১৭-১৮ বছর পর কোম্পানীগঞ্জ থেকে বদলি ডা.শওকত আল ইমরান,স্বাস্থ্য খাতের ‘সিন্ডিকেট’ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন
শাহাদাত হোসেন
নব জ্যোতি ডেস্ক :
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ ১৭-১৮ বছর ধরে কর্মরত চিকিৎসক ডা. শওকত আল ইমরানকে অবশেষে বদলি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার পদে পদায়ন করা হয়েছে।
সোমবার(১২ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। আদেশ অনুযায়ী, বদলিকৃত চিকিৎসককে তিন কর্মদিবসের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। নির্ধারিত সময়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করলে তা অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ডা. শওকত আল ইমরান দীর্ঘ ১৭-১৮ বছর ধরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একই পদে কর্মরত রয়েছেন। তাঁর বাড়িও এ উপজেলায়। এ দীর্ঘ সময়ে একাধিকবার তাঁর বদলির আদেশ জারি হলেও চার থেকে পাঁচবার তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে অতীতে তাঁর বদলির আদেশ প্রত্যাহার করানো হয়েছিল। বিশেষ করে সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের আত্মীয়তার পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে।
দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে অবস্থান এবং একাধিকবার বদলির আদেশ প্রত্যাহারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোম্পানীগঞ্জের স্বাস্থ্য খাতে প্রভাবশালী একটি মহলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ। তাঁদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের সুযোগ বন্ধ করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করছেন, এবারের বদলির আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। ত
এখন স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার বিষয়, ডা. শওকত আল ইমরান এবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করবেন কি না। অতীতে তাঁর বদলির আদেশ প্রত্যাহারের যে দাবি স্থানীয় সূত্রে উঠে এসেছে, সেই প্রেক্ষাপটে এবারের আদেশ বাস্তবায়ন নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করবে এবং কোনো কর্মকর্তা দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নীতিমালা ও প্রশাসনিক বিধিবিধান অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করবে।
কোম্পানীগঞ্জের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে। ব্যক্তিবিশেষের প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ গড়ে তোলা এবং রোগীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment