ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : কোম্পানীগঞ্জে আছিয়া কারম্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ ও সিসিটিভি ক্যামেরার উদ্বোধন কাঁটাতারের ফাঁদ । মোহাম্মদ কুতুবউদ্দিন । নোয়াখালী-৫ উন্নয়নের পথে সিঙ্গাপুর, নাকি বাস্তবতায় ক্যামেরুন? কবি মুঃ ইব্রাহিম খলিল জসিমের এক গুচ্ছ কবিতা। ধর্ষণ বাড়ছে;আমরা কি শুধু অপরাধীর শাস্তিই চাই? ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল কবিরহাটের আবু বক্করের কোম্পানীগঞ্জে নেশাগ্রস্ত স্বামী কারাগারে, গৃহবধূ ফিরলেন আপন ঠিকানায় কোম্পানীগঞ্জে ডেঙ্গু: দায় কার, প্রতিরোধে ঘাটতি কোথায়? নোয়াখালীতে সাক্ষরতার হার ৭৫.৫২ শতাংশ চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন মনিরুল ইসলাম বকুল

নোয়াখালী-৫ উন্নয়নের পথে সিঙ্গাপুর, নাকি বাস্তবতায় ক্যামেরুন?

নোয়াখালী-৫ উন্নয়নের পথে সিঙ্গাপুর, নাকি বাস্তবতায় ক্যামেরুন?

নোয়াখালী-৫ উন্নয়নের পথে সিঙ্গাপুর, নাকি বাস্তবতায় ক্যামেরুন?

"প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি, বাস্তবতায় চাঁদাবাজি, অবৈধ বালু পরিবহন, ডেঙ্গু ও জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন"

শাহাদাত হোসেন

বার্তা সম্পাদক

নব জ্যোতি:

নির্বাচনের সময় মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে উন্নয়ন, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও সুশাসনের নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। বলা হয়, নির্বাচিত হলে চাঁদাবাজি বন্ধ করা হবে, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা হবে, অবৈধ বালুবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ করা হবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য নিশ্চিত করা হবে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। কখনো কখনো নির্বাচনী এলাকাকে আধুনিক ও উন্নত নগরীর আদলে গড়ে তোলার স্বপ্নও দেখানো হয়, কেউ কেউ দেন ‘সিঙ্গাপুরের মতো’ উন্নত এলাকার প্রতিশ্রুতি।

কিন্তু নির্বাচনের পর সেই প্রতিশ্রুতির কতটুকু বাস্তবে রূপ নিচ্ছে এখন সেটিই বড় প্রশ্ন।

নোয়াখালী-৫ আসন কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলা এবং নোয়াখালী সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ও নেয়াজপুর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। বিস্তীর্ণ এই এলাকার মানুষের প্রত্যাশাও অনেক। উন্নয়ন ও যোগাযোগব্যবস্থার পাশাপাশি তারা চান নিরাপদ পরিবেশ, কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা, অপরাধমুক্ত সমাজ এবং স্বাভাবিক নাগরিক জীবন।

তবে স্থানীয় মানুষের অভিযোগ ও বিভিন্ন মহলের আলোচনায় উঠে আসছে উদ্বেগজনক কিছু বিষয়। চাঁদাবাজি, চুরি-ডাকাতি, সন্ত্রাস, অবৈধ বালু পরিবহন এবং জনস্বাস্থ্য নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েও রয়েছে মানুষের কৌতূহল।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ:

জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মানুষ অসুস্থ হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে মশা নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জলাবদ্ধতা নিরসন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ কতটা দৃশ্যমান এ প্রশ্নও তুলছেন সাধারণ মানুষ।

আর ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর জন্য প্রয়োজন নিয়মিত মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ।

চুরি-ডাকাতি ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন:

একই সঙ্গে চুরি-ডাকাতি ও অপরাধের অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। কোনো এলাকায় অপরাধের ঘটনা ঘটলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করছে?

নির্বাচনের আগে যদি ‘সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা’ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে নির্বাচনের পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার দৃশ্যমান হিসাব জনগণের সামনে থাকা প্রয়োজন।

জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব নয়; এর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বও জড়িত। ফলে অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি থাকাটাই স্বাভাবিক।

অবৈধ বালু পরিবহন কার স্বার্থে?

নোয়াখালী-৫ আসনের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বালুবাহী ট্রাক চলাচল নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা অভিযোগ রয়েছে।

যদি কোথাও অনুমোদন ছাড়া বালু উত্তোলন বা পরিবহন হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য, নদী ও খাল রক্ষা, কৃষিজমি, সড়কের ক্ষতি এবং জনদুর্ভোগের মতো বিষয় জড়িত।

বিশেষ করে অতিরিক্ত ওজনের বালুবাহী ট্রাক চলাচল করলে সড়কের স্থায়িত্ব নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। ফলে এ বিষয়ে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও আইনানুগ ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা:

নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতার তুলনা করতেই জনগণের সামনে কয়েকটি সরল প্রশ্ন দাঁড়ায়।

যদি বলা হয়ে থাকে চাঁদাবাজি বন্ধ করা হবে, তাহলে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠলে তদন্ত ও ব্যবস্থা কোথায়?

যদি বলা হয়ে থাকে এলাকাকে সন্ত্রাসমুক্ত করা হবে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ কেন থাকবে?

যদি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় আরও দৃশ্যমান উদ্যোগ প্রয়োজন কি না?

আর যদি নির্বাচনী এলাকাকে ‘সিঙ্গাপুরের মতো’ করে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখানো হয়, তাহলে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ হিসেবে নাগরিকের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, আইনের শাসন ও মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে কি?

সিঙ্গাপুরের স্বপ্ন, নাকি ক্যামেরুনের বাস্তবতা?

‘সিঙ্গাপুরের মতো’ উন্নত এলাকা গড়ার স্বপ্ন নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়। কিন্তু উন্নয়ন কেবল নতুন রাস্তা, সেতু, ভবন কিংবা বড় প্রকল্পের নাম নয়।

একটি উন্নত এলাকার প্রকৃত চিত্র ফুটে ওঠে নাগরিক নিরাপত্তা, আইনের শাসন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন এবং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হওয়ার মধ্য দিয়ে।

সেই জায়গা থেকেই নোয়াখালী-৫ আসনের মানুষের প্রশ্ন তারা কি সত্যিই একটি আধুনিক, নিরাপদ ও পরিকল্পিত নির্বাচনী এলাকা দেখতে যাচ্ছে, নাকি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ব্যবধান আরও দীর্ঘ হবে?

এখন প্রয়োজন দৃশ্যমান পদক্ষেপ:

জনগণ এখন শুধু প্রতিশ্রুতি শুনতে চায় না। তারা দেখতে চায় বাস্তব কাজ।

চাঁদাবাজি ও অপরাধের অভিযোগের বিরুদ্ধে কার্যকর তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা, অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধে অভিযান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর কর্মসূচি, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ এসব বিষয়ে জনগণ দৃশ্যমান পরিবর্তন প্রত্যাশা করছে।

তবে এসব অভিযোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত।

শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতির মূল্যায়ন করবে জনগণই। তাই জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা স্পষ্ট।

স্লোগান নয়, প্রতিশ্রুতি নয়; এখন প্রয়োজন দৃশ্যমান বাস্তব কাজ।

নোয়াখালী-৫ আসনকে যদি সত্যিই ‘সিঙ্গাপুরের মতো’ আধুনিক ও উন্নত এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য থাকে, তাহলে সেই যাত্রার প্রথম শর্ত হতে হবে "জনগণের নিরাপত্তা, সুশাসন, আইনের শাসন এবং মৌলিক নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা"।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.