'জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্ক যৌথ বাহিনী'
পেশিশক্তি ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে কঠোর ব্যবস্থা কোম্পানীগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ ১৭ ভোটকেন্দ্র:
নবজ্যোতি রিপোর্ট ডেস্ক :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সে লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোনো নির্বাচনী কেন্দ্রে পেশিশক্তি প্রদর্শন, আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার, জোর-জবরদস্তি কিংবা নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা করা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী যৌথ বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুযায়ী গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভোটগ্রহণের দিন, তার আগের ও পরের সময়ে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং প্রয়োজনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ বাহিনী মোতায়েন থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন, নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, অবৈধভাবে ভোটকেন্দ্র দখল কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
একই সঙ্গে নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে গুজব ছড়ানো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য বা মিথ্যা তথ্য প্রচারকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনলাইন ও অফলাইন উভয় ক্ষেত্রেই গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
রোববার পহেলা ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় কোম্পানীগঞ্জ সরকারি কলেজের বিজ্ঞান ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় জানানো হয়, নোয়াখালী-৫ আসনের অন্তর্ভুক্ত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় মোট ১৭টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সভায় কোম্পানীগঞ্জ সেনা ক্যাম্পের প্রধান মেজর নাসির বলেন, এসব ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরাপদ করতে সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করবে। কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না।
তিনি আরও জানান, অবৈধ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ৩১ জানুয়ারি। নির্ধারিত সময়ের পর কারও কাছে অস্ত্র পাওয়া গেলে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা চরএলাহী এলাকায় সক্রিয় সন্ত্রাসী তৎপরতা, অবৈধ অস্ত্র ও বালু ব্যবসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ প্রসঙ্গে মেজর নাসির বলেন, সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সহিংস ঘটনার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিক উভয়ই সমান গুরুত্ব পাবে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী বিশেষ গুরুত্ব দেবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকার ও নির্বাচন কমিশন একযোগে কাজ করছে। কোনো ধরনের সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা বা অনিয়মের বিষয়ে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী যৌথ বাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment