ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে কোম্পানীগঞ্জে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত: কোম্পানীগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিতঃ মুছাপুর ক্লোজার নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাবাজার সেতুর নিচে ডুবোবাঁধের প্রস্তাব: ইসলাম কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের সমার্থক নয়’- মোঃ নাসির চৌধুরী: নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতিকে ফুলেল সংবর্ধনা, শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বারোপ: নোয়াখালী শহরে ২নং ওয়ার্ডে ইসলামী ছাত্র মজলিসের উদ্যোগে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত: কোম্পানীগঞ্জে ‘উদয় বৃত্তি-২০২৬’ উদ্বোধন,শুরু হলো রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম: স্বাধীনতার ৫৫ বছরে বাংলাদেশ উন্নয়ন হয়েছে,কিন্তু ইসলামী শিক্ষা ও নৈতিক রাষ্ট্র গঠনে কতটা অগ্রগতি? ছোট ফেনী নদীর তীব্র স্রোতে চরপার্বতীতে ভাঙন আতঙ্ক, দ্রুত মুছাপুর ক্লোজার নির্মাণের দাবি: ।।ভার্চুয়াল বন্ধুত্ব, বাস্তব জীবনের ঝুঁকি: সম্পর্ক রক্ষায় সচেতন হই।। ---------মোহাম্মদ উল্যা মিরাজ --------

মানবতা, নীরব দান ও বিশ্বাসের পথে আমেরিকান প্রবাসী মোঃ মাইন উদ্দিন সোহাগ :

মানবতা, নীরব দান ও বিশ্বাসের পথে আমেরিকান প্রবাসী মোঃ মাইন উদ্দিন সোহাগ :

মানবতা, নীরব দান ও বিশ্বাসের পথে আমেরিকান প্রবাসী মোঃ মাইন উদ্দিন সোহাগ :

নব জ্যোতি অনলাইন ফিচার ডেস্ক:

মানুষের জীবনে কিছু নাম থাকে, যেগুলো উচ্চস্বরে উচ্চারিত না হলেও সমাজের গভীরে নীরব আলো ছড়িয়ে দেয়। মোঃ মাইন উদ্দিন সোহাগ তেমনই এক নাম যিনি প্রচারের আলোয় নয়, বরং আত্মগোপনে মানবতার চর্চা করে চলেছেন।

প্রবাসের ব্যস্ত জীবনের মাঝেও যিনি নিজের শেকড়, বিশ্বাস ও মানুষের কল্যাণকে হৃদয়ে ধারণ করে চলেছেন নিরবচ্ছিন্নভাবে।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ২নং চরপার্বতী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের গোরা গাজী বাড়িতে জন্ম নেওয়া এই মানুষটির জীবনগাঁথা আমাদের শেখায়

ভৌগোলিক দূরত্ব কখনো মূল্যবোধের দেয়াল তুলতে পারে না।

১৯৮৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন মোঃ মাইন উদ্দিন সোহাগ। পিতা আবুল কালাম ও মাতা গোলাপজান বেগম,এই দুই আদর্শবান মানুষের স্নেহ, শাসন ও নৈতিক শিক্ষায় গড়ে ওঠে তাঁর মানসিক কাঠামো। চার বোন ও এক ভাইয়ের সংসারে বেড়ে ওঠা সোহাগ ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক বন্ধন, দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতার শিক্ষা লাভ করেন।

প্রাথমিক শিক্ষার হাতে খড়ি রহিমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে চরপার্বতী সিডিউল কাস্ট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সফলভাবে এসএসসি উত্তীর্ণ হন। ছাত্রজীবনে তিনি ছিলেন নীরব, শালীন ও ভদ্র,চমক নয়, বরং শৃঙ্খলা ও স্থিরতায় বিশ্বাসী।

পরবর্তীতে কোম্পানীগঞ্জ সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হলেও জীবনের গতিপথ ভিন্ন মোড় নেয়।

২০০৬ সাল তাঁর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। কৈশোর পেরিয়ে যৌবনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে পিতার সঙ্গে আমেরিকায় পাড়ি জমান তিনি।

দেশ, মাটি ও পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে প্রবাসে পাড়ি দেওয়া সহজ ছিল না। তবুও পরিবারের ভবিষ্যৎ ও জীবনের বাস্তব প্রয়োজনকে সামনে রেখে এই কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তিনি।

বর্তমানে তিনি আমেরিকার বাউফলে বসবাস করছেন। তাঁর চার বোনের মধ্যে তিনজনই আমেরিকায় অবস্থান করছেন। প্রবাসে থেকেও পারিবারিক বন্ধন ও আত্মীয়তার দায়বদ্ধতা তাঁর জীবনে গভীরভাবে প্রোথিত।

ব্যক্তিজীবনে মোঃ মাইন উদ্দিন সোহাগ একজন বিবাহিত মানুষ। দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক হিসেবে তিনি সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ায় সচেতন ও দায়িত্ববান। সন্তানদের পড়াশোনা, নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ গঠনে তিনি নীরবে ভূমিকা রেখে চলেছেন।

প্রবাসের আধুনিক ও ভিন্ন সংস্কৃতির মাঝেও তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধে অবিচল। আমেরিকায় তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের একজন সদস্য। তাঁর কাছে ধর্ম কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়,বরং মানবিকতা, শালীনতা ও ন্যায়বোধের বাস্তব চর্চা।

তিনি বিশ্বাস করেন, আধুনিকতার সঙ্গে ধর্মের কোনো বিরোধ নেই,যদি হৃদয় সৎ থাকে। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি বিভেদ নয়, ঐক্যের পক্ষে অবস্থান নেন।

মোঃ মাইন উদ্দিন সোহাগের সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন নীরব দাতা। অসহায় মানুষ, দরিদ্র আত্মীয়স্বজন, বিপন্ন পরিবার, মাদরাসা, মক্তব ও মসজিদ,সবখানেই তাঁর সহায়তা পৌঁছায় নিভৃতে।

তিনি কখনো নাম প্রকাশে আগ্রহী নন, কখনো কৃতিত্ব নিতে চান না। তাঁর বিশ্বাস দান তখনই পবিত্র, যখন তা অহংকারমুক্ত হয়।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, করোনাকালীন দুঃসময়ে তিনি দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। কর্মহীনতা, খাদ্যসংকট ও চিকিৎসা সংকটে থাকা অসহায় মানুষের কাছে তিনি প্রবাসে থেকেও নীরবে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেন।

কোনো প্রচার নয়, কোনো ছবি নয়, শুধু দায়িত্ববোধ থেকে।

তিনি কোনো দলীয় রাজনীতির মুখপাত্র নন। তবে মানবতার রাজনীতিতে তিনি সবসময় সক্রিয়। তাঁর কাছে মানুষের কষ্টই সবচেয়ে বড় খবর, আর সেই কষ্ট লাঘব করাই সবচেয়ে বড় কাজ।

মোঃ মাইন উদ্দিন সোহাগ ‘নব জ্যোতি’ পত্রিকার সকল পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন,

সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও মানবতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য। তাঁর বিশ্বাস, একটি পত্রিকা কেবল খবরের কাগজ নয়,এটি সমাজের দর্পণ, বিবেকের কণ্ঠস্বর।

মোঃ মাইন উদ্দিন সোহাগ কোনো শিরোনামের মানুষ নন, তবুও তাঁর জীবন নিজেই একটি শিরোনাম

নীরবতায় ভরপুর, অথচ গভীরতায় সমৃদ্ধ।

প্রবাসে থেকেও তিনি মাটির মানুষ, বিশ্বাসে অটল, মানবতায় উদার। এই ধরনের মানুষরাই সমাজকে আলোকিত করেন,চুপচাপ, নিঃশব্দে। কারণ আলো কখনো শব্দ করে না, তবুও অন্ধকার ভাঙে।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.