নোয়াখালী-৫ আসনে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সংসদ সদস্যের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন
শাহাদাত হোসেন
বার্তা সম্পাদক, নব জ্যোতি:
বর্ষা ও বৃষ্টিপাতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব থেকে নোয়াখালী-৫ আসনের মানুষও মুক্ত নয়। সম্ভাব্য ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসাব্যবস্থার প্রস্তুতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে এ সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংস করা, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা, প্রয়োজনীয় মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এসব কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের ভূমিকা কতটা দৃশ্যমান এ প্রশ্নও উঠছে।
জনসাধারণের প্রত্যাশা, নির্বাচনী এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সংসদ সদস্য স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন। বিশেষ করে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লে আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে কি না, তা নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের আরও দাবি, ডেঙ্গু প্রতিরোধকে শুধু মৌসুমি কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর মশা নিয়ন্ত্রণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালু রাখা প্রয়োজন। কোথায় পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি হচ্ছে, কোন এলাকায় মশার উপদ্রব বেশি এবং কোথায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে এসব বিষয়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
নোয়াখালী-৫ আসনে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সংসদ সদস্যের ভূমিকা কতটা কার্যকর, তা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বাস্তব ও পরিমাপযোগ্য তথ্য সামনে আনা প্রয়োজন। কতটি এলাকায় মশক নিধন অভিযান পরিচালিত হয়েছে, কতগুলো সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করা হয়েছে, ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কত এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের প্রস্তুতি কেমন এসব তথ্যই পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে পারে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আগেই নোয়াখালী-৫ আসনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত কর্মসূচি জোরদার করা হবে। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে জনগণকে জানানো হবে,ডেঙ্গু মোকাবিলায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, কোথায় কী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা কী।
ডেঙ্গু নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। এ সংকট মোকাবিলায় সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণের সমন্বিত অংশগ্রহণ জরুরি। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগই পারে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে।
এখন দেখার বিষয়, নোয়াখালী-৫ আসনে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সেই সমন্বিত উদ্যোগ কতটা বাস্তব ও দৃশ্যমান হয় এবং জনসাধারণের উদ্বেগ ও প্রশ্নের জবাব কতটা কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব হয়।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment