রসুলপুর ইউনিয়নকে আধুনিক ও উন্নত জনপদ গড়ার প্রত্যয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী নুর নবী চৌধুরী
মোহাম্মদ উল্যা
বিশেষ প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১৩ নম্বর রসুলপুর ইউনিয়নকে আধুনিক, উন্নত ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নুর নবী চৌধুরী। ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে তিনি স্থানীয় ভোটারদের দোয়া ও সমর্থন কামনা করেছেন।
নুর নবী চৌধুরী জানান, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে রসুলপুর ইউনিয়নের অবকাঠামোগত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেবেন। বিশেষ করে ইউনিয়নের রাস্তাঘাট পাকাকরণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করবেন। পাশাপাশি ইউনিয়নের কোনো মানুষ বিপদে পড়লে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং সাধ্য অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গে নুর নবী চৌধুরী জানান, ১৯৮৭-১৯৮৮ সালের দিকে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি রসুলপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর দাবি, ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনে কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে পরপর তিনবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি।
২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথাও উল্লেখ করেন নুর নবী চৌধুরী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি প্রায় ৭০০ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। পরে প্রশাসন ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ভোটকেন্দ্র দখল করে তাঁর বিজয় ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও নির্ভরযোগ্য নথিপত্রের ভিত্তিতে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
নুর নবী চৌধুরী আরও জানান, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তিনি একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন এবং চারবার কারাবরণ করেছেন বলে দাবি করেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের এসব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার চেষ্টা করেছেন।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি স্থানীয় সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক কার্যক্রমেও যুক্ত থাকার কথা জানান তিনি। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রসুলপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ লতিফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এ ছাড়া দুর্গাপূজা উপলক্ষে ইউনিয়নের পাঁচটি পূজামণ্ডপে সার্বিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বও পালন করেছেন বলে জানান। এ ক্ষেত্রে নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য বরকত উল্লা বুলুর নির্দেশনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
নুর নবী চৌধুরীর মতে, একটি ইউনিয়নের প্রকৃত উন্নয়ন শুধু রাস্তাঘাট নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, নাগরিক সেবা এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নির্বাচিত হলে দল-মতনির্বিশেষে ইউনিয়নের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নুর নবী চৌধুরী রসুলপুর ইউনিয়নের সম্মানিত নারী-পুরুষ ভোটারদের দোয়া, সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেছেন। তাঁর ঘোষিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং জনসম্পৃক্ততার অঙ্গীকার ভোটারদের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্যতা পায়, তা নির্ধারিত হবে নির্বাচনী পরিস্থিতি ও ভোটারদের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment