'রাষ্ট্রনায়ক মওদুদ আহমদের সম্মান ও স্মরণের প্রত্যাশা'
মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু:
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। তিনি ছিলেন সাবেক আইনমন্ত্রী, উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের একজন প্রভাবশালী সংসদ সদস্য।
দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। অথচ আজকের বাস্তবতায় মনে হয়,সময়ের প্রবাহে অনেক মহান মানুষের অবদান ধীরে ধীরে আড়াল হয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় দুইজন মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে এলাকায় নানা কর্মসূচি পালিত হলেও, দুঃখজনকভাবে এই বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতার কবর জিয়ারত করার প্রয়োজন কেউ অনুভব করেননি।
ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে এক গভীর উপলব্ধি হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে,চোখের আড়াল হলে মনের আড়াল হয়ে যায়।
অথচ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ শুধু নোয়াখালীর নয়, তিনি ছিলেন সমগ্র বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের এক গর্বিত নাম।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সাম্প্রতিক অধিবেশনে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তির জন্য শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হলেও, দুঃখের বিষয়,এই বরেণ্য রাষ্ট্রনায়কের নাম সেখানে উচ্চারিত হয়নি।
এটি কেবল একটি রাজনৈতিক অবহেলা নয়,বরং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের প্রতি অনিচ্ছাকৃত অবমূল্যায়ন বলেই মনে হয়।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দেশকে দিয়েছেন দূরদর্শী নেতৃত্ব, সাংবিধানিক চিন্তা এবং গণতান্ত্রিক চর্চার শক্ত ভিত্তি।
আইনজ্ঞ হিসেবে তাঁর খ্যাতি যেমন ছিল আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সমাদৃত, তেমনি রাজনীতিবিদ হিসেবেও তিনি ছিলেন দৃঢ় ও বিচক্ষণ।
স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর্বে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের সন্তান হিসেবে তিনি এই জনপদের মানুষের জন্যও ছিলেন গর্বের প্রতীক। তাঁর স্মৃতি ও অবদান আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের মূল্যবান সম্পদ।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এই বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রতি যথাযথ সম্মান জানিয়ে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হবে। সেটিই হবে তাঁর প্রতি জাতির ন্যূনতম শ্রদ্ধা নিবেদন।
নোয়াখালী জেলা তথা কোম্পানীগঞ্জবাসীর হৃদয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্মৃতি আজও অম্লান। তাঁর জীবন ও কর্ম আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment