'১২ ফেব্রুয়ারি লাঙ্গল মার্কায় ভোট দিয়ে নোয়াখালী-৫ আসনে কাজ করার সুযোগ দিন'
ক্ষমতার নয়, মানুষের পক্ষে উন্নয়ন ও সম্মানের রাজনীতির নির্বাচনী অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ:
মোঃ আল এমরান
নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা নিরসন, শিল্পায়ন,স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়ন, যোগাযোগ ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা,শিক্ষার উন্নয়ন, কৃষি ও মৎস উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সৃষ্টি ও যুব উন্নয়ন,সমাজ ও পরিবার মাঝে সুষম বন্টন,নাগরিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, অবহেলিত চরাঞ্চল এ বাস্তবতা দীর্ঘদিন ধরে,
নোয়াখালী-৫ আসনের মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। বহু প্রতিশ্রুতি, বহু পরিকল্পনার কথা শোনা গেলেও বাস্তব সমাধান আজও অধরাই।
এই প্রেক্ষাপটে উন্নয়ন, মানবিকতা ও সম্মানের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে জাতীয় পার্টির মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ রুবেল নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন এক সুস্পষ্ট বার্তা নিয়ে, ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের জন্য রাজনীতি।
নোয়াখালী-৫ আসন (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট, অশ্বদিয়া-নেয়াজপুর) এলাকার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় ও গণসংযোগে তিনি তুলে ধরছেন দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও সম্ভাবনার কথা। তার মতে, এই জনপদ আর অবহেলার রাজনীতি চায় না,চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও সৎ নেতৃত্ব।
নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা:অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন,
নোয়াখালীর মানুষের জীবনের সঙ্গে নদী অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। নদী যেমন জীবিকার উৎস, তেমনি ভয়াবহ ভাঙনের কারণ। প্রতি বছর মেঘনা ও তার শাখা নদীগুলোর ভাঙনে অসংখ্য পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়।
ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ বলেন, নদীভাঙন নোয়াখালীর জন্য শুধু উন্নয়ন সমস্যা নয়, এটি মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন। তাই তার নির্বাচনী অঙ্গীকারের শীর্ষে রয়েছে কোম্পানীগঞ্জ রক্ষায় মুসাপুর ক্লোজার দ্রুত পুনর্নির্মাণ এবং চরএলাহী ক্রস ড্যাম প্রকল্পের বাস্তবায়ন।পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
গ্যাস সংযোগ ও শিল্পায়ন:বৈষম্যের অবসান,
নোয়াখালীর পাশ দিয়েই গ্যাস পাইপলাইন অতিক্রম করলেও জেলার মানুষ আজও গ্যাস সুবিধা থেকে বঞ্চিত এটি এক চরম বৈষম্য বলে মন্তব্য করেন ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ। তিনি বলেন, নোয়াখালীর গ্যাস নোয়াখালীর মানুষের উন্নয়নের জন্যই বরাদ্দ নিশ্চিত করা হবে। তার পরিকল্পনায় রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলে আধুনিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা, যেখানে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। এর ফলে স্থানীয় যুবকদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং নোয়াখালী অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে যাবে।
স্বাস্থ্যসেবা: দয়া নয়, মৌলিক অধিকার,
চরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা সংকট নোয়াখালীর অন্যতম বড় সমস্যা। সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে অনেক সময় জীবননাশের ঘটনাও ঘটে। এ বিষয়ে ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ বলেন, স্বাস্থ্য কোনো দয়া নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।
তার অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে সরকারি হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিক আধুনিকায়ন, পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও সরঞ্জাম নিশ্চিত করা এবং চরাঞ্চলে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবা চালু করা।
যোগাযোগ ও অবকাঠামো: বিচ্ছিন্নতার অবসান,
নোয়াখালী-৫ আসনের বহু ইউনিয়ন এখনও সড়ক যোগাযোগে পিছিয়ে। বর্ষা মৌসুমে চরাঞ্চলের মানুষ কার্যত দ্বীপে পরিণত হয়। এই অবস্থার পরিবর্তনে সব ইউনিয়নে টেকসই সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার, চরাঞ্চলের সঙ্গে স্থায়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ঠিকাদারি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন: ভবিষ্যতের বিনিয়োগ,
ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ বিশ্বাস করেন, শিক্ষিত প্রজন্মই একটি অঞ্চলের প্রকৃত শক্তি।
তার পরিকল্পনায় রয়েছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্মত ও ডিজিটাল শিক্ষা নিশ্চিত করা, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন এবং মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি সহায়তা।
কৃষি ও মৎস্যখাত: জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা,
নোয়াখালীর অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি ও মৎস্যখাত। তিনি খাস জমি ভূমিহীন ও বর্গাচাষিদের জন্য সংরক্ষণ, কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং মৎস্যজীবীদের জন্য আধুনিক ঘাট ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেন। বিশেষ করে চরাঞ্চলে মৎস্যখাত আধুনিকায়নের মাধ্যমে রপ্তানিমুখী সম্ভাবনা তৈরির কথাও তুলে ধরেন তিনি।
কর্মসংস্থান ও যুব উন্নয়ন : যুবসমাজকে বোঝা নয়, সম্পদ হিসেবে দেখতে চান ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ। দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, স্থানীয় উদ্যোক্তা তৈরি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পরিকল্পনা রয়েছে তার।
সমাজ ও পরিবার: বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা স্বচ্ছভাবে বণ্টন, নারীর নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি
সামাজিক সমতা নিশ্চিত ও সামাজিক সমতা ও সকল সম্প্রদায়ের অধিকার সংরক্ষণ দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা করবেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা: মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং ও সহিংসতা দমনে কঠোর অবস্থানের কথাও জানান তিনি।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের তরুণ ও স্বনামধন্য আইনজীবী, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য ও নোয়াখালী-৫ আসনের সমন্বয়ক ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ রুবেল তার শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইতোমধ্যে মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।
ভোটারদের প্রতি আহ্বান গণসংযোগকালে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন,১২ ফেব্রুয়ারি লাঙ্গল মার্কায় ভোট দিয়ে নোয়াখালী-৫ আসনে কাজ করার সুযোগ দিন। তার বিশ্বাস, জনগণের এই সমর্থনই তাকে মানুষের জন্য কাজ করার শক্তি ও নৈতিক অধিকার দেবে।
ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের জন্য,এই দর্শনকে সামনে রেখে ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ প্রত্যাশা করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নোয়াখালী-৫ আসনকে উন্নয়ন, সম্মান ও মানবিকতার একটি আদর্শ জনপদে রূপান্তর করা সম্ভব। নোয়াখালী-৫ আসন সত্যিই উন্নয়ন ও সম্মানের ঠিকানায় পরিণত হবে কিনা তার উত্তর দেবে সময় এবং মানুষের সচেতন সিদ্ধান্ত।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment