ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : 'পশ্চিমা শক্তির কাছে খোমেনীর ইরান মাথা নত করেনি করবে না' দাগনভূঞায় ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ উদ্যোগে শীতার্ত পরিবারে মাঝে কম্বল বিতরণ: জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা রাজনৈতিক ফিলোসফি ও সংঘটনের অভ্যন্তরীণ আদর্শিক অবকাঠামো পরিবর্তন : 'সাদা অ্যাপ্রনের নীরব আলো' 'আলোর পথে চিকিৎসক ফরিদুল ইসলামের জীবনযাত্রা' 'শতবর্ষী তাকিয়া জামে মসজিদের নিচ তলায় মার্কেট নির্মানের চেষ্টা' দাগনভূঞায় সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১ আহত ৬: জাতীয় সড়ক যোদ্ধা পুরস্কারে ভূষিত দাগনভূঞার সাংবাদিক সোহেল: নির্বাচন কমিশনের যাচাইয়ে উত্তীর্ণ জামায়াত প্রার্থী নোয়াখালী-৫ এ উৎসবমুখর পরিবেশ : গণতন্ত্র রক্ষায় বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অবিস্মরনীয়' কোম্পানীগঞ্জে মোঃ ফখরুল ইসলাম :

'বসুরহাটে দিন রাত যানজটে অতিষ্ঠ কোম্পানীগঞ্জবাসী' দ্রুত সমাধানে ইউএনও এর হস্তক্ষেপ কামনা :

'বসুরহাটে দিন রাত যানজটে অতিষ্ঠ কোম্পানীগঞ্জবাসী' দ্রুত সমাধানে ইউএনও এর হস্তক্ষেপ কামনা :

'বসুরহাটে দিন রাত যানজটে অতিষ্ঠ কোম্পানীগঞ্জবাসী'

দ্রুত সমাধানে ইউএনও এর হস্তক্ষেপ কামনা :

মোঃ আল এমরান:

নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জের অর্থনৈতিক স্পন্দন বসুরহাট বাজার। প্রতিদিনই হাজারো মানুষের

পদচারণায় মুখর থাকে বাজার ও আশপাশের সড়ক।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এখানে মানুষের উপস্থিতি, কেনাবেচা,সব কার্যক্রম চলে বিরামহীনভাবে।

কিন্তু এই সবকিছুর মাঝেই জমে আছে এক ভয়ঙ্কর অরাজকতা দিন রাত লেগে থাকা ভয়াবহ যানজট,

যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে অসহনীয় করে তুলছে।বসুরহাট বাজারের প্রধান সড়কগুলোতে প্রায় সারা বছরই দেখা যায় একটাই দৃশ্য দাঁড়িয়ে থাকা

অটোরিকশার সারি,যত্রতত্র হোন্ডা ও মোটরসাইকেল,

রাস্তার মাঝখান দখল করে থাকা হ্যান্ডট্রলি,মালামাল ওঠা নামার নামে ট্রাকের বেপরোয়া অবস্থান,

পথচারীদের ঠেলাঠেলির মতো দীর্ঘ যানজট।

এই অরাজকতায় প্রতিদিনই বিঘ্ন ঘটে মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে। কর্মজীবীরা অফিসে দেরি করে, স্কুল,কলেজগামী শিক্ষার্থীরা নিয়মিত দেরিতে পৌঁছে

ক্লাসে, ক্রেতারা বিরক্ত হয়ে বাজার না করেই ফিরতে বাধ্য হয়।সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় যখন অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি যান এই যানজটে আটকে পড়ে।

একবার যানজটে পড়লে ৫ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে লাগে ২০ মিনিট।যানজটের হটস্পট যেখানে থমকে থাকে বসুরহাট পৌরসভা।প্রতিদিন সবচেয়ে বেশি যানজট লাগে

নিচের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে,১.গরু বাজার থেকে হলরোড হয়ে চৌধুরীহাট সিএনজি স্টেশন,সেখানে সিএনজির যাএীরা সড়কের মাঝে উঠা নামা করে,কাঠের স মিল ও কাঠ ব্যবসার কারবার ঐ সড়কের পাশে বিধায় বড় বড় ট্রাক,লরীর যাতায়াতের কারনে যানজট থাকে।সব মিলিয়ে এখানে স্থায়ী যানজট তৈরি হয়।

৩. হল রোড হতে লালুর বাপের মাজার হয়ে কাঁচা বাজার, মন্দির রোড যা নিত্য দিনের চিরচেনা যানজট।

৩.কলেজ রোড থেকে রুপালি চত্বর সড়কে মাঝে উওর পাশে প্রবেশ মুখে জুবলী রোড হতে বিভিন্ন যানবাহন বিশেষ করে ট্রলি, মিনি ট্রাক চলাচলে দুর্বিষহ যানজট সৃষ্টি হয়।

পৌরসভায় অটোরিকশা দাঁড় করানোর নির্দিষ্ট স্থান নেই। ফলে চালকেরা যেখানে সুযোগ পায়, সেখানে স্টান্ড বানিয়ে নেয়।যেখানে সেখানে গাড়ি রেখে যাত্রী তোলে।পৌরসভার বসুরহাটে প্রয়োজনের বেশি অটোরিকশার কারনে যানজটের প্রধান সমস্যা মনে করেন অনেক পথচারী,বসুরহাটের ব্যবসায়ীগন। অভিযোগ ও মন্তব্যও করছেন সাধারন মানুষ।

৪.পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে জিরো পয়েন্ট,সারাদিনই যানচাপ থাকে। এখানে সরকারী বেসরকারি হাসপাতাল, উপজেলা প্রশাসন, থানা অবস্থিত, ব্যস্ত সময়ে গাড়ি মানুষ মিশে একাকার হয়ে যায়।

৫.করলিয়া রোড থেকে জিরো পয়েন্ট জেলা শহর মাইজদী সড়ক বিধায় সব সময় সিএনজি রাস্তায় স্টান্ড করেছে। সিএনজির রাখার কারনে সড়কটিতে যান জট লেগেই থাকে।

৬.বসুরহাট বাস স্টেশন যাহা দাগনভুইয়া-ফেনী সড়ক বুড়ি মসজিদ থেকে নিত্যানন্দ মোড়,পর্যন্ত হ্যান্ডট্রলি,

পিকআপ, বাস,বড় ট্র্যাক স্থানীয় পরিবহন সব মিলিয়ে এখানে প্রতিদিনই যানজটের চিএ ।এসব পয়েন্টে দিনে তো বটেই, মধ্যরাতেও এক ধরনের ধীরগতির যানজট দেখা যায়, যা এলাকায় স্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিগত দিনে কর্তৃপক্ষ বাইপাস সড়ক নির্মান,খালের উপর পথচারীদের জন্য বিকল্প রাস্তা, প্রধান সড়ক প্রশস্তকরন করেও কিন্তু যানযটের চিএ কমেনি মনে করেন বিশ্লেষকগন।

যানজটের মূল কারণ স্পষ্ট কিন্তু দীর্ঘদিন উপেক্ষিত। যেসব কারনে যানজট হয়,

১. নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড না থাকায় অটোরিকশা, হোন্ডা, মোটরসাইকেল,সব যানই রাস্তার উপর দাঁড় করানো হচ্ছে।

২. পার্কিংয়ের অভাবে কোনো নির্দিষ্ট পার্কিং না থাকায় চালকেরা রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে গাড়ি রেখে চলে যাচ্ছে।

৩. ট্রাফিক পুলিশের অভাবে ব্যস্ত সময়েও অনেক স্থানে ট্রাফিক পুলিশ দেখা যায় না। ফলে চালকেরা নিজের নিয়মে চলে।

৪. ব্যবসায়ীদের চাপ ব্যবসায়ীরা সুবিধার জন্য ট্রাককে বাজারের ভেতরে ঢুকতে দেন, যা যানজটকে দিন রাতে স্থায়ী করেছে।

৫. জনসচেতনতার অভাব সাধারণ মানুষ, চালক ও দোকানদার কেউই নিয়ম মেনে চলতে আগ্রহী না।দিন রাত চলমান এই সংকটে

মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন সময় নষ্ট করছে,কার্যক্রমে ব্যাঘাত ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত। হাসপাতালে রোগী সেবা বিঘ্ন, জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্স আটকে যাওয়ায় প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

বসুরহাট বাজার কোম্পানীগঞ্জের হৃৎস্পন্দন হলেও যানজট সেই স্পন্দনকে প্রতিদিন ক্ষতিগ্রস্ত করছে।সমস্যা যত বড়ই হোক, সমাধান অসম্ভব নয়। প্রয়োজন

যৌথ উদ্যোগ ও কঠোর বাস্তবায়ন। এ পদক্ষেপ নিলে

অনেকটাই যানজট নিরসন হবে বলেন পৌরবাসী,

১. অটোরিকশা হোন্ডার জন্য বাজারের বাইরে নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড স্থাপন এটা বাস্তবায়ন হলে ৪০% জট কমে যাবে।

২. ট্রাক প্রবেশের সময় নির্ধারণ ভোর বা গভীর রাত

এই সময় ছাড়া কোনো ট্রাক বাজারে ঢুকতে পারবে না।

৩. বাজারে হ্যান্ডট্রলি ও ভ্যানের জন্য আলাদা লেন

এতে বাজারের ভেতর এলোমেলো চলাচল কমবে।

৪. ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি ও নিয়মিত টহল

ব্যস্ত সময়ে কোণায় কোণায় মোতায়েন করতে হবে।

৫. দোকানদার চালকদের নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য করতে হবে।বাজার কমিটি ও প্রশাসন যৌথভাবে তা কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে পারে।

৬. জনগণকে সচেতন করতে বিশেষ প্রচারাভিযান

পোস্টার, মাইকিং, সভা, সব মাধ্যমে সচেতনতা তৈরি অত্যাবশ্যক।

কোম্পানীগঞ্জবাসীর আহ্বান নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রতি এলাকায় সাধারণ মানুষের একটাই প্রত্যাশা বসুরহাটকে যানজটের অভিশাপ

থেকে মুক্ত করুন। এ অঞ্চলের উন্নয়ন, ব্যবসা বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা সব কিছুর সঙ্গে বাজারের স্বাভাবিক চলাচল জড়িত। যদি দ্রুত সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তবে প্রতিদিনের মতো ভবিষ্যতেও মানুষকে এই ভোগান্তি বয়ে বেড়াতে হবে।

বসুরহাট বাজার শুধু একটি ব্যবসা কেন্দ্র নয়,এটি কোম্পানীগঞ্জের অর্থনীতি, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু দিন রাত লেগে থাকা যানজট সেই প্রাণচাঞ্চল্যকে প্রতিদিন ম্লান করে দিচ্ছে।

তাই এখনই প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ, প্রশাসনিক কঠোরতা এবং সচেতনতার বর্ধন।যানজটমুক্ত বসুরহাট মানেই সক্রিয়, সজীব, চলমান কোম্পানীগঞ্জ।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.