ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : প্রবাসের স্বপ্ন থেমে গেল ইতালির সড়কে বাস-স্কুটার সংঘর্ষে প্রাণ গেল ছাগলনাইয়ার জিয়াউর রহমান টিটুর শিষ্টাচার,সার্টিফিকেট নয়, মানুষের আসল পরিচয় কবি মুঃ ইব্রাহিম খলিল জসিম এর কবিতা। কোম্পানীগঞ্জে অনুমতিহীন ‘চায়না বাজার’ ঘিরে ক্ষোভ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি বসুরহাটে ‘চায়না মার্কেটের’ নামে ভ্রাম্যমাণ পণ্যের রমরমা বাণিজ্য, ক্ষতির মুখে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সেনবাগে ৩৪ বছরের শিক্ষকতা শেষে গিয়াস উদ্দিন স্যারকে অশ্রুসিক্ত বিদায় চরকাঁকড়ায় দ্যা ট্যালেন্ট ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত নোয়াখালীতে সার পাচার ও মাদক প্রবেশের আশঙ্কা, ডিলার নিয়োগে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি জামায়াত আমীরের নোয়াখালীতে দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারখানায় ডিবির অভিযান, বন্দুক ও সরঞ্জামসহ আটক ১ দাগনভূঞায় দক্ষিণ করিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত

বসুরহাটে ‘চায়না মার্কেটের’ নামে ভ্রাম্যমাণ পণ্যের রমরমা বাণিজ্য, ক্ষতির মুখে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা

বসুরহাটে ‘চায়না মার্কেটের’ নামে ভ্রাম্যমাণ পণ্যের রমরমা বাণিজ্য, ক্ষতির মুখে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা

বসুরহাটে ‘চায়না মার্কেটের’ নামে ভ্রাম্যমাণ পণ্যের রমরমা বাণিজ্য, ক্ষতির মুখে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা

মোহাম্মদ উল্যা

বিশেষ প্রতিনিধি

চড়া দামে নিম্নমানের পণ্য বিক্রির অভিযোগ, অনুমোদন ও ভোক্তা অধিকার তদারকির দাবি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র বসুরহাট পৌরসভায় ‘চায়না মার্কেট’ নাম ব্যবহার করে ভ্রাম্যমাণ মেলা ও অস্থায়ী দোকানের মাধ্যমে বিদেশি পণ্য বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। আকর্ষণীয় সাইনবোর্ড ও প্রচারণার আড়ালে নিম্নমানের পণ্য চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। এসব অস্থায়ী বাজারের কারণে প্রতিযোগিতায় টিকতে হিমশিম খাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসা স্থায়ী দোকানিরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সম্প্রতি বসুরহাট পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ ‘চায়না পণ্যের মেলা’ ও অস্থায়ী দোকান গড়ে উঠেছে। রঙিন সাইনবোর্ড, বাহারি প্রচারণা ও বিদেশি পণ্যের আকর্ষণীয় উপস্থাপনার মাধ্যমে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানে বিক্রি হওয়া পণ্যের গুণগত মান, আমদানি-সংক্রান্ত বৈধতা, মূল্য নির্ধারণ এবং বিক্রয়োত্তর দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বসুরহাটের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, এসব অস্থায়ী মেলা ও দোকানের কারণে স্থানীয় বাজারের স্বাভাবিক ব্যবসায়িক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। ক্রেতারা প্রচারণায় আকৃষ্ট হয়ে সেখানে গেলেও পণ্যের মান ও দামের বিষয়ে যথাযথ তথ্য পাচ্ছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এতে ক্রেতাদের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মো. রাসেল অভিযোগ করেন, স্থায়ী ব্যবসায়ীদের দোকানভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারীদের বেতনসহ নিয়মিত পরিচালন ব্যয় বহন করতে হয়। পাশাপাশি সরকারি নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা ও প্রযোজ্য রাজস্ব পরিশোধ করতে হয়। অথচ অস্থায়ী এসব দোকান ও মেলার ক্ষেত্রে একই ধরনের নিয়মনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাঁর দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের কারণে স্থানীয় দোকানগুলোর বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা স্বাভাবিক বিষয়। তবে সেই প্রতিযোগিতা হতে হবে সমান সুযোগ, বৈধ অনুমোদন, স্বচ্ছ মূল্য নির্ধারণ এবং পণ্যের মান নিশ্চিত করার ভিত্তিতে। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি এসব নিয়মের বাইরে থেকে ব্যবসা পরিচালনা করে, তাহলে তা স্থানীয় অর্থনীতি ও নিয়ম মেনে ব্যবসা করা উদ্যোক্তাদের জন্য অসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

এদিকে, ক্রেতাদের স্বার্থ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁদের মতে, কোনো পণ্য বিদেশি বা চায়না পণ্য হিসেবে পরিচিত হলেই সেটি উন্নতমানের কিংবা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির যৌক্তিকতা তৈরি হয় না। পণ্যের গুণগত মান, নির্ধারিত মূল্য, ক্রয় রসিদ এবং ত্রুটিপূর্ণ পণ্যের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা জরুরি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকেরা এসব অস্থায়ী মেলা ও দোকানের অনুমোদন, ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট-ট্যাক্স এবং অন্যান্য প্রযোজ্য কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাজার তদারকি, পণ্যের মান পরীক্ষা এবং অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

তাঁদের দাবি, বসুরহাটের ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের দায়িত্বশীল নজরদারি প্রয়োজন। তবে কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে কেবল অস্থায়ী কিংবা ভ্রাম্যমাণ হওয়ার কারণে হয়রানি না করে আইন, অনুমোদন ও ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এতে একদিকে নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনাকারী স্থানীয় উদ্যোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা পাবে, অন্যদিকে প্রতারণা ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের ঝুঁকি থেকে সাধারণ ক্রেতারাও সুরক্ষা পাবেন।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.