কোম্পানীগঞ্জে নেশাগ্রস্ত স্বামী কারাগারে, গৃহবধূ ফিরলেন আপন ঠিকানায়
এম.জি. বাবর, নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে জহির নামে এক ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ কোহিনুর বর্তমানে তার বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে কোম্পানীগঞ্জের দুর্গম চরকলমী এলাকার হযরত আলীর মেয়ে কোহিনুরের সঙ্গে পাশ্ববর্তী এলাকার জহির ড্রাইভারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রায় দুই বছর তাদের সংসার মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তীতে জহির মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। এরপর বিভিন্ন অজুহাতে স্ত্রীকে নির্যাতন করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
কোহিনুরের বাবা হযরত আলী জানান, মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে তিনি প্রায় সাড়ে ১০ হাজার টাকা, একটি বসতঘর এবং এক একর জমি কিনে দিয়ে মেয়েকে সংসারে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এত কিছুর পরও মেয়ের সংসারে সুখ আসেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তাদের সংসারে জাকিয়া ও কিশোরী জান্নাত নামে দুই কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। এরই মধ্যে জহির একাধিক বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েক মাস আগে ময়না বেগম নামে আরেক নারীকে তিনি ঘরে তোলেন। এ নিয়ে কোহিনুরের সঙ্গে ঝগড়ার একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয় এবং এতে তার ডান পা ভেঙে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্বামীর নির্যাতনের বিচার চেয়ে কোহিনুর নোয়াখালীর আদালতে নারী নির্যাতনের মামলা দায়ের করেন। মামলার পর তাকে শিশু সন্তানসহ ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
বর্তমানে নির্যাতিত গৃহবধূ কোহিনুর বিচারের আশায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। বিষয়টি জানার পর কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জহিরের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment