হাজ্বী আবুল খায়ের দাখিল মাদরাসায় পাঠ পরিকল্পনা, দোয়া ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত:
নব জ্যোতি অনলাইন পোর্টাল নিউজ ডেস্ক:
হেমন্তের সোনালি ছোঁয়ায় ভেজা কুয়াশাচ্ছন্ন এক শান্ত সকালে ২৯ নভেম্বর শনিবার সকাল ১০ টায় হাজ্বী আবুল খায়ের দাখিল মাদরাসা প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক আনন্দমুখর, সজীব ও আলোকিত মিলনমেলায়।
সমাপনী পরীক্ষার্থী শিক্ষার্থীদের জন্য দোয়া, নতুন শিক্ষাবর্ষ ২০২৬–এর পাঠ পরিকল্পনা উপস্থাপন এবং সম্মানিত অভিভাবকদের নিয়ে এক উষ্ণ সমাবেশ
অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, অতিথি ও শিক্ষক সবার উপস্থিতিতে প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে মঙ্গল স্তবকের মতো কলরবে।
পবিএ আল কোরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়, অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাদরাসার মোহতামিম মাওলানা মোহাম্মদ আমীর আলী।
সমাবেশে বক্তারা পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে ইসলামি শিক্ষার গুরুত্ব আরোপ করে মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন।
পবিত্র কুরআনের প্রথম নির্দেশ,পড় তোমার প্রভুর নামে,উদ্ধৃত করে বক্তারা বলেন, আল্লাহ মানুষকে জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে মর্যাদা দান করেছেন।
হাদিসে এসেছে, প্রত্যেক মুসলিম নর নারীর উপর দ্বীনি বিদ্যা অর্জন করা ফরজ। এ কথাটি শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা হয়।
মাসিক নব জ্যোতি পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ আল এমরান তার বক্তব্যে বলেন,শিক্ষা শুধু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যম নয়, এটি মানুষকে
আলোকিত করে, সু নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। এ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা যেভাবে দ্বীনি ইলমের কাজ করেছেন, তা পরকালীন মুক্তির সাদকা জারিয়া হয়ে
থাকবে।তিনি বিশেষ করে মায়েদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন,যারা একজন শিক্ষার্থীর প্রথম শিক্ষক, প্রথম দিশারী, প্রথম অনুপ্রেরণা।
মাদরাসার মোহতামিম মাওলানা মোঃ আমির আলী বলেন,যিনি এ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন, তিনি শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেননি,সমাজে জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালিয়েছেন।
তার দান, তার ত্যাগ আজ সমাজকে আলোকিত করছে। তিনি মরহুম প্রতিষ্ঠাতা আমিরুল হকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন,আল্লাহ তার কবরকে জান্নাতের বাগান বানিয়ে দিন।
প্রধান অতিথি ও সভাপতি কাউসার আলম বায়তুল আবেগঘন ভাষায় শিক্ষার্থীদের প্রতি গভীর মমতা প্রকাশ করে বলেন,এই কচিকাঁচা ছেলেমেয়েরা
আগামী দিনের আলোকবর্তিকা। তাদের আদর্শবান, ন্যায়পরায়ণ ও সু শিক্ষিত নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের দায়িত্ব।তিনি বিশেষভাবে মায়েদের
গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন,একজন মা ই সন্তানের প্রথম শিক্ষক। একজন সচেতন মা ই একটি সমাজকে আলোকিত করতে পারে।তিনি আরও বলেন,
যদিও এ প্রতিষ্ঠান আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি, কিন্তু এর মালিকানা জনগণের। এটি আপনাদের, আমাদের, সমাজের সবার। তাই মাদরাসার মানোন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
মাদরাসার কার্যকরী কমিটি উদ্যগে ইবতেদায়ী ৫ম শ্রেণির বিদায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেন সম্মানিত অতিথিবৃন্দ। শিক্ষার্থীদের মুখে আনন্দ, অভিভাবকদের চোখে তৃপ্তির দীপ্তি এক মানবিক পরিবেশ তৈরি হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদরাসার কার্যকরী কমিটির সভাপতি জনাব, কাউসার আলম বায়তুল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাসিক নব জ্যোতি পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ আল এমরান।মাদরাসার মোহতামিম মাওলানা মোঃ আমির আলী। আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ইয়াসিন পাটোয়ারী, স্টেশন মাস্টার আবু ছায়েদ, স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক শাহাজাহান,
সৌদি প্রবাসী অভিভাবক আব্দুস শহীদ, সমাজসেবক আব্দুল্লাহ, সহকারী শিক্ষক হাফেজ মনির হোসেন, শিক্ষক ইমরান তাহের লিটন এবং চরপার্বতীর ৭নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আব্দুস সাওার (আব্দুল্ল্যাহ)।
ইবতেদায়ী ৫ম শ্রেণির বিদায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেন সম্মানিত অতিথিবৃন্দ। শিক্ষার্থীদের মুখে আনন্দ, অভিভাবকদের চোখে তৃপ্তির দীপ্তি এক মানবিক পরিবেশ তৈরি হয়।
পরিশেষে প্রধান মোহতামিম মাওলানা মোঃ আমির আলী এক হৃদয়স্পর্শী দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন। সভাপতি কাউসার আলম বায়তুল সমাবেশের
সমাপ্তি ঘোষণা করে আগামী দিনের আরও সুন্দর, শিক্ষামুখী ও নৈতিকতাপরিপূর্ণ সমাজ গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
হেমন্তের সোনালি আলোয় ভেজা সেই সকালের মতোই এ সমাবেশ শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে জ্ঞানের মশাল জ্বালিয়ে, নতুন বছরের পথচলায় অনুপ্রেরণার নকশা এঁকে যায়।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment