জাতীয় রক্তদাতা দিবস
মানবতার এক মহান উদযাপিত দিন
মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম
কবি,সাহিত্যিক,সাংবাদিক
অফুরন্ত কেন্দ্রীয় কমিটির
সাংগঠনিক সম্পাদক।
জাতীয় রক্তদাতা দিবস হলো মানুষের জীবন বাঁচাতে স্বেচ্ছায় রক্তদানের গুরুত্ব তুলে ধরা এবং রক্তদাতাদের নিঃস্বার্থ অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি বিশেষ দিন। নিয়মিত রক্তদান উৎসাহিত করা এবং নিরাপদ রক্তের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম।
মানবদেহের রক্ত এমন এক অমূল্য উপাদান, যা কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সম্ভব নয়। একমাত্র মুমূর্ষু মানুষের শরীরে অন্য সুস্থ মানুষের রক্ত দিয়েই জীবন রক্ষা করা যায়। সড়ক দুর্ঘটনা, বড় অপারেশন, থ্যালাসেমিয়া, লিউকেমিয়া কিংবা প্রসবকালীন জটিলতায় অনেক সময় জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন হয়। এই সংকটময় মুহূর্তে স্বেচ্ছায় রক্তদাতারা হয়ে ওঠেন জীবন রক্ষাকারী দেবদূত।
রক্তদানের এই মহৎ কাজকে সামাজিক আন্দোলন হিসেবে ছড়িয়ে দিতে এবং রক্তদাতাদের উৎসাহিত করতেই এই দিবসটি পালন করা হয়।
বিশ্বব্যাপী নিরাপদ রক্তদান সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর ১৪ জুন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে ‘বিশ্ব রক্তদাতা দিবস’ পালন করা হয়।
বাংলাদেশসহ অনেক দেশেই আবার জাতীয় পর্যায়ে আলাদা দিনেও রক্তদাতা দিবস উদযাপিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশে প্রতি বছর ২ নভেম্বর ‘জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও রক্তদাতা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। স্বেচ্ছায় রক্তদানকে সামাজিক প্রথায় রূপান্তর করতে এবং যারা নিয়মিত রক্ত দিয়ে মানুষের জীবন বাঁচাচ্ছেন তাদের সম্মানিত করতে এই দিনটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
রক্তদান শুধু অন্যর জীবনই বাঁচায় না, বরং রক্তদাতার নিজের স্বাস্থ্যের জন্যও এটি অত্যন্ত উপকারী।
নতুন রক্ত কণিকা তৈরি: রক্তদান করলে শরীরের অস্থিমজ্জা (Bone Marrow) নতুন রক্ত কণিকা তৈরির উদ্দীপ্ত হয়, যা শরীরের সতেজতা বজায় রাখে।
হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস: নিয়মিত রক্তদান করলে রক্তের ঘনত্ব কমে, ফলে হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পায়।
বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা: রক্তদানের আগে রক্তদাতার রক্তচাপ, ওজন এবং বিভিন্ন সংক্রমণ (যেমন- হেপাটাইটিস বি, সি, এইচআইভি ইত্যাদি) পরীক্ষা করা হয়, যা নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হতে সাহায্য করে।
রক্তদানে আমাদের করণীয় ও সামাজিক দায়বদ্ধতা
আমাদের সমাজে এখনো রক্তদান নিয়ে কিছু ভ্রান্ত ধারণা বা ভয় কাজ করে। অনেকে মনে করেন রক্ত দিলে শারীরিক দুর্বলতা আসে, যা সম্পূর্ণ ভুল। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক নারী বা পুরুষ প্রতি ৩-৪ মাস পরপর কোনো রকম ক্ষতি ছাড়াই অনায়াসেই রক্তদান করতে পারেন।
তাই আসুন, কুসংস্কার দূর করে নিজে রক্ত দিই এবং অন্যকে রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করি। আপনার এক ব্যাগ রক্ত ফিরিয়ে দিতে পারে একটি মুমূর্ষু প্রাণ, ফোটাতে পারে একটি অমলিন হাসি।
স্বেচ্ছায় রক্তদান করুন, একটি অমূল্য জীবন বাঁচান।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment