ইউপি নির্বাচন: প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর, সাত ধাপে ভোটের প্রাথমিক পরিকল্পনা
মোহাম্মদ উল্যা,
বিশেষ প্রতিনিধি
দেশের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের সময়সূচি নিয়ে প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনায় সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদের ভোট আয়োজনের কথা রয়েছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের ভোট ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপের ভোট ৩০ ডিসেম্বর এবং চতুর্থ ধাপের ভোট আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়া পঞ্চম ধাপের ভোট ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপের ভোট ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ও শেষ ধাপের ভোট ২৭ মে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে এসব তারিখকে এখনো চূড়ান্ত তফসিল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও তফসিল ঘোষণার পরই ভোটের তারিখ, মনোনয়ন দাখিল, যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহারসহ নির্বাচনী কার্যক্রমের বিস্তারিত সময়সূচি নিশ্চিত হবে।
ইউনিয়ন পরিষদ দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তর। গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন নাগরিক সেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা ও স্থানীয় বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে ইউপি নির্বাচন শুধু একটি ভোটের আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি তৃণমূল পর্যায়ে জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব নেতৃত্ব নির্বাচনের অন্যতম প্রধান সুযোগ।
বিশেষ করে দলীয় প্রতীকের বাইরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীর ব্যক্তিগত সততা, যোগ্যতা, জনসম্পৃক্ততা, নেতৃত্বের দক্ষতা ও দুর্নীতিমুক্ত মানসিকতাকে গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই ভোটারদের প্রত্যাশা—নির্বাচনে অর্থ, পেশিশক্তি কিংবা প্রভাবের পরিবর্তে যোগ্য ও সৎ প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং জনগণও বিবেচনা-বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।
ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী সাত ধাপে ভোট আয়োজন করা হলে ধাপে ধাপে তৃণমূলের দীর্ঘদিনের নির্বাচনপ্রত্যাশা পূরণের পথও তৈরি হবে। এখন সবার নজর নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার দিকে।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment