ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : সেনবাগে মিছিলের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ৫ ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার যে অতীত আমাদের পথ দেখায় একমুঠো কবিতা।মু ইব্রাহিম খলিল জসিম। সব কিছু বিচ্ছিন্ন হতে চলেছে। মোহাম্মদ কুতুবউদ্দিন। কোম্পানীগঞ্জে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ১২১ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা চরহাজারী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করলেন ইমাম হোসেন সোহেল কবিরহাটে মেধার স্বীকৃতি: জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৫৫ শিক্ষার্থীকে ছাত্রদলের সম্মাননা যে দেশে সুযোগে সবাই চোর, সে দেশে কী করে উদিত হবে সোনালী ভোর? বক্তৃতার রাজনীতি, আমলা-নেতার স্বস্তি আর আমজনতার দীর্ঘশ্বাস ইউপি নির্বাচন: প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর, সাত ধাপে ভোটের প্রাথমিক পরিকল্পনা

যে অতীত আমাদের পথ দেখায়

যে অতীত আমাদের পথ দেখায়

যে অতীত আমাদের পথ দেখায়

যাঁদের ত্যাগ-কুরবানির ওপর দাঁড়িয়ে কোম্পানীগঞ্জের ইসলামী আন্দোলনের আজকের পথচলা

কিছু মানুষ সময়ের স্রোতে আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নেন, কিন্তু তাঁদের কর্ম, ত্যাগ, আদর্শ ও স্মৃতি কখনো হারিয়ে যায় না। বরং তাঁদের রেখে যাওয়া কর্মই পরবর্তী প্রজন্মের জন্য হয়ে ওঠে প্রেরণার উৎস। তাঁদের কথা মনে পড়লে হৃদয়ে জাগে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ।

কোম্পানীগঞ্জের ইসলামী আন্দোলনের পথচলায় এমন অনেক নিবেদিতপ্রাণ মানুষ ছিলেন, যাঁরা নীরবে-নিভৃতে দ্বীনের কাজ করে গেছেন। তাঁদের শ্রম, ত্যাগ, সময়, অর্থ, মেধা ও কুরবানির ধারাবাহিকতায় আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে এ অঞ্চলের ইসলামী আন্দোলন। আমরা যারা আজ এই পথের সঙ্গে সম্পৃক্ত, নিঃসন্দেহে তাঁদের রেখে যাওয়া কর্মেরই উত্তরসূরি।

সিরাজপুরের হাফেজ হাসান, মাহফুজ ভাই ও আবদুল হক; চরপার্বতীর হোসেন আহমেদ সালাফি; চরহাজারীর মাস্টার ফজলুর করিম; চরকাকড়ার মাওলানা আবদুর রহিম; রামপুরের মোশাররফ চেয়ারম্যান; মুছাপুরের প্রফেসর নুরুল ইসলাম সিদ্দিকী; চরফকিরার গোলাম মাওলা নানা; বসুরহাট পৌরসভার জাকির হোসেন; মাস্টার আবদুল গফুর, আবদুর রহমান ও মুনীরুল ইসলাম বকুল—এঁরা প্রত্যেকেই তাঁদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে ইসলামী আন্দোলনের কাজে অবদান রেখেছেন।

তাঁদের জীবনকে শুধু কয়েকটি নামের তালিকায় সীমাবদ্ধ করা যায় না। প্রত্যেকের জীবন, কর্ম ও ত্যাগের পেছনে রয়েছে আলাদা আলাদা গল্প; রয়েছে সংগ্রাম, প্রতিকূলতা, ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের ইতিহাস। তাঁদের অনেকেই ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সংগঠন, সমাজ ও দ্বীনের কল্যাণে নিজেদের সময় ও সামর্থ্য ব্যয় করেছেন।

আজকের প্রজন্ম হয়তো তাঁদের অনেককে সরাসরি দেখেনি। কিন্তু তাঁদের রেখে যাওয়া কর্মের প্রভাব এখনো অনুভব করা যায়। একটি সংগঠন এক দিনে গড়ে ওঠে না; এর পেছনে থাকে বহু মানুষের দীর্ঘদিনের শ্রম, ত্যাগ ও কুরবানি। তাই বর্তমানের সাফল্যের সঙ্গে অতীতের সেই মানুষগুলোর অবদান স্মরণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

আমরা তাঁদের অবদানের ফসল।

এই উপলব্ধি আমাদের অহংকার করার নয়; বরং দায়িত্বশীল হওয়ার শিক্ষা দেয়। তাঁরা যে জায়গা থেকে কাজ শুরু করেছিলেন, পরবর্তী প্রজন্মের দায়িত্ব হলো সেই আমানতকে আরও সুন্দরভাবে এগিয়ে নেওয়া—শুদ্ধতা, সততা, আমানতদারি, ভ্রাতৃত্ব ও মানুষের কল্যাণের মাধ্যমে।

তাঁদের ইতিহাস লিখতে গেলে হয়তো অনেক পৃষ্ঠা প্রয়োজন হবে। কারণ তাঁদের প্রত্যেকের জীবনই একেকটি ইতিহাস, একেকটি শিক্ষার অধ্যায়। তাঁদের স্মৃতি সংরক্ষণ, কর্মের মূল্যায়ন এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁদের অবদান তুলে ধরা সময়ের দাবি।

মৃত্যু মানুষকে আমাদের দৃষ্টির আড়াল করতে পারে, কিন্তু আদর্শবান মানুষের কর্মকে মুছে দিতে পারে না। তাঁদের রেখে যাওয়া ভালো কাজই তাঁদের জীবনের স্থায়ী স্মারক হয়ে থাকে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রয়াত প্রিয়জনদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন, তাঁদের কবরকে নূরে ভরে দিন, তাঁদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন এবং জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন।

সর্বোপরি, তাঁরা যে ভালো কাজ ও আদর্শ রেখে গেছেন, সেগুলো যথাযথভাবে আঞ্জাম দেওয়ার তাওফিক আমাদের দান করুন। তাঁদের ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করার এবং তাঁদের অসমাপ্ত ভালো কাজগুলোকে সুন্দরভাবে এগিয়ে নেওয়ার শক্তি ও সামর্থ্য দান করুন।

অতীত শুধু স্মরণ করার বিষয় নয়—অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ নির্মাণেরও প্রেরণা।

— মাওলানা মোশারফ হোসাইন

আমীর

বসুরহাট পৌরসভা জামায়াত,

কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.