ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : সেনবাগ হাসপাতালে যানজট নিরসনে আনোয়ার উল্লাহ আজাদের উদ্যোগ, মানসম্মত সেবার তাগিদ নোয়াখালীতে ডিবির অভিযানে ২৫ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার সনদ নয়, সুশিক্ষা ও নৈতিকতা গড়ার প্রত্যয়ে ফয়জুন্নেছা আহমেদ ফাউন্ডেশন মাল্টিলিঙ্গোয়াল স্কুল এন্ড কলেজ প্যারিস খাল বাঁচাতে মাঠে তরুণরা, ফুটস্টেপসের সঙ্গে তিন দিনের অভিযানে গো আপ ফাউন্ডেশন বৃত্তি পরীক্ষার শিক্ষার্থীদের প্রতি অ্যাড.মুহাম্মদ ইউনুস সুমনের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন কোম্পানীগঞ্জে দাম্পত্য কলহের জেরে থানার গেটের সামনে সংঘর্ষ, আটক ৫ শীতের আগে ত্বক, শরীর ও ঘরের যত্নে আগাম প্রস্তুতি কোম্পানীগঞ্জে ইউপি নির্বাচন ঘিরে সরব রাজনীতি, প্রচারণায় ব্যস্ত সম্ভাব্য প্রার্থীরা চরপার্বতীতে আল ফালাহ্ ফরায়েজিয়া মাদ্রাসার নতুন ভবনের নির্মাণকাজ উদ্বোধন অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ততায় আলোচনায় চরপার্বতীর সাবেক চেয়ারম্যান"নুরুল আমিন"

সনদ নয়, সুশিক্ষা ও নৈতিকতা গড়ার প্রত্যয়ে ফয়জুন্নেছা আহমেদ ফাউন্ডেশন মাল্টিলিঙ্গোয়াল স্কুল এন্ড কলেজ

সনদ নয়, সুশিক্ষা ও নৈতিকতা গড়ার প্রত্যয়ে ফয়জুন্নেছা আহমেদ ফাউন্ডেশন মাল্টিলিঙ্গোয়াল স্কুল এন্ড কলেজ

সনদ নয়, সুশিক্ষা ও নৈতিকতা গড়ার প্রত্যয়ে ফয়জুন্নেছা আহমেদ ফাউন্ডেশন মাল্টিলিঙ্গোয়াল স্কুল এন্ড কলেজ

মোহাম্মদ উল্যা

বিশেষ প্রতিনিধি

শৃঙ্খলা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে আদর্শ প্রজন্ম গড়ার প্রত্যয়

শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন কিংবা সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জ্ঞান, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ মানুষ গড়ে তোলা। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী জ্ঞান ও নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তোলার প্রত্যয়ে কাজ করছে ফয়জুন্নেছা আহমেদ ফাউন্ডেশন মাল্টিলিঙ্গোয়াল স্কুল এন্ড কলেজ।

প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রমের মূল দর্শন—‘যাহা বলিব তাহা করিব, যাহা করিতে পারিব না, তাহা বলিব না।’ এই অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে কথা ও কাজের সামঞ্জস্য, সততা এবং দায়িত্বশীলতার যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিজীবন ও ভবিষ্যৎ গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো নিয়মিত শারীরিক প্রশিক্ষণ বা পিটি। প্রতিদিনের পাঠদান শুরুর আগে শিক্ষার্থীদের সারিবদ্ধভাবে পিটিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সময়ানুবর্তিতা, নিয়ম মেনে চলা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। নিয়মিত এ অনুশীলন শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও কর্মস্পৃহা বৃদ্ধিতেও সহায়ক হতে পারে।

শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শ্রেণিকক্ষে কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করাও প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম অগ্রাধিকার। প্রচলিত পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যাতে বাংলা, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে শ্রেণিভিত্তিক প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে, সে লক্ষ্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে বিষয়বস্তু বুঝে শেখা এবং বাস্তব জীবনে অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগের সক্ষমতা তৈরির বিষয়টিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা দর্শনে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের জন্য কুরআন শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি আরবি ভাষা ও সাহিত্যচর্চার সুযোগ রাখার মাধ্যমে ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি ভাষাগত দক্ষতা বিকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশা, সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সমন্বয় শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল, সৎ ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে একজন শিক্ষার্থীর সাফল্য শুধু পরীক্ষার ফলাফলে নির্ধারিত হয় না। তার যোগাযোগদক্ষতা, যুক্তিবোধ, আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা, নৈতিক অবস্থান এবং বাস্তব সমস্যা সমাধানের সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব শুধু পাঠ্যবই শেষ করা নয়; বরং শিক্ষার্থীদের এমনভাবে প্রস্তুত করা, যাতে তারা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে এবং পরিবার, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়।

এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের আন্তরিকতা, অভিভাবকদের সচেতন অংশগ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অনুশীলনের সমন্বয় অপরিহার্য। একই সঙ্গে শিক্ষার মান ধরে রাখতে নিয়মিত মূল্যায়ন, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি সহযোগিতা, নিরাপদ ও শিশুবান্ধব পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।

ফয়জুন্নেছা আহমেদ ফাউন্ডেশন মাল্টিলিঙ্গোয়াল স্কুল এন্ড কলেজের ঘোষিত লক্ষ্য কেবল শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করা নয়; বরং জ্ঞান, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও দক্ষতার সমন্বয়ে একটি আদর্শ প্রজন্ম গড়ে তোলা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা, কার্যকর পাঠদান এবং শিক্ষার গুণগত মানের নিয়মিত মূল্যায়নই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সুশিক্ষিত, নৈতিক ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গঠনের এই প্রয়াস সফল করতে প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত ভূমিকা অপরিহার্য। কারণ, একটি মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলে না; বরং আলোকিত সমাজ ও সমৃদ্ধ দেশ নির্মাণেও অবদান রাখে।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.