কোম্পানীগঞ্জে সংঘবদ্ধ চক্রের হাতে উজাড় হচ্ছে কৃষিজমি:
রমজান আলী রানা। কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী):
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সংঘবদ্ধ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে নির্বিচারে কৃষিজমির মাটি কেটে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, রাতের আঁধারে চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে তা বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে।এর ফলে পরিবেশ,কৃষি উৎপাদন ও জনবসতিতে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে বুধবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বামনী নদীর তীরবর্তী এলাকায় প্রকাশ্যে মাটি কাটার কার্যক্রম চলতে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও একাধিক সূত্র জানায়, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে এ অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অভিযোগ রয়েছে, সংঘবদ্ধভাবে মাটি উত্তোলনের মাধ্যমে তারা বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সিন্ডিকেট টি চরাঞ্চলের ভূমির মালিকদের নাম মাত্র অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে দু’ফসলি কৃষিজমির মাটি কেটে নিচ্ছে।এতে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং অনেক জমি স্থায়ীভাবে ডোবা ও নালায় পরিণত হচ্ছে।ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকেরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
বামনী নদীর তীরবর্তী এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটার কারণে নদীভাঙনের ঝুঁকি বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।তাদের আশঙ্কা, এভাবে মাটি উত্তোলন অব্যাহত থাকলে ফসলি জমি, বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী মাটি ব্যবসায়ীদের ভয়ে ভূমির মালিক ও সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানাতে সাহস পাচ্ছেন না।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা জানান, দিনে-দুপুরে মাটি কাটার পাশাপাশি প্রতিদিন রাত ৮টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত এস্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুদুর রহমান জানান, মাটি কাটার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment