সংগ্রামী নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি মোঃ নুর আলম মামুন:
ইউপি সদস্য মোঃ নুর আলম মামুনের জীবন, দর্শন ও রাজনৈতিক অভিযাত্রা:
নব জ্যোতি ফিচার ডেস্ক:
জীবনের প্রতিটি মানুষেরই একটি গল্প থাকে। কারও গল্প সাফল্যের, কারও সংগ্রামের, আবার কারও গল্প ত্যাগ ও জনসেবার।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরপার্বতী ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি মোঃ নুর আলম মামুন-এর জীবনকাহিনী তেমনি এক সংগ্রাম, আদর্শ ও মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগের গল্প।
মোঃ নুর আলম মামুনের জন্ম একটি সম্ভ্রান্ত ও ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন পরিবারে। তাঁর পিতা মরহুম মোঃ নুর করিম এবং মাতা দেলোয়ারা বেগম। তিনি উচিম উদ্দিন হাজী বাড়ির সন্তান।
শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী, দায়িত্বশীল ও সমাজসচেতন।তাঁর শিক্ষাজীবনের সূচনা হয় প্রথম - তৃতীয় শ্রেনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চরপার্বতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন।
মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন মেহেরুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা লাভ করেন বসুরহাট সরকারি কলেজ থেকে।
এরপর "ব্যবস্থাপনা" বিষয়ে অনার্স শেষ বর্ষে অধ্যয়নরত অবস্থায় জীবিকার প্রয়োজনে সৌদি আরব পাড়ি জমান।ছাত্রজীবন থেকেই তিনি আদর্শিক রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
২০০২ সালে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে কোম্পানীগঞ্জ থানা ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। সংগঠনের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বিদেশে গেলেও রাজনৈতিক আদর্শ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়নি।
রাজনৈতিক জীবনে নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে পথ চলতে হয়েছে তাঁকে। ছাত্রজীবনে একবার এবং সৌদি আরবে অবস্থানকালে আরেকবার রাজনৈতিক মামলায় কারাবরণ করতে হয়।
জীবনের এই কঠিন অভিজ্ঞতাগুলো তাঁকে ভেঙে না দিয়ে বরং আরও দৃঢ় ও সাহসী করে তোলে। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, মামলা ও হয়রানির মধ্যেও তিনি তাঁর আদর্শিক অবস্থান থেকে সরে আসেননি।
বর্তমানে তিনি চরপার্বতী ইউনিয়ন জামায়াতের প্রচার সম্পাদক এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ইউনিয়ন যুব বিভাগের সভাপতির দায়িত্বও সফলতার সঙ্গে পালন করেছেন।
রাজনৈতিক কর্মী থেকে জনপ্রতিনিধি হয়ে ওঠার এই যাত্রা ছিল দীর্ঘ ও সংগ্রামময়।২০২২ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করেন এবং বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচিত হন।
তবে নির্বাচনের আগে ও পরে তাঁকে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে হামলা, মামলা এবং প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অংশ হয়ে ওঠে।
বিশেষ করে বোর্ড অফিসসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক মামলার আসামি হতে হয়েছে তাঁকে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পূর্ব পর্যন্ত প্রায় চারটি মামলায় জড়ানোর পাশাপাশি পুলিশি হয়রানিও ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা।
ব্যক্তিজীবনে মোঃ নুর আলম মামুন একজন পারিবারিক মানুষ। তিনি এক পুত্র ও দুই কন্যা সন্তানের জনক। পিতাকে হারালেও তাঁর মা এখনও জীবিত আছেন এবং পরিবারের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি মনে করেন, রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
তাঁর বিশ্বাস, নেতৃত্ব মানে ক্ষমতা ভোগ নয়,বরং জনগণের আস্থা ও দায়িত্বকে সম্মান করা।সংগ্রাম, ত্যাগ, আদর্শ ও জনসেবার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা মোঃ নুর আলম মামুনের জীবন এক অনন্য উদাহরণ।
নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর প্রতিষ্ঠা প্রমাণ করে-অধ্যবসায়, সততা ও দৃঢ় সংকল্প থাকলে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। ভবিষ্যতেও তিনি এলাকার উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন-এমন প্রত্যাশাই এলাকাবাসীর।
"মানুষের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি, আর জনসেবাই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য"এই দর্শনকে ধারণ করেই এগিয়ে চলেছেন ইউপি সদস্য মোঃ নুর আলম মামুন।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment