জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা রাজনৈতিক ফিলোসফি ও সংঘটনের অভ্যন্তরীণ আদর্শিক অবকাঠামো পরিবর্তন :
মোহাম্মদ কুতুবউদ্দিন
কবি ও লেখক ।
১২.০১.২০২৬
নব জ্যোতি আর্টিকেল ডেস্ক:
সাম্প্রতিককালে দেশব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবির প্যানেল তথা বাংলাদেশ জামাতে ইসলামের নিরঙ্কুশ বিজয় এদেশের জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
জুলাই বিপ্লব পরবর্তী আকাংখা ও প্রত্যাশা ক্রমাগত চরম ধোঁয়াশায় আচ্ছন্ন হলেও ডাকসু চাকসু জাকসু রাকসু সহ অন্যান্য নির্বাচনের পদ্ধতি কৌশল ও ফলাফল বরাবরি অতীতের অন্য যেকোন সময় থেকে ব্যতিক্রম ঘটেছে তা দৃশ্যমান।
এক্ষেত্রে শিবির প্যানেল দীর্ঘসময় ধরে একটি সুশৃঙ্খল ও আদর্শিক নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে সর্বত্র এমন কিছু সৃষ্টিশীল ও ছাত্রবান্ধব কর্মকাণ্ড সংঘটিত করে আসতেছিলো যা ভোটার তথা ছাত্র-ছাত্রীদের মনেও চিন্তায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে বাধ্য করেছে, এটি শিবির প্যানেলের দীর্ঘ পরিকল্পনার আপৎকালীন একরকম সেরা বিজয় বলে মনে করা হয়।
তাছাড়া পূর্বের তুলনায় এবারের নির্বাচনে লেভেল ফিল্ডও ছিলো অনেকটাই ফেয়ার, পাশাপাশি ভোটারগণের ভোট দেয়ার পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা বহুলাংশে পূর্বের তুলনায় সুশৃঙ্খল ও বেটারমেন্ট ছিলো ।
ভোটারদের মধ্যে একরকম উচ্ছাস ও উল্লাস দৃশ্যত হয়েছে, কালো টাকার প্রভাব অথবা চোখ রাঙ্গানোর মতো অদৃশ্য শক্তির স্বভাবজাত কোন চরিত্র বা ঘটনা কোন মিডিয়ায় পরিলক্ষিত হয়নি।
এই নির্বাচনে পরাজিত হওয়া ছাত্রদলসহ অন্যান্য প্যানেল নেতৃবৃন্দের সময় হয়েছে তাদের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোগত দূর্বলতা ও হারের যথাযথ বিশ্লেষণের মাধ্যমে যথার্থ কারণ উদঘাটন করা।
সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী জাতীয় নির্বাচন খুব সন্নিকটে এসে দাঁড়িয়েছে ।এখনকার ভোটারদের মধ্যে অনেকাংশে তরুণ ও শিক্ষিত, যারা বুজতে সক্ষম কে বা কারা এদেশের অগ্রগতি ও দেশের সামষ্টিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার যোগ্যতা ও ইচ্ছা লালন করে ।
জুলাই বিপ্লবের পর এদেশের মানুষের চিন্তা ও আকাংখার পরিবর্তন ঘটেছে, জনগণ তথাকথিত গতানুগতিক কোন রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিকে তাদের মুল্যবান মেন্ডেট দিতে অবশ্যই ভাববে কারা দুর্নীতিপরায়ণ এবং লুটপাটের মানষিকতাপূর্ণ।
গত ৫৪ বছরের ইতিহাস ও বাস্তবতা এই প্রজন্ম এবং জনগণের কাছে সুস্প্রস্ট। মানুষ চায় তার ভোটের অধিকার, মৌলিক চাহিদার ন্যায্য অধিকার এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কাঠামো । যা বিগত সময়ে সরকার ব্যবস্থা ও পরিচালনায় অনেকটাই উপেক্ষমান ছিলো।
রাজনৈতিক ফিলোসফি ও সংঘটনের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো দুটোই পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।তথাকথিত ধারায় প্রাগৈতিহাসিক বিপন্ন হওয়া নিয়মে চললে সচেতন নাগরিক জবাবটা এভাবেই দিবে।
৫৪ বছরে কবে সুষ্ঠ নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে? হয়নি, হয়নি এবং হয়নি । এই সত্যকেই মিথ্যা দিয়ে ডেকে এতকাল নির্বাচন নামে প্রহসন করা হয়েছে । এদেশের সিংহভাগ মানুষের আচার কালচার রুচি চাহিদা কি তা শহীদ জিয়াউর রহমান যতটা বুঝেছিলেন ততটা এরপর খুব কম রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রকগণ-ই বুজতে সক্ষম হয়েছেন।
চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে হবে, হারের সঠিক তথ্য ক্লারিফাই করে তা উত্তরণের পথ খুঁজে বের করতে হবে।তথাকথিত অতীত কর্মকাণ্ডের মতো হারলেই অভিযোগ আর অন্যের উপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে চাইলে, অবস্থা অবস্থান দুটোই আরও নড়বড়ে হতে খুব বেশি সময় বাকি নেই।
সত্য সবাই মানতে চায় না বরং নির্বোধের মতো সস্তা ট্যাগ লাগিয়ে দিয়ে দায়িত্বের ইতি টেনে দেয়। এতোগুলো ইউনিভার্সিটির ইলেকশন এভাবে ভরাডুবি এবং বর্তমান জেন-জি এবং তরুণ ও নতুন প্রজন্ম কেন এই খোলামাঠে এতোসব বৃহৎ সংগঠনগুলোকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কিসের টানে কোন আদর্শের আলয় নিজেদের নিরাপদ আশ্রম ও ছায়া গুঁজতে চায় তা নিরীক্ষণ করে বের করার এখনি সময় ।
এটা স্প্রস্টই সত্য যে এদেশের জনগণ এবং জেন-জি একটি আদর্শ ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধের চেতনায় বিশ্বাসী ব্যক্তিকেই নিজেদের আগামীর নেতৃত্ব ও দায়িত্বভার তুলে দিতে চায় ।
সেক্ষেত্রে এদেশের আগামীর রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিক যারা হবেন বা যাদের সেই মনোবাসনা রয়েছে তাদের উচিত হবে এখন থেকে এই জাকসু ডাকসু চাকসু রাখসু সহ অন্যান্য নির্বাচন ও তার ফলাফল থেকে কার্যকরী শিক্ষা ও ভিন্ন কোন আদর্শিক নীতিমালা ও জনগণের পালস নির্ভর ইশতেহার প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের নিশ্চিত ওয়াদা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা।
জনগণের পালস নির্ভর কমিটমেন্ট না করলে বা সেই উপসর্গ না দেখাতে পারলে সে তথাকথিত যে কোন ব্যক্তি সংগঠন বা দল হোক না কেন, জনগণ এবং বর্তমান অধিকাংশ তরুণ ভোটার বা জেন-জি সে সব দল বা প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যান করবে সেটি অনুমেয় ।
গত অর্ধশত বছর যে চিন্তা দর্শন ও কাঠামোয় এদেশের রাজনীতি ও ক্ষমতার চরিত্র প্লাবিত হয়েছিল সেটি আর এবার পুনরাবৃত্তি ঘটার সম্ভাবনা নেই এবং সেই পরিবর্তনের পটভূমি অভ্যন্তরীণ এবং বৈশ্বিকভাবেও তা লক্ষণীয়।
যারা আগামী রাষ্ট্র পরিচালনা ও দেশ বিনির্মাণের চিন্তা করছেন তাদের চূড়ান্তভাবে নিজেদের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও জনবান্ধব সাংগঠনিক প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে একটি বাস্তবমুখী টেকসই ইশতেহার ঘোষণা ও বাস্তবায়নের কঠিন অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment