ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : ১৭-১৮ বছর পর কোম্পানীগঞ্জ থেকে বদলি ডা.শওকত আল ইমরান,স্বাস্থ্য খাতের ‘সিন্ডিকেট’ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন শাহাদাত হোসেন সিরাজপুরে বিএনপির একক প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান এমপি ফখরুল ইসলামের চরহাজারীতে মেম্বার প্রার্থী ইমাম হোসেন সোহেলের পোস্টার ছিঁড়ল দুর্বৃত্তরা, স্থানীয়দের ক্ষোভ ৬৭ কোটি টাকার সেতুতে কাজের অগ্রগতি মাত্র ৪ শতাংশ, পরিদর্শনে এমপি ফখরুল ইসলাম দুর্গাপূজা ঘিরে কোম্পানীগঞ্জে নিরাপত্তা জোরদারসহ পৌরসভা জামায়াত আমীরের ১৪ দফা দাবি # আমি চাই সুন্দর আগামী# ---- মোহাম্মদ উল্যা মিরাজ----- কোম্পানীগঞ্জে শোকের ছায়া: শাহাজাদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সাইফুদ্দিন সেলিম আইনের ফাঁক, নাকি সামাজিক পতন? আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বশীলদের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন মুঃ ইব্রাহিম খলিল জসিমের পংক্তি মালা। থানারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা মানোন্নয়ন মতবিনিময় ও কার্যকরী কমিটির সভা

দুর্গাপূজা ঘিরে কোম্পানীগঞ্জে নিরাপত্তা জোরদারসহ পৌরসভা জামায়াত আমীরের ১৪ দফা দাবি

দুর্গাপূজা ঘিরে কোম্পানীগঞ্জে নিরাপত্তা জোরদারসহ পৌরসভা জামায়াত আমীরের  ১৪ দফা দাবি

দুর্গাপূজা ঘিরে কোম্পানীগঞ্জে নিরাপত্তা জোরদারসহ পৌরসভা জামায়াত আমীরের

১৪ দফা দাবি

মোহাম্মদ উল্যা

বিশেষ প্রতিনিধি

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে নিম্নোক্ত ১৪ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরা হলো—

১. প্রতিটি পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ:

প্রতিটি পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ, নিয়মিত পাহারা এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

২. ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িঘরের নিরাপত্তা জোরদার:

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িঘর এবং বসতিপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ও নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে।

৩. গুজব, উসকানি ও সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ:

কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে গুজব, ভুল তথ্য কিংবা উসকানির মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

৪. পূজামণ্ডপে যাতায়াতের সড়ক সংস্কার:

পূজামণ্ডপে যাতায়াতের অনুপযোগী সড়কগুলো দ্রুত মেরামত করতে হবে। বিশেষ করে কলেজপাড়ার সড়কটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৫. সরকারি বরাদ্দ ও মানসম্মত চাল নিশ্চিতকরণ:

প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য নির্ধারিত সরকারি বরাদ্দ, মানসম্মত চাল ও অন্যান্য সহায়তা যথাযথভাবে এবং সময়মতো প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

৬. মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম:

পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় মশা নিধনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

৭. স্বেচ্ছাসেবকদের পরিচয় নিশ্চিতকরণ:

প্রতিটি পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনকারী স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য নির্দিষ্ট পোশাক, পরিচয়পত্র অথবা সহজে শনাক্তযোগ্য পরিচিতিচিহ্নের ব্যবস্থা করতে হবে।

৮. নিরাপদ বিদ্যুৎ সংযোগ ও বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা:

সব পূজামণ্ডপে নিরাপদ বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জেনারেটর বা বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা ও উৎসবের কার্যক্রমে বিঘ্ন এড়ানো যায়।

৯. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত মোতায়েন:

উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন এবং নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা করতে হবে।

১০. গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন:

গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং সেগুলোর কার্যকর পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

১১. কিশোর গ্যাং ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ:

কিশোর গ্যাং, মাদকাসক্ত, অপরাধী ও যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের অনাকাঙ্ক্ষিত তৎপরতা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মণ্ডপ এলাকায় নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।

১২. রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মণ্ডপ পরিদর্শনে সমন্বিত রুটিন:

রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময়সূচি ও রুট সমন্বয় করে একটি সুশৃঙ্খল রুটিন তৈরি করতে হবে, যাতে অতিরিক্ত ভিড়, যানজট কিংবা নিরাপত্তাজনিত সমস্যা সৃষ্টি না হয়।

১৩. নামাজ ও পূজার সময়সূচির মধ্যে সমন্বয়:

নামাজের সময় এবং পূজার বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সময়সূচি পারস্পরিক আলোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমে সমন্বয় করতে হবে, যাতে সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় এবং সম্প্রীতি বজায় থাকে।

১৪. সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অংশগ্রহণে সমন্বিত বৈঠক:

পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটি, উপজেলা ও পৌর প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সমন্বিত বৈঠকের আয়োজন করতে হবে। বৈঠকে নিরাপত্তা পরিকল্পনা, দায়িত্ব বণ্টন, জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা ও সার্বিক করণীয় নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে হবে।

আমাদের প্রত্যাশা:

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে পালনের অধিকার রয়েছে। তাই দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের গুজব, উসকানি, অপ্রীতিকর ঘটনা কিংবা বিশৃঙ্খলা যেন সৃষ্টি না হয়, সে জন্য কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আগাম প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।

আমরা চাই, কোম্পানীগঞ্জে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হোক। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট থাকুক, সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় হোক।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.