আলেম-লেখক কাজী সিকান্দারের ইন্তেকাল:
নব জ্যোতি রিপোর্ট ডেস্ক:
বাংলাদেশ ইসলামি লেখক ফোরামের আইন ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক এবং ফেনী সাহিত্য ফোরামের সভাপতি, বিশিষ্ট আলেম-লেখক, গবেষক, সম্পাদক ও সংগঠক মাওলানা কাজী সিকান্দার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মঙ্গলবার ২৪ মার্চ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার গুলিয়াখালী এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। জানা যায়, ফেনী সাহিত্য ফোরামের আয়োজিত একটি আনন্দ ভ্রমণে অংশগ্রহণ করেন তিনি। ভ্রমণ চলাকালে দুপুরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে যান।
পরে দ্রুত তাকে সীতাকুণ্ড মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে লেখক, সম্পাদক, সাংবাদিকসহ সাহিত্য অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বাংলাদেশ ইসলামি লেখক ফোরামসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।
মাওলানা কাজী সিকান্দার ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। জীবদ্দশায় তিনি গল্প, উপন্যাস, কবিতা, গবেষণা, অনুবাদ ও পাঠ্যবইসহ নানা বিষয়ে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা ও সম্পাদনা করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে, মা (গল্পগ্রন্থ, ২০২০), সোনালী মেঘ (কবিতা সম্পাদনা, ২০২১), মানবতার কাব্য (২০২২), দ্যা কী অব লাভ (ভালোবাসার চাবি) (উপন্যাস, ২০২২), হুজুরের শ্যালিকা (ছদ্মনাম ‘আজনবী’, ২০২২), লেখক হওয়ার ব্যাকরণ (গবেষণা, ২০২৪), শিক্ষা, নারী শিক্ষা ও মহিলা মাদরাসা (২০২৪), কওমীর পতনধ্বনী: উত্তরণ ও আশার বাণী (২০২৪), রাসূল (সা.) প্রেমের সওগাত (২০২৫), উম্মুহাতুল মুমিনীন (অনুবাদ, ২০২৫), গ্রাম আমার মায়ের আঁচল (২০২৫)সহ আরও বহু গ্রন্থ।
এছাড়াও তিনি তাজবীদুল কুরআন, দ্বীনী তালীম, সহীহ দাওয়াত ও তাবলীগ, ইসলাহী কায়েদা, দারুল আরাবিইয়্যাহ, ক্যাপিটাল ইংলিশ, পুষ্পকলি, ইলম ও আলেম এবং ভোট ও নেতা নির্বাচনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেন।
তার সাহিত্যকর্মে দ্বীনি শিক্ষা, সমাজসংস্কার ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটেছে, যা তাকে একজন অনন্য লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
মরহুম মুফতী কাজী সিকান্দার শিবপুরের বাদামতলী এলাকার জামাল কাজী বাড়ির বাসিন্দা এবং মরহুম মোকলেসুর রহমানের ছোট ছেলে। আগামীকাল ২৫ মার্চ সকাল ৯টায় তার নিজ বাড়ির দরজায় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।
তার মৃত্যুতে সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও সর্বস্তরের মানুষ মহান আল্লাহর কাছে তার জান্নাতুল ফেরদাউস কামনা করেছেন।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment