ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : 'পশ্চিমা শক্তির কাছে খোমেনীর ইরান মাথা নত করেনি করবে না' দাগনভূঞায় ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ উদ্যোগে শীতার্ত পরিবারে মাঝে কম্বল বিতরণ: জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা রাজনৈতিক ফিলোসফি ও সংঘটনের অভ্যন্তরীণ আদর্শিক অবকাঠামো পরিবর্তন : 'সাদা অ্যাপ্রনের নীরব আলো' 'আলোর পথে চিকিৎসক ফরিদুল ইসলামের জীবনযাত্রা' 'শতবর্ষী তাকিয়া জামে মসজিদের নিচ তলায় মার্কেট নির্মানের চেষ্টা' দাগনভূঞায় সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১ আহত ৬: জাতীয় সড়ক যোদ্ধা পুরস্কারে ভূষিত দাগনভূঞার সাংবাদিক সোহেল: নির্বাচন কমিশনের যাচাইয়ে উত্তীর্ণ জামায়াত প্রার্থী নোয়াখালী-৫ এ উৎসবমুখর পরিবেশ : গণতন্ত্র রক্ষায় বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অবিস্মরনীয়' কোম্পানীগঞ্জে মোঃ ফখরুল ইসলাম :

সোহাগ পাটোয়ারী জেল,জুলুম,নির্যাতন পেরিয়ে রাজপথের এক অগ্নিযোদ্ধার গল্প :

সোহাগ পাটোয়ারী জেল,জুলুম,নির্যাতন পেরিয়ে রাজপথের এক অগ্নিযোদ্ধার গল্প :

সোহাগ পাটোয়ারী জেল,জুলুম,নির্যাতন পেরিয়ে রাজপথের এক অগ্নিযোদ্ধার গল্প :

নব জ্যোতি ফিচার ডেস্ক:

সংগ্রাম, ত্যাগ, জেল জুলুম আর অদম্য সাহস এই চারটি শব্দই যেন একত্রে মিলে তৈরি করেছে,

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ৭ নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের রাজা রামপুর গ্রামের ২ নং ওয়ার্ডের এক রাজপথ মানব সোহাগ পাটোয়ারীর পরিচয়।

সাধারণ পরিবারের সন্তান হয়েও তিনি আজ হয়ে উঠেছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অগ্নি প্রতিম প্রতীক।

পিতা আবুল হাশেমের সংগ্রামময় জীবনের মাঝে বড় হওয়া সোহাগের শৈশব ছিল সাধারণ, কিন্তু তার স্বপ্ন ছিল অসাধারণ।

মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অদম্য আকাঙ্ক্ষাই তাকে রাজনীতির পথে নিয়ে আসে। বয়স মাত্র ৩৪, কিন্তু তার জীবন খাতায় অভিজ্ঞতার বোঝা অনেক ভারী

জেল, মামলা, হামলা, পলায়ন, আন্দোলন, সংগ্রাম সব মিলিয়ে এক অগ্নিযোদ্ধার পূর্ণাঙ্গ জীবনচিত্র।

২০০১ সাল। চারদিকে রাজনৈতিক টানাপোড়েন, অস্থিরতা, সংঘর্ষ। ঠিক সেই সময় ছাত্রদলের রাজনীতিতে নিজেকে যুক্ত করেন সোহাগ পাটোয়ারী।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই তার প্রথম ও প্রধান প্রেরণা। রাজনীতিতে তার পরিবারিক কোনো ঐতিহ্য ছিল না, কিন্তু ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো যেন তার জন্মগত সাহস।

২০০৫ সালে তিনি নির্বাচিত হন ২ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি। এখান থেকেই শুরু হয় নেতৃত্বের প্রথম পাঠ সাহস,

সংগঠন, দায়িত্ববোধ আর ত্যাগের দৃঢ় প্রশিক্ষণ।তার রাজনীতি কখনো পদ পদবীর খেলা ছিল না; ছিল মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার।

ছাত্রজীবন শেষে থেমে যাননি তিনি। বরং আরো সক্রিয়, আরো দৃঢ় হয়ে রাজনৈতিক সাহসিকতা দেখিয়েছেন।

তিনি দু’দুবার নির্বাচিত হন মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদলের প্রচার সম্পাদক এবং দায়িত্ব পালন করেন ২০১৩ সাল পর্যন্ত।

এই সময়ে নোয়াখালীর রাজনৈতিক অস্থিরতা যখন তুঙ্গে, তখন বড় বড় নেতাদের সঙ্গে একই মামলার আসামি হয়েছেন সোহাগ।

রাজপথের প্রতিটি লড়াই তিনি ভাগ করে নিয়েছেন নেতাকর্মীদের সঙ্গে।তার বিরুদ্ধে হয়েছে ১৪টি মামলা, আর ১২ বার কারাবরণ করেছেন তিনি।

কারাগারের দেয়াল তার মনোবল ভাঙেনি; বরং তার ভেতরের রাজনৈতিক ইস্পাত আরও শক্ত হয়েছে।

৭ বছর এলাকা ছাড়া পরবাসের অন্ধকার দিনগুলো

রাজনীতির ভয়াবহ চাপ, হামলা, নির্যাতন আর গুম, খুনের আতঙ্ক তাকে বাধ্য করে এলাকা ছাড়তে।

তিনি টানা ৭ বছর নিজের গ্রামে ফিরতে পারেননি।

দূর শহরের ভাড়া বাসায় পরবাসের প্রতিটি রাত ছিল ক্ষতবিক্ষত স্মৃতির পাহাড় ,

মায়ের মুখ, ভাইবোনের হাসি, গ্রামের মসজিদের আজান, শৈশবের মাঠ সবই যেন তার কাছে নিষিদ্ধ স্মৃতি।

তার অনুপস্থিতিতে তার পরিবারের গায়ের ঘাম ঝরানো প্রায় ২ কোটি টাকার সম্পদ লুট হামলা নির্যাতনে ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু তবুও তিনি থামেননি।

সোহাগকে প্রায়ই বলতে শোনা যায়,ভাই, জীবন দিয়ে রাজনীতি করি। ভয়কে ভয় করি না। মানুষের অধিকার আর গণতন্ত্রের জন্য আমি সব হারাতে প্রস্তুত।

সোহাগ পাটোয়ারী ৫ ভাই ও ৩ বোন। কিন্তু পরিবারের আনন্দ তার জীবনে ছিল না বললেই চলে। বোনের বিয়ের দিনও থাকতে পারেননি তিনি।

কোনো অনুষ্ঠান, কোনো উৎসব তার জন্য ছিল রাজপথের ধুলোয় হারিয়ে যাওয়া ক্ষণ। কারণ তখন তিনি হয় ছিলেন রাজপথে, নয় লুকিয়ে, নয়তো কারাগারের সেলে।

১৩ নভেম্বর আবারও গ্রেফতার হন তিনি।

নব জ্যোতির প্রতিবেদককে সোহাগ বলেন,

জেল,জুলুম আমার জন্য নতুন কিছু না। মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হলে আরো দশ বার গেলেও আমি প্রস্তুত।

তার চোখে ভয় নেই। আছে জেদ, আছে বিশ্বাস

সত্যের পথে থাকলে জেলখানা কখনো পরাজিত করতে পারে না।

বিএনপির নেতা জয়নাল আবেদীন ফারুক তার রাজনৈতিক অনুপ্রেরণা। সোহাগ পাটোয়ারীর রাজনৈতিক আদর্শের মূল কেন্দ্রবিন্দু নোয়াখালী-১ ও ২ আসনের বিএনপির সাবেক এমপি, বর্তমানে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জননেতা জয়নাল আবেদীন ফারুক।

নেতার সাহসী উচ্চারণ, সংগ্রামমুখী চরিত্র, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে তার অদম্য প্রতিবাদ এসবই সোহাগকে করেছে আরও দৃঢ়, আরও অগ্নিসংগ্রামী।

তিনি বিশ্বাস করেন,নেতা ফারুক সাহেব গণমানুষের প্রকৃত কণ্ঠস্বর। তার রাজনীতি ন্যায় ও সাহসের রাজনীতি। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের রোষানলে এক রাজপথ যোদ্ধা।

বছরের পর বছর সোহাগ পাটোয়ারী রাজনৈতিক নির্যাতনের চরম শিকার হয়েছেন।আওয়ামী লীগের রাজনীতির রোষানলে বারবার আক্রান্ত হয়েছেন তিনি।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সন্ত্রাসী বাহিনী, দলীয় ক্যাডার ও প্রশাসনের যৌথ নির্যাতন তাকে বারবার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিল।

হামলা, মামলা, লুট, জেল, হয়রানি সবই সহ্য করতে হয়েছে তাকে, শুধুমাত্র তিনি শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক বলে।কিন্তু কখনো পিছপা হননি তিনি।

তার বিশ্বাস শহীদ জিয়ার জাতীয়তাবাদী চেতনা অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্তির জ্বালানি।

রাজপথে অগ্নিযোদ্ধা যেখানে লড়াই, সেখানে সোহাগ।

হরতাল, বিক্ষোভ, সমাবেশ, মিছিল যেই ক্ষেত্রেই গণতন্ত্রের দাবি উঠে, সোহাগ ছিলেন সম্মুখ সারির যোদ্ধা।

রাজপথের গরম ইট, পাটকেল, লাঠি গুলির শব্দ বহুবার তার শরীর ক্ষতবিক্ষত করেছে। কিন্তু তার মনোবল কখনো টলেনি।

তার পরিচয় আজ সোহাগ পাটোয়ারী, যুবদলের অগ্নিযোদ্ধা।বর্তমানে তিনি স্বপ্ন দেখেন শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায় করতে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের,

শ্রমিক দলের সভাপতি হওয়ার।তার বিশ্বাস রাজনীতি মানে শ্রমিক, কৃষক, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

এই আদর্শ নিয়েই তিনি সংগঠনের নেতৃত্বে আসতে চান শ্রমিকের ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করতে।

আজও চলমান আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় তিনি।

আজও মামলার বোঝা, হয়রানি, জুলুম তাকে দমাতে পারে না।তার দৃঢ় বিশ্বাস একদিন দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবেই, মানুষ ফিরে পাবে তাদের অধিকার।

কারণ একজন সোহাগ পাটোয়ারী মানে ত্যাগের ইতিহাস। সংগ্রামের অগ্নিপথ,আর অসম্ভব সাহসের প্রতিচ্ছবি।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.