন এমনটাই দাবি তাঁর সমর্থকদের।
রাজনীতির পাশাপাশি নুরুল আলম সিকদার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। মুছাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তাঁর সমর্থকদের দাবি, জনপ্রতিনিধি থাকাকালে তিনি এলাকার অসহায় ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন।
নুরুল আলম সিকদারকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দেখতে চান,এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের কেউ কেউ।
তাঁদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ দলকে আরও সুসংগঠিত করতে ভূমিকা রাখতে পারে।বসুরহাটের সাবেক ছাত্রদল নেতা মিজানুর রহমান বলেন, “নুরুল আলম সিকদার বহুবার হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁকে রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায়নি। দলের প্রতি তাঁর আনুগত্য ও দীর্ঘদিনের ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হয়েছেন। আমরা এবার তাঁকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দেখতে চাই। তাঁর হাতে উপজেলা বিএনপি নিরাপদ থাকবে এবং দল আরও শক্তিশালী হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
”উপজেলা বিএনপির সাবেক নেতা জামাল উদ্দিন বলেন, “নুরুল আলম সিকদার সভাপতি হলে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে। দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতা হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। দলের জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন
এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”তবে সভাপতি পদে কে আসছেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসেনি।
ফলে নুরুল আলম সিকদারের নাম নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা আপাতত দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কমিটি ঘোষণার আগে এ নিয়ে আরও নানা হিসাব-নিকাশ ও আলোচনা হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত রোববার সকালে জাতীয় অনলাইন সংবাদ সংস্থা এফএনএসের এই প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপকালে নুরুল আলম সিকদার তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে বলেন, “আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সৈনিক হিসেবে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য রাজনীতি করছি।
উপজেলা নেতৃবৃন্দের পাশে যে কোনো পরিস্থিতিতে আগেও ছিলাম, সামনেও থাকব।”জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজের ভূমিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালে আমি কারও ক্ষতি করিনি,বরং অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করেছি।
”সভাপতি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মহান আল্লাহর রহমতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি হওয়ার সুযোগ পেলে দলকে আরও সুসংগঠিত করার চেষ্টা করবেন। পাশাপাশি দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সব মিলিয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সম্ভাব্য নতুন কমিটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। সেই আলোচনায় নুরুল আলম সিকদারের নাম যে বেশ জোরেশোরেই উচ্চারিত হচ্ছে, তা স্পষ্ট। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এবং সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা সবকিছু মিলিয়ে তাঁর সমর্থকদের প্রত্যাশা, এবার উপজেলা বিএনপির নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাঁর কাঁধেই আসুক।
তবে শেষ পর্যন্ত দলের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত এবং জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নতুন নেতৃত্বে কার নাম লেখা হবে। সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় এখন তাকিয়ে আছে দলের তৃণমূল থেকে শুরু করে কোম্পানীগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গন।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment