ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : 'পশ্চিমা শক্তির কাছে খোমেনীর ইরান মাথা নত করেনি করবে না' দাগনভূঞায় ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ উদ্যোগে শীতার্ত পরিবারে মাঝে কম্বল বিতরণ: জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা রাজনৈতিক ফিলোসফি ও সংঘটনের অভ্যন্তরীণ আদর্শিক অবকাঠামো পরিবর্তন : 'সাদা অ্যাপ্রনের নীরব আলো' 'আলোর পথে চিকিৎসক ফরিদুল ইসলামের জীবনযাত্রা' 'শতবর্ষী তাকিয়া জামে মসজিদের নিচ তলায় মার্কেট নির্মানের চেষ্টা' দাগনভূঞায় সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১ আহত ৬: জাতীয় সড়ক যোদ্ধা পুরস্কারে ভূষিত দাগনভূঞার সাংবাদিক সোহেল: নির্বাচন কমিশনের যাচাইয়ে উত্তীর্ণ জামায়াত প্রার্থী নোয়াখালী-৫ এ উৎসবমুখর পরিবেশ : গণতন্ত্র রক্ষায় বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অবিস্মরনীয়' কোম্পানীগঞ্জে মোঃ ফখরুল ইসলাম :

'পশ্চিমা শক্তির কাছে খোমেনীর ইরান মাথা নত করেনি করবে না'

'পশ্চিমা শক্তির কাছে খোমেনীর ইরান মাথা নত করেনি করবে না'

'পশ্চিমা শক্তির কাছে খোমেনীর ইরান মাথা নত করেনি করবে না'

মোহাম্মদ কুতুবউদ্দিন

কবি ও প্রাবন্ধিক।

ইরানের চলমান এই বিক্ষোভ মূলত পশ্চিমা শক্তি কর্তৃক পরিচালিত হচ্ছে । এটি আদৌ কোন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন নয়, বরং স্বৈরাচারী তকমা লাগিয়ে

এই পশ্চিমা আধিপত্যবাদি আগ্রাসন মূলত ইরানকে থ্রেট মুক্ত করে শক্তিশূন্য করার এটি দীর্ঘ পরিকল্পনার একটা পরিকল্পিত অংশ ।

পশ্চিমা শক্তি পৃথিবীতে আধিপত্যবাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিজেদের দেশে গণতন্ত্রের নামে একটি সিস্টেম চালু রেখে পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের প্রভাব প্রতিষ্ঠিত করার নামে মূলত সেই রাষ্ট্রের সামগ্রিক অবকাঠামো ভেঙ্গে তেল, খনিজ সম্পদ কর্তৃত্ববাদ লুটে নেয়ার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত জারি রেখেছে।

একাধিপত্য কায়েমের লক্ষ্যে পৃথিবীর কোন রাষ্ট্র বা মহাদেশকে পরাশক্তি হিসেবে তারা আদৌ সমর্থন করে না, এবং সেই সুযোগও তারা দিতে চায় না । এখানে মূলত একটা রাষ্টের কর্তৃত্ববাদ , ক্ষমতার নাটকীয় বিকেন্দ্রীকরণ, নারী অধিকার, মানবাধিকার সহ নানান ইস্যুয়েজম তৈরি করে তারা একটা রাষ্ট্রের উপর অতর্কিত হামলা পরিচালনা করে।

আমরা খুব বেশি দূর যাওয়ার প্রয়োজন নেই, ২০০৩ সালে পশ্চিমা শক্তি ইরাকে “অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম” নামে মিথ্যা অভিযোগ এনে অতর্কিত হামলা করে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষকে হত্যা করে সেখানে জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়ক বিপ্লবী বীর সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করে নিজেদের বানানো দল ও দালাল ও দেশদ্রোহী ব্যক্তিকে ক্ষমতায় বসিয়ে বিনষ্ট করেছে।

তাদের অভ্যন্তরের ঐতিহাসিক সাংস্কৃতি ও অর্থনীতি লুট করেছে খনিজ সম্পদ ও তেল । শিয়া সুন্নি মতবাদকে উসকে দিয়ে সেখানে নিত্য সংঘাতের কেন্দ্রস্থল করে রেখেছিল ।

অবশেষে সাদ্দামকে ক্ষমতাচ্যুত করে বিতর্কিত ট্রাইব্যুনাল গঠন করে মৃত্যদণ্ড রায় কার্যকর করে । ফলে, ইরাকের অর্থনৈতিক অবকাঠামো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী সম্প্রীতি বিনষ্ট করে ইরাককে শক্তিশূন্য করে ছেড়েছে ।

ইরাকে মার্কিন হামলার প্রধান কারণ দেখিয়েছিল, ইরাকের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র (WMD) থাকা এবং সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ, বিশেষ করে আল-কায়েদার সঙ্গে সাদ্দাম হোসেন সরকারের কথিত যোগসূত্র, কিন্তু পরবর্তীতে এই অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয় এবং এই যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন, মিথ্যা তথ্যের ব্যবহার এবং ইরাকে ক্ষমতার পরিবর্তন ও তেলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগ ওঠে।

গত ২৫ বছরে মার্কিন সামরিক হামলা বা বড় ধরনের সামরিক অভিযানের শিকার দেশগুলোর মধ্যে আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, পাকিস্তান, লিবিয়া, সোমালিয়া অন্যতম।

যেখানে ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত হাজার হাজার বোমা ও মিসাইল ফেলা হয়েছে এ ছাড়া অন্যান্য দেশ যেমন নাইজেরিয়াতেও সীমিত সামরিক হামলা হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কেন্দ্রিক হলেও বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত ছিল বলে বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়।

মধ্যপ্রাচ্য এই পশ্চিমা শক্তি খুব সুক্ষ্মভাবে জাতে জাতে গোষ্ঠীতে বিভাজন সৃষ্টি করে সংঘাত লাগিয়ে প্রত্যহ লাশের অভয়ারণ্য করে তুলেছে । ইয়েমেন, সিরিয়া,সৌদি, মিশর,ফিলিস্তিন,বাহরাইন,সহ মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ রাষ্ট্রে পশ্চিমাদের তাবেদারী এবং খবরদারি মান্য করে চলে এসব দেশের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রকগণ ।

পশ্চিমারা মূলত অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে উসকে দিয়ে নিজেদের আখের গুছিয়ে নেয়। এর মধ্যে ব্যতিক্রম ইরান । ইরানের বিপ্লবী ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আল খোমেনী এই পশ্চিমাদের চোখে চোখ রেখে রাষ্ট্রকে দিক নির্দেশনা দিয়ে চলেছেন । ইরান বিশ্বের মধ্যে এখন পরমাণু শক্তিধর হিসেবে পশ্চিমাদের চক্ষুশূল হয়েছে, কারণ পশ্চিমারা কখনো চায় না তারা ছাড়া অন্য কোন রাষ্ট্র বা গোষ্ঠী পরমাণু শক্তিধর হোক । এবং কেন চাইনা।সেটি সহজেই অনুমেয় ।

এই পশ্চিমা শক্তি একাধিপত্যবাদ কায়েমের নেশায় অন্যান্য মহাদেশের বিভিন্ন রাষ্ট্রে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে আন্দোলন, অথবা নারী অধিকারের আন্দোলন সংঘাত পরিচালনা করে আসছে । ইরাকের পর তারা একে একে লিবিয়া, ফিলিস্তিন, ইউক্রেন,আফগানিস্তান সহ মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা ও ইউরোপের কিছু অঞ্চল জুড়ে একটি একক কর্তৃত্ববাদ কায়েমের নেশায় ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে চলছে বহুকাল হতে ।

এতে তাদের বিরুদ্ধে কেউ সোচ্চার হলে তারা তাদেরকে টেরোরিস্ট বা সন্ত্রাসী নামে সস্তা ট্যাগ লাগিয়ে দেয়, এর মধ্যে অনেক স্বগোত্রীই মানুষও তাদের সেই সস্তা ট্যাগের মোহে পড়ে প্রচারণা চালায় মূলত তাদের দোসর বা এজেন্ট হিসেবে কাজ করে ।

পৃথিবীর কোন আন্তর্জাতিক মিডিয়া সোচ্চার হয়েছে এই পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে! যেখানে তারা একাধিপত্যবাদ কায়েমের নেশায় বিভিন্ন রাষ্ট্রে গণতন্ত্র, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা, গনতন্ত্র অধিকার প্রতিষ্ঠার নামে লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে!

লক্ষ লক্ষ মানুষকে বাস্তুহারা করেছে! কোথায় সেই মিডিয়া এবং মানবতা? কারণ, মিডিয়াও গুলো তাদের তাবেদারী করে। কিছুদিন আগে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে রাতের অন্ধকারে তার বাস ভবন থেকে তুলে নিয়ে গেছে- কি হয়েছে?

কোন মিডিয়া বা কোন গোয়েন্দা সংস্থা কি এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে? হয়নি কারণ একমাত্র ভয় পশ্চিমা শক্তির । আমাদের ভালো করে বুঝে শুনে অবজারভেশন করতে হবে। লিবিয়াকে কি করেছে সৈরাচার তকমা লাগিয়ে, ইরাকে কি ঘটেছে শিয়া সুন্নি বিবাদ ঘটিয়ে পরমাণু তৈরির অভিযোগ দিয়ে?

ইউক্রেনকে কি করছে? কারা করছে? মধ্যপ্রাচ্য এতো অস্থিরতা কেন? ইউএই তে দীর্ঘ সময় জুড়ে একই প্রেসিডেন্ট এবং বাদশা তাদের আক্রমণ করে না কেন? সিরিয়া ইয়েমেনে সিরিজ হামলা কাদের ইন্ধনে করে যাচ্ছে?

আফগানে তালিবানদের সন্ত্রাসী তকমা লাগিয়ে শেষ পর্যন্ত আখের গুছিয়ে বিদায় হয়েছে কারা? অথচ এই তালিবানদের অতীত শত বছরের বৈপ্লবিক ইতিহাস রয়েছে । ইরানে কেন বারবার হামলা করা হয়? এই কথা কোন বিশ্ব মিডিয়া প্রকাশ করে না কেন? হুগো শ্যাভেজ এর দেশে একটা রাষ্ট্র নায়ককে তুলে নিয়ে গেল কেন? কি জন্য? কোন উদ্দেশ্যে? নারী অধিকার?এটা তাদের রাজনৈতিক টোপ। আদতে পশ্চিমাদের ইতিহাসে এখনো তারা কোন নারীদের প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত করেনি, করবেনা কখনও ।

পশ্চিমা সাংস্কৃতিতে আসক্ত কিছু নির্বোধ নারীদের তারা প্রতিনিধি বানায় আর সেই রাষ্ট্র বা দেশকে বিভিন্ন ছুতায় আক্রমণ করে অনেকটা খামখেয়ালি মেজাজে, তেল স্বর্ণ ও খনিজ সম্পদ লুণ্ঠনের লক্ষ্যে ।

কিন্তু ওই নির্বোধ মানুষগুলো বুঝেনা তারা ষড়যন্ত্র কারীদের দোসর হয়ে নিজ দেশের সাথে গাদ্দারী করে এবং নিজ দেশের মানুষ ও মানুষের অধিকার ভুলন্ঠিত করে । বলতে পারি,পশ্চিমা শক্তির কাছে খোমেনীর ইরান মাথা নত করেনি, শেষ পর্যন্তও করবে না।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.