ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : রসুলপুর ইউনিয়নকে আধুনিক ও উন্নত জনপদ গড়ার প্রত্যয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী নুর নবী চৌধুরী বসুরহাট পৌরসভার মেয়র পদে আবদুল্লাহ আল মামুনকে দেখতে চায় পৌরবাসী কোম্পানীগঞ্জে ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্রাজেডি দিবসে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সেনবাগ হাসপাতালে যানজট নিরসনে আনোয়ার উল্লাহ আজাদের উদ্যোগ, মানসম্মত সেবার তাগিদ নোয়াখালীতে ডিবির অভিযানে ২৫ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার সনদ নয়, সুশিক্ষা ও নৈতিকতা গড়ার প্রত্যয়ে ফয়জুন্নেছা আহমেদ ফাউন্ডেশন মাল্টিলিঙ্গোয়াল স্কুল এন্ড কলেজ প্যারিস খাল বাঁচাতে মাঠে তরুণরা, ফুটস্টেপসের সঙ্গে তিন দিনের অভিযানে গো আপ ফাউন্ডেশন বৃত্তি পরীক্ষার শিক্ষার্থীদের প্রতি অ্যাড.মুহাম্মদ ইউনুস সুমনের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন কোম্পানীগঞ্জে দাম্পত্য কলহের জেরে থানার গেটের সামনে সংঘর্ষ, আটক ৫ শীতের আগে ত্বক, শরীর ও ঘরের যত্নে আগাম প্রস্তুতি

কোম্পানীগঞ্জে ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্রাজেডি দিবসে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

কোম্পানীগঞ্জে ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্রাজেডি দিবসে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

কোম্পানীগঞ্জে ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্রাজেডি দিবসে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

লগি-বৈঠা দিয়ে হত্যাকাণ্ডের বিচার ও শেখ হাসিনাসহ জড়িতদের শাস্তির দাবি

নব জ্যোতি রিপোর্ট ডেস্ক:

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্রাজেডি দিবস উপলক্ষে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ও বসুরহাট পৌরসভা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনে লগি-বৈঠা দিয়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

বিকেলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আরডি শপিং মলের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নোয়াখালী জেলা জামায়াতে ইসলামীর শুরা সদস্য ও নোয়াখালী-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী বেলায়েত হোসেন।

এ সময় বক্তব্য দেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, বসুরহাট পৌরসভা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোশাররফ হোসেন এবং চরপার্বতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির কাজী মো. হানিফ আনসারী।

এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনে লগি-বৈঠা দিয়ে প্রকাশ্যে মানুষ হত্যা করা হয়েছিল। ওই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এখনো নিশ্চিত হয়নি। বাংলার মাটিতে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, পল্টন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলো পুনরায় চালু করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। শেখ হাসিনাসহ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।

তাঁরা বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে ছোট দল হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দলটি ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। দেশে ফ্যাসিবাদী রাজনীতির কোনো স্থান হতে পারে না। অতীতে মানুষকে নির্যাতন-নিপীড়ন ও বাক্‌স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।

বক্তারা আরও বলেন, “হাসিনা আর ফিরে আসবে না। তাঁর রাজনীতির পরিসমাপ্তি ঘটেছে।” তাঁরা দেশে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সমাবেশে বক্তারা ২৮ অক্টোবরের ঘটনাকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি রক্তাক্ত অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

পল্টন ট্রাজেডির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি রক্তাক্ত ও আলোচিত দিন। তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

তৎকালীন প্রধান বিচারপতি কে এম হাসানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধী দল তাঁর নিয়োগের বিরোধিতা করে।ওই দিন রাজধানীর বায়তুল মোকাররম ও পল্টন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর পাল্টাপাল্টি সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষে লগি-বৈঠাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তোলে।পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি অবস্থা জারি হয় এবং সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। ২৮ অক্টোবরের ঘটনাকে দেশের রাজনৈতিক সংকটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

কোম্পানীগঞ্জে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে পল্টন ট্রাজেডি দিবস উপলক্ষে প্রতিবাদ জানিয়ে হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.