ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : সেনবাগে মিছিলের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ৫ ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার যে অতীত আমাদের পথ দেখায় একমুঠো কবিতা।মু ইব্রাহিম খলিল জসিম। সব কিছু বিচ্ছিন্ন হতে চলেছে। মোহাম্মদ কুতুবউদ্দিন। কোম্পানীগঞ্জে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ১২১ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা চরহাজারী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করলেন ইমাম হোসেন সোহেল কবিরহাটে মেধার স্বীকৃতি: জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৫৫ শিক্ষার্থীকে ছাত্রদলের সম্মাননা যে দেশে সুযোগে সবাই চোর, সে দেশে কী করে উদিত হবে সোনালী ভোর? বক্তৃতার রাজনীতি, আমলা-নেতার স্বস্তি আর আমজনতার দীর্ঘশ্বাস ইউপি নির্বাচন: প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর, সাত ধাপে ভোটের প্রাথমিক পরিকল্পনা

বক্তৃতার রাজনীতি, আমলা-নেতার স্বস্তি আর আমজনতার দীর্ঘশ্বাস

বক্তৃতার রাজনীতি, আমলা-নেতার স্বস্তি আর আমজনতার দীর্ঘশ্বাস

বক্তৃতার রাজনীতি, আমলা-নেতার স্বস্তি আর আমজনতার দীর্ঘশ্বাস

“আমলা আর নেতাদের অবস্থা বেশ,

আমজনতার অবস্থা শেষ।”

রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য জনসেবা, আর সরকারি চাকরির মূল দায়িত্ব জনগণের সেবা নিশ্চিত করা। কিন্তু যখন রাজনীতি জনকল্যাণের পরিবর্তে ক্ষমতা অর্জনের হাতিয়ার হয়ে ওঠে এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা জবাবদিহির পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থের কাজে ব্যবহৃত হয়, তখন রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায় সাধারণ মানুষ।

নির্বাচনের আগে শোনা যায় জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি। দুর্নীতি বন্ধ হবে, সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে—এমন নানা স্লোগানে মুখরিত হয় জনপদ। কিন্তু ক্ষমতার পালাবদলের পর অনেক সময় দেখা যায়, প্রতিশ্রুতির চেয়ে ক্ষমতার হিসাবটাই বড় হয়ে ওঠে। যারা জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের কথা বলে ক্ষমতার মসনদে বসেন, তাদের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান ও প্রভাব প্রতিষ্ঠায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আর সাধারণ মানুষের জীবন থেকে যায় আগের জায়গাতেই—কখনো কখনো আরও গভীর অন্ধকারে।

দুর্নীতি শুধু ঘুষ নেওয়া বা সরকারি অর্থ আত্মসাতের নাম নয়। ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি, তদবির, অনিয়ম, সরকারি সম্পদের অপচয় এবং দায়িত্ব পালনে গাফিলতিও রাষ্ট্রের ভিত দুর্বল করে। এর খেসারত শেষ পর্যন্ত জনগণকেই দিতে হয়। একটি প্রকল্পে অনিয়ম মানে নিম্নমানের রাস্তা; একটি হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা মানে রোগীর দুর্ভোগ; একটি নিয়োগে অনৈতিক প্রভাব মানে একজন যোগ্য মানুষের অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া।

তবে সব রাজনীতিবিদ দুর্নীতিবাজ কিংবা সব সরকারি কর্মকর্তা অসৎ—এমন সাধারণীকরণও বাস্তবসম্মত নয়। প্রকৃত প্রশ্ন হলো, যে-ই ক্ষমতায় থাকুক, তার জবাবদিহি কতটা নিশ্চিত? আইন কি সবার জন্য সমান? অনিয়ম করলে ক্ষমতাবানও কি একইভাবে জবাবদিহির মুখোমুখি হন? রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কি ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করতে পারে?

একটি সভ্য রাষ্ট্রে নেতা জনগণের মালিক নন, জনগণের প্রতিনিধি। সরকারি কর্মকর্তা জনগণের ওপর কর্তৃত্ব করার জন্য নন, জনগণের সেবা করার জন্য নিয়োজিত। পদ-পদবি ব্যক্তিগত সম্পদ নয়; এগুলো জনগণের দেওয়া দায়িত্ব ও রাষ্ট্রের আমানত।

তাই দেশের পরিবর্তন শুধু বক্তৃতায় আসবে না, আসবে স্বচ্ছতা, সততা, আইনের সমান প্রয়োগ ও কার্যকর জবাবদিহির মাধ্যমে। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রমাণ কোনো স্লোগান নয়—একজন সাধারণ মানুষ ঘুষ, তদবির ও হয়রানি ছাড়াই রাষ্ট্রীয় সেবা পাচ্ছেন কি না, সেটিই তার প্রকৃত মাপকাঠি।

ক্ষমতার মসনদ চিরস্থায়ী নয়, পদ-পদবিও নয়। চিরস্থায়ী হয়ে থাকে মানুষের স্মৃতি। যারা ক্ষমতাকে জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করেন, মানুষ তাদের মনে রাখে; আর যারা জনগণের নামে ক্ষমতায় গিয়ে জনগণকেই ভুলে যান, ইতিহাস একদিন তাদের হিসাবও নেয়।

তাই সময় এসেছে বক্তৃতার রাজনীতির পাশাপাশি কাজের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার।

ক্ষমতার রাজনীতির পাশাপাশি জবাবদিহির সংস্কৃতি গড়ে তোলার।

কারণ রাষ্ট্রের প্রকৃত সাফল্য আমলা-নেতার স্বস্তিতে নয়—আমজনতার মুখের হাসিতে।

মোহাম্মদ উল্যা মিরাজ

বিশেষ প্রতিনিধি

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.