মানবতার আলো ছড়িয়ে বন্ধু মহল স্পোর্টিং ক্লাবের মহৎ উদ্যোগ:
নব জ্যোতি অনলাইন ডেস্ক:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরপার্বতী এলাকার তরুণদের উদ্যোগে গঠিত বন্ধু মহল স্পোর্টিং ক্লাব আজ সমাজে এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছে।
খেলাধুলার পাশাপাশি মানবতার সেবায়ও ক্লাবটি গড়ে তুলছে এক নতুন দৃষ্টান্ত। সম্প্রতি ক্লাবের উদ্যোগে দরিদ্র ও মৌলবি বাজার ওবায়দিয়া মাদরাসার ১৫০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে পোশাক বিতরণ, করেছে।
এছাড়াও অটোরিকশা প্রদান, ঘর নির্মাণসহ একাধিক মানবিক কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে, যা স্থানীয়দের হৃদয় স্পর্শ করেছে।
মানবিক এই উদ্যোগের নেতৃত্বে আছেন ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা, আমেরিকা প্রবাসী নুরুল ইসলাম তোহা। তিনি শুধু আর্থিক অনুদানেই নয়,
বরং সমাজের দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তাঁর অনুদানে এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী যুবক সোহেল যিনি চরপার্বতীর ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা
এবং অটোচালক রহমতের পুত্র রাহাত পেয়েছেন একটি নতুন অটোরিকশা, যার মূল্য প্রায় এক লাখ পঁচিশ হাজার টাকা।
রাহাতের পরিবারের মুখে আজ হাসি ফুটেছে, জীবনের চাকা যেন নতুন করে ঘুরতে শুরু করেছে।এছাড়াও চরপার্বতী মৌলভীবাজার সংলগ্ন এলাকার দৃষ্টি হারা সোহেল,
একই ওয়ার্ডের নুরুল হকের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছেলে শেখ ফরিদ ও মাহবুবুল হকের মেয়ে জোহরা বেগম এ তিনজনের জন্য তৈরি করা হয়েছে নতুন ঘর। তিনটি ঘর নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় দশ লাখ টাকা।
এই সহায়তা যেন তাঁদের জীবনে আশার আলো এনে দিয়েছে। বৃষ্টি, ঝড় কিংবা শীতের রাতে আর কষ্টে দিন কাটাতে হবে না তাঁদের।ক্লাবের সভাপতি সালাউদ্দিন রাফি, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত রাজু, এবং
কোষাধ্যক্ষ ইব্রাহিম বিন সজিব বলেন,
বন্ধু মহল স্পোর্টিং ক্লাব শুধু খেলাধুলা নয়, সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায়।
আমাদের প্রবাসী উপদেষ্টা নুরুল ইসলাম তোহা ভাইয়ের সহযোগিতায় আমরা মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর চেষ্টা করছি। ক্লাবটির আরো দুটি ঘর
নির্মাণের কাজ চলছে, যা অদূর ভবিষ্যতে সম্পন্ন হবে। এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে বন্ধুমহল স্পোর্টিং ক্লাব প্রমাণ করেছে খেলাধুলার মাঠে যেমন তারা
প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে, তেমনি মানবতার মাঠেও তারা জিতছে মানুষের ভালোবাসা।
খেলাধুলায়ও ক্লাবটির রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য। স্থানীয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় একবার চ্যাম্পিয়ন ও
একবার রানার্সআপ হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছে। খেলোয়াড়দের নিষ্ঠা, দলগত মনোভাব ও অনুশাসন এই ক্লাবকে এলাকার তরুণদের কাছে অনুপ্রেরণার
প্রতীক করে তুলেছে।ক্লাবের সদস্যরা জানান, তারা এখন সমাজ সেবামূলক কর্মকাণ্ডের পরিধি আরও বাড়াতে চান। এজন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ও নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন)
পাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। নিবন্ধন পেলে ক্লাবটি আরও সংগঠিতভাবে সমাজ উন্নয়ন, শিক্ষা সহায়তা, চিকিৎসা সেবা ও দরিদ্র মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে।
প্রধান উপদেষ্টা নুরুল ইসলাম তোহা যুক্তরাষ্ট্রে থেকেও নিয়মিতভাবে ক্লাবের কার্যক্রমের খবর রাখেন। তিনি বলেন,আমি জন্মভূমিকে ভুলিনি। আমার স্বপ্ন বন্ধু মহল স্পোর্টিং ক্লাব একদিন সমাজ পরিবর্তনের
আলোকবর্তিকা হবে। যারা কষ্টে আছে, তাদের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় কাজ। এই উদ্যোগ চলমান থাকবে।এই ক্লাবের তরুণ সদস্যরা দিন রাত পরিশ্রম করে চলেছেন। তারা দরিদ্র পরিবারের ঘরে ঘরে গিয়ে
খোঁজ নিচ্ছেন কে বিপদে, কে সাহায্য চায়। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করছেন, আবার সমাজের সামর্থ্যবানদের কাছেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
এলাকার মানুষজন বলেন, এই ক্লাবের কর্মকাণ্ড
তাঁদের জীবনে আশার আলো জ্বালিয়েছে। অন্ধ সোহেল বলেন, আগে ঘর ছিল না, এখন তোহা ভাই ঘর বানিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ উনাকে ভালো রাখুক।
মানবতার এমন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আজ অনেক তরুণের মনে অনুপ্রেরণা জাগিয়েছে। খেলাধুলা থেকে শুরু
করে সামাজিক সেবায় নিজেদের সম্পৃক্ত করা এটি এক নতুন ধারা, এক নতুন চিন্তা।বন্ধু মহল স্পোর্টিং ক্লাব প্রমাণ করেছে, সামান্য চেষ্টাও যদি সৎ উদ্দেশ্যে হয়, তবে তা সমাজে বিশাল পরিবর্তন আনতে পারে।
তাদের কর্মকাণ্ডে ফুটে উঠছে এক আলোকিত প্রজন্মের প্রতিচ্ছবি যারা সমাজে মানবতার মশাল জ্বালাতে চায়।শেষে ক্লাবের সভাপতি সালাউদ্দিন রাফি বলেন আমরা বিশ্বাস করি, প্রকৃত বিজয় ট্রফিতে
নয়, মানুষের দোয়ায়। আমাদের লক্ষ্য খেলাধুলার সঙ্গে মানবতার জয়।চরপার্বতীর আকাশে তাই আজ ধ্বনিত হচ্ছে একটাই বার্তা,খেলায় শৃঙ্খলা, সেবায় মানবতা এটাই বন্ধু মহল স্পোর্টিং ক্লাবের বর্তমান অঙ্গীকার।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment