ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : গোসাইরহাটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ইভটিজিং, বিপন্ন ছাত্রীদের শিক্ষাজীবন পরিবর্তনের পক্ষে, পরিবর্তনের লক্ষ্যে: মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম সুস্থতাই জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ: মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম বাংলা কবিতার একাল ও সেকাল: মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম চরহাজারী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী গোলাম হায়দার সৌরভ চরপার্বতী ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান জামাল বাহার মুসলিম বিজ্ঞানীদের জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে আধুনিক পশ্চিমা বিজ্ঞান। পিছিয়ে পড়ে তাদেরই উপর নির্ভর আমরা। একজন গণমাধ্যমকর্মী মোঃ আল এমরান সুবর্ণচরে কৃষিজমিতে অবৈধ তিন ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন, মালিকদের ৬ লাখ টাকা জরিমানা জাতীয় রক্তদাতা দিবস মানবতার এক মহান উদযাপিত দিন

সুস্থতাই জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ: মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

সুস্থতাই জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ: মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

সুস্থতাই জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

​জীবন এক অদ্ভুত যাত্রাপথ। এই যাত্রার শুরু থেকেই আমাদের মনে নানা প্রাপ্তি ও অর্জনের হিসাব উঁকি দেয়। বেঁচে থাকার তাগিদে এবং সমাজের গণ্ডিতে আমরা নানাবিধ প্রয়োজনের বেড়াজালে নিজেদের বন্দি করি। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, অর্থ-সম্পদ, বাহন থেকে শুরু করে জীবনসঙ্গী বা ভালোবাসার মানুষের প্রয়োজন—তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে থাকে। ভোগবিলাসের উপকরণ কিংবা সামাজিক প্রতিষ্ঠা অর্জনের জন্য আমরা জীবনের একেকটি অমূল্য বছর ব্যয় করে দিই। কিন্তু এই ব্যস্ততার ভিড়ে আমাদের ভাবনাতেও কি কখনো আসে যে, আমাদের আসলে আসল প্রয়োজন কোনটি এবং কোনটির কোনো প্রয়োজনই নেই?

​অধিকাংশ মানুষই জীবনের একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে এসে মর্মে মর্মে অনুধাবন করতে পারে—কী তার জীবনে সত্যিই প্রয়োজন ছিল আর কী ছিল সম্পূর্ণ অতিরিক্ত। তবে সেই বোধোদয় তখনই ঘটে, যখন নিজের অবহেলা ও উদাসীনতার কারণে শরীর আর নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। আমরা জীবনের শুরু থেকে বাকি সবকিছুর যত্ন নিলেও নিজের স্বাস্থ্যের কথা একবারের জন্যও ভাবি না।

​আজ একটি নতুন গাড়ি কেনার পর তার প্রতিটি খুচরা যন্ত্রাংশের দিকে আমরা কতোটাই না নজর রাখি, যেন একটুও দাগ না পড়ে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তিলে তিলে যে বাড়িটি আমরা গড়ি, তা যেন একটুও নষ্ট না হয় সেদিকে আমাদের কত শত সতর্কতা! শৌখিন সেগুন কাঠের আসবাবপত্রগুলো চকচকে রাখতে নিয়মিত বার্নিশ করা হয়। অথচ এই বাহ্যিক আয়োজন করতে গিয়ে আমরা নিজের শরীরের ভেতরের অমূল্য যন্ত্রগুলোকে তিলে তিলে কতটা ক্ষয়ে ফেলছি, তার কি কোনো হিসাব রাখি?

​যতদিন না হাসপাতালের শয্যা নিতে হয়, ততদিন আমরা বুঝতেও পারি না এই সুপারনোভা যন্ত্রতুল্য মানবদেহটার কতটা ক্ষতি আমরা ইতিমধ্যে করে ফেলেছি। হাসপাতালের বেডে শুয়ে যখন জীবনের হিসেব কষতে বসি, তখন দীর্ঘশ্বাস ফেলে মনে হয়—ইশ! এই মোহগুলোর পেছনে কেন এত ছুটলাম? এগুলোর তো আদতে এত প্রয়োজন ছিল না! অথচ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল যে শরীরটার, তার যত্নটাই তো নেওয়া হলো না।

​আজ আমার তৈরি বাড়ি, গাড়ি বা আসবাবপত্রের কি আর কোনো মূল্য আছে এই রোগাক্রান্ত ও অবশ জীবনের কাছে? বাড়ি, গাড়ি ও সঞ্চিত সম্পদ তো একসময় আমার প্রজন্ম বা অন্য কেউ ভোগ করবে, কিন্তু আমার এই অসুস্থতার তীব্র যন্ত্রণা কি কেউ ভাগ করে নেবে? আসলে বিনামূল্যে এবং বিনা কষ্টে পাওয়া পরম দানগুলোর মূল্যায়ন করা আমাদের স্বভাব নয়। ঠিক যেমন আমরা মূল্যায়ন করতে জানি না আল্লাহর দান এই মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও শারীরিক সুস্বাস্থ্যের প্রকৃত মূল্য।

​আজকের এই আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে সর্বশক্তিধর সুপার কম্পিউটারেরও এমন ধারণক্ষমতা ও নিখুঁত সংরক্ষণ ক্ষমতা নেই, যা আমাদের একটিমাত্র ব্রেনের রয়েছে। অথচ একজীবনে আমরা সেই অনন্য মস্তিষ্কের ও শরীরের সঠিক মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হই। একটি নির্মম সত্য হলো—আপনি যতদিন সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকবেন, ততোদিনই আপনার কদর চারধারে। কিন্তু যখন আপনি অসুস্থতায় দুর্বল হয়ে পড়বেন, তখন আপনজন থেকে শুরু করে গোটা পৃথিবীর কাছেই আপনি হয়ে উঠবেন একরকম ব্যর্থ, অথর্ব ও অকেজো।

​বাস্তবতা হলো, বাড়ি, গাড়ি, আসবাবপত্র, আপনজন বা বন্ধু,সবকিছুর ঊর্ধ্বে জীবনের সবচেয়ে দামি ও কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি হলো সুস্থতা। পরনির্ভরশীল জীবন যে কতটা যন্ত্রণাদায়ক ও কষ্টের, তা কেবল হাসপাতালের বেডে কিংবা নিজ বিছানায় পঙ্গুত্ব বা জটিল রোগে শয্যাশায়ী মানুষটিই অনুধাবন করতে পারেন। আমরা মানুষরাই বোধহয় সবচেয়ে বেশি অসচেতন, সময়ের কাজ সময়ে করতে জানি না এবং সময়ের সঠিক মূল্য দিতে জানি না।

আসুন, সময়ের মূল্য সময়মতো দিই এবং হালাল ও পরিমিত খাবার খেয়ে সুস্থ জীবনযাপনের ধারা গড়ে তুলি।

​পরিশেষে মনে রাখা দরকার, যতই সুদ-ঘুষ খেয়ে, মানুষের হক নষ্ট করে কিংবা অন্যের অধিকার কেড়ে নিয়ে সম্পদ গড়া হোক না কেন,এর পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। নিজের আত্মীয়-স্বজন বা পরিবারকে দূরে ঠেলে দিয়ে বা অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থে সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করার যতই চেষ্টা করা হোক না কেন, পরকালে বা দুনিয়ায় আপনার কর্মের হিসেব কিন্তু কেউ নিতে আসবে না। দুনিয়াতে আপনার সম্পদের ভাগ নেওয়ার মানুষের অভাব হবে না, কিন্তু আপনার জাগতিক রোগ-ব্যাধির যন্ত্রণা কিংবা মন্দ কর্মের জবাবদিহিতা ও কষ্টের ভাগ নেওয়ার মতো কাউকে হাজার খুঁজেও পাওয়া যাবে না।

​আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সব ধরনের অবৈধ মোহ থেকে মুক্ত রাখুন, দুনিয়া ও আখিরাতে পরিপূর্ণ ঈমান এবং সুস্থতার নেয়ামত দান করুন। আমীন।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.