ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : মুসলিম বিজ্ঞানীদের জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে আধুনিক পশ্চিমা বিজ্ঞান। পিছিয়ে পড়ে তাদেরই উপর নির্ভর আমরা। একজন গণমাধ্যমকর্মী মোঃ আল এমরান সুবর্ণচরে কৃষিজমিতে অবৈধ তিন ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন, মালিকদের ৬ লাখ টাকা জরিমানা জাতীয় রক্তদাতা দিবস মানবতার এক মহান উদযাপিত দিন লেখকের অমর জীবন। মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম শিষ্টাচার,সার্টিফিকেট নয়, মানুষের আসল পরিচয় মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম বসুরহাট পৌর স্বপ্নপূরী মার্কেটের নির্বাচনে সভাপতি জাকের হোসেন, সম্পাদক তোফায়েল রাসেল নির্বাচিত দৃষ্টিহীন চোখে আলো না দেখলেও স্বপ্নজয়ে জিপিএ-৫ পেলেন মৌমি কোম্পানীগঞ্জের রামপুরে নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান, মজুত প্রায় ৯৮ বিলিয়ন ঘনফুট বসুরহাট পৌরসভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী কে? লিটন-রাজনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আলোচনায় কামাল চৌধুরী

মুসলিম বিজ্ঞানীদের জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে আধুনিক পশ্চিমা বিজ্ঞান। পিছিয়ে পড়ে তাদেরই উপর নির্ভর আমরা।

মুসলিম বিজ্ঞানীদের জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে  আধুনিক পশ্চিমা বিজ্ঞান। পিছিয়ে পড়ে তাদেরই উপর নির্ভর আমরা।

মুসলিম বিজ্ঞানীদের জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে আধুনিক পশ্চিমা বিজ্ঞান। পিছিয়ে পড়ে তাদেরই উপর নির্ভর আমরা।

লেখাঃ মুহাম্মদ ইদ্রিস হাছান

এমন একটা যুগের কথা চিন্তা করুন যখন আধুনিক প্রিন্ট মেশিন ছিল না, যখন চ্যাটজিপিটি ছিল না, যখন গুগল কিংবা কোনো প্রকার ইন্টারনেট ছিল না।

তখন কারো কিছু জানার প্রয়োজন হলে কী করত? হ্যাঁ, তখন কারো কিছু জানার প্রয়োজন হলে বিজ্ঞজনের কাছে জিজ্ঞাসা করত।

তখন সাধু, সন্ন্যাসী, সাধক, ধর্মযাজক ইত্যাদির প্রচলন ছিল। তৎকালীন সময়ে সঠিক সময়ে সঠিক উত্তর পাওয়া আজকের মতো সহজ ছিল না। তখন সৎ, যোগ্য, শিক্ষিত কিছু মানুষ ছিল যারা নিজেদের মাথাকে অসংখ্য জ্ঞানভান্ডার দিয়ে ভরিয়ে তুলত। তারা প্রাতিষ্ঠানিক নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; তারা ছিল বহু জ্ঞানভান্ডারে সমৃদ্ধ। বলা চলে তৎকালীন সময়ে স্থান অনুযায়ী একেকজন একেক এলাকার গুগল এবং চ্যাটজিপিটি ছিল। তাদের সংগ্রহে থাকত শত শত নতুন-পুরাতন বই-পুস্তক। তারা মাথায় ধারণ করে রাখত হাজার হাজার তথ্য। তারা ছিল এক একটি জীবন্ত ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি। যুগের সেরা মানুষের সাহচর্য লাভ করে তারা জ্ঞান আহরণ করত।

এদের মধ্যে কেউ কেউ নিজের দক্ষতা অর্জন এত দূর নিয়ে গেছেন যে তারা দুনিয়াব্যাপী জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন। খ্রিস্টপূর্বের প্রসিদ্ধ ছিলেন আর্কিমিডিস, এরিস্টটল, প্লেটো, সক্রেটিস, ইউক্লিড, পিথাগোরাস প্রমুখ বিজ্ঞানীগণ।

এখানে নবী এবং রাসূলদের কথা বলা হচ্ছে না, এ কারণে যে তারা ছিলেন আল্লাহ প্রদত্ত পথপ্রদর্শক। এখানে শুধু তাদের কথাই বলা হচ্ছে যারা নিজেদের চেষ্টা, সাধনা এবং বুদ্ধি খাটিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

মোহাম্মদ (সা.)-এর পরবর্তী সময়ে ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালিক, ইমাম শাফি, ইমাম বুখারি, ইমাম গাজ্জালী ও বিজ্ঞানী হিসেবে পরিচিত ইবনে সিনা, জাবির ইবনে হায়ান, মুসা আল-খারিজমি, ইতিহাসের জনক হিসেবে পরিচিত ইবনে খালদুনসহ অনেকে।

বর্তমানে আমরা এআই যুগে পৌঁছেছি।

এআই-এর অংশ চ্যাটজিপিটি। এটি মানুষের চেয়ে হাজার গুণ শক্তিশালী। মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু দিয়ে দিচ্ছে, সবকিছু বানিয়ে দিচ্ছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, চ্যাটজিপিটি নিজ থেকে সবকিছু বানিয়ে দেয়? এর সীমাবদ্ধতা কতটুকু? বাস্তবে মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার বাইরে কৃত্রিম কোনো কিছুই নেই। ইন্টারনেট, গুগল, ওয়েবসাইট, ফেসবুক, ইউটিউব, সেট করে দেওয়া ডেটাবেস ইত্যাদিতে যে তথ্য দেওয়া আছে, তার উপর ভিত্তি করে চ্যাটজিপিটি। তবে ChatGPT এত অ্যাডভান্স যে কোনো ইমেইল, কোনো রচনা, যেকোনো প্রবন্ধ, নিউজ যেকোনো বিষয়ে মুহূর্তে বানিয়ে দিতে পারে, খুব সুন্দর সুচারুভাবে।

তবে নতুন করে কোনো কিছু আবিষ্কার করার ক্ষমতা তার নেই। তবে নতুন ডিজাইন, রূপান্তর করার শক্তি অসীম।

বর্তমানে চ্যাটজিপিটি বড় বড় বিজ্ঞানী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, লেখক, সাহিত্যিক, স্কলার, গবেষক প্রমুখের সংরক্ষিত তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে।

বর্তমানে গ্লোবাল ভিলেজের কারণে বড় বড় বিশেষ ব্যক্তি আলাদা আলাদা স্বীকৃতি পাচ্ছে না। কারণ এখন বর্তমানে গবেষণা, আবিষ্কার সবকিছু সম্মিলিত গবেষণার মাধ্যমে হয়ে থাকে।

এর মধ্যে আমাদের কিছু "লাইট হাউস" আছে, যারা একেকটা বিশাল লাইব্রেরির সমান। এরকম ধারাবাহিকতা খুবই প্রয়োজন।

তবে বাস্তবতা হচ্ছে, দুনিয়ার সকল আধুনিক প্রযুক্তির নতুনত্বের জনক বলা যায় পশ্চিমাদের, আর আমরা হচ্ছি তাদের প্রযুক্তির দাস বা গোলাম। অথচ এক সময় মুসলমানরা ছিল সর্বসেরা। আজকের যুগে তাদেরকে ছাপিয়ে যেতে হলে প্রথমে জ্ঞান-বিজ্ঞানে তাদের সমতুল্য হতে হবে, এরপর নতুনত্বের মাধ্যমে তাদের ছাপিয়ে যেতে হবে।

সমাজের নেতৃত্ব দিতে হলে, সমাজে আলো ছড়াতে হলে জ্ঞান-বিজ্ঞানে নিজেকে সমৃদ্ধ করার বিকল্প নেই। হাজার হাজার তথ্য নিজের মাথায় ধারণ করতে হবে, এরপর প্রযুক্তির উপর নির্ভর। সত্যি কথা হচ্ছে, এআই বা চ্যাটজিপিটিকে কমান্ড দেওয়ার মতো জ্ঞানও আমাদের নেই।

তবে যারা জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষার দিক দিয়ে উচ্চ স্তরে পৌঁছেছেন, যারা প্রযুক্তিগতভাবে জ্ঞান রাখেন, তারা এআইকে বা চ্যাটজিপিটিকে ভালো কমান্ড দেওয়ার মাধ্যমে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে পারেন।

আপনি ইংরেজি ভাষা জানেন না, গ্রামার বোঝেন না, আরবি ভাষা ও গ্রামার বোঝেন না কিভাবে এআইকে কমান্ড দেবেন?

একজন এমবিবিএস প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে ডাক্তার হয় না; বরং এমবিবিএস শেষ করে প্রয়োজনে প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে।

আপনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সম্পর্কে কিছু জানেন না, তাহলে এআইকে কিভাবে জিজ্ঞাসা করবেন?

আপনি মুসা আল-খারিজমি সম্পর্কে জানেন না, তাহলে কিভাবে তথ্য নেবেন?

একটা মজার বিষয় বলি, সারা দুনিয়াতে বীজগণিতের জনক বলা হয় মুসা আল-খারিজমিকে। পশ্চিমা বিশ্ব তার থেকে জ্ঞান আহরণ করে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়েছে। নিচের সমীকরণগুলো লক্ষ্য করি:

x + 7 = 15

3x - 4 = 11

x² = 49

উপরের সমীকরণগুলো খারিজমির আবিষ্কার, কিন্তু তার বই-পুস্তকে এগুলোর কিছুই পাবেন না। বরং তিনি এগুলো এভাবে বলেননি, লিখেওনি। এ অংকগুলো হয়তো স্বয়ং খারিজমি দেখলে নিজেই বুঝতেন না! মানে নিজের আবিষ্কার নিজেই বুঝতে পারছেন না। কী অবাক হচ্ছেন?

হ্যাঁ, এটাই বাস্তব। এগুলো সব পশ্চিমাদের রূপান্তর করা তথ্য।

পশ্চিমারা তাকে ওস্তাদ মানে কেন? কেন এর ওস্তাদ মানে তার আগে কিছু তথ্য জানি। আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, কঙ্গো এরকম কিছু দেশ আছে, যে দেশের মাটি, বালি, পাহাড়, খনি থেকে স্বর্ণ আহরণ করা হয়। বাংলাদেশের বালি, মাটি, পাহাড়েও স্বর্ণ রয়েছে। সেটা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। বাংলাদেশে কেন স্বর্ণ আহরণ নিষিদ্ধ সেটার জবাব না হয় আপনারাই দিন।

এবার ভাবুন, স্বর্ণ যখন মাটি, বালি, পাহাড়, নদীতে থাকে তখন এক রূপ; যখন সংগ্রহ করে শোধন করা হয় তখন আরেক রূপ।

এই স্বর্ণ চেনা, সংগ্রহ করা, শোধন করার সক্ষমতা সবার নেই। যাদের আছে, তারা পারে। ঠিক তেমনিভাবে মুসলিম বিজ্ঞানী মুসা আল-খারিজমির থিওরিগুলো আধুনিকতার রূপ দেওয়ার যোগ্যতা পশ্চিমাদের ছিল, আমাদের ছিল না।

আমাদের এই বিজ্ঞানীর থিওরি আমরা আধুনিক রূপ দিতে পারিনি। তারা যখন সুন্দরভাবে তার থিওরিগুলো গণিত আকারে সাজিয়ে দিল, তখন আমরা মুসলিম ছাত্ররা নিজেরাই আর সহজে বুঝি না! এখন বীজগণিত দেখলে মনে হয় সবকিছু পশ্চিমাদের। এখন উল্টো তাদের থেকে আমাদের শিখতে হয়। আফসোস! ঠিক তেমনি চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক ইবনে সিনার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোতে এখনো ইবনে সিনার পুস্তক ইতিহাসের তালিকায় রাখা হয়।

কোনো কৌতূহলী শিক্ষার্থীর হয়তো প্রশ্ন জাগতে পারে--পশ্চিমারা কিভাবে খারিজমিকে বুঝেছিল? কিভাবে তার থিওরিগুলো আধুনিক রূপ দিয়েছে? হ্যাঁ, এটা বোঝার জন্য কিছু উদাহরণ দিচ্ছি।

খাওয়ারিজমি তার বইয়ে তাত্ত্বিক আকারে এভাবে লিখতেন: "একটি বর্গফল এবং দশটির সঙ্গে মিলিত একটি ধনাত্মক সংখ্যার সমান ৩৯"। পশ্চিমারা যার আধুনিক রূপ দিয়েছে: x² + 10x = 39

"একটি বর্গফল সমান, যা তার দ্বিগুণ ধনাত্মক অংশ এবং ৪-এর সমান"

আধুনিক রূপ: x² = 2x + 4

তারা আরবি ভাষাকে ল্যাটিনে অনুবাদ করে আসল পদ্ধতিকে রূপ দেয়।

যাইহোক, মূল কথা হচ্ছে চিন্তা, গবেষণা, জ্ঞান সাধনা, উদ্যোগ নেওয়া, লেগে থাকা, চেষ্টা করা, পরিশ্রম করা ছাড়া আমাদের উন্নতি করার কোনো পথ খোলা নেই।

ঠিকানাঃ

নামঃ মুহাম্মদ ইদ্রিছ হাছান

জেলাঃ নোয়াখালী

উপজেলাঃ কবিরহাট

ইউনিয়নঃ ৪নং ঘোষবাগ

ওয়ার্ড নংঃ ৮

গ্রামঃ পূর্বসোনাদিয়া।

ডাকঘরঃ কোম্পানির হাট।

পোস্ট কোডঃ৩৮০৭

মোবাইলঃ 01860791753

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.