ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : কোম্পানীগঞ্জে ইউপি নির্বাচন ঘিরে সরব রাজনীতি, প্রচারণায় ব্যস্ত সম্ভাব্য প্রার্থীরা চরপার্বতীতে আল ফালাহ্ ফরায়েজিয়া মাদ্রাসার নতুন ভবনের নির্মাণকাজ উদ্বোধন অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ততায় আলোচনায় চরপার্বতীর সাবেক চেয়ারম্যান"নুরুল আমিন" দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় চরপার্বতীর চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী "একরামুল হক মিলন" কোম্পানীগঞ্জে সৈয়দিয়া আজগর আলি দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষক বিদায় ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা মানুষের খেদমতই লক্ষ্য, বসুরহাট পৌরসভার মেয়র প্রার্থী হতে চান হাকিম শহীদ উল্লাহ গো আপ ফাউন্ডেশন ও ফুটস্টেপস বাংলাদেশের উদ্যোগে ৬০০ স্বেচ্ছাসেবীর অংশগ্রহণে বসিলার ৪০ ফিট খাল পুনরুদ্ধার চরহাজারীতে ‘হাজারীবাসা মিনিবার ফুটবল প্রিমিয়ার লীগ-২০২৬’-এর জমকালো গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত মেয়ে হলো মায়ার কানন। আল হেলাল বসুরহাটে মেধা বিকাশ বৃত্তি পরীক্ষা শনিবার, অংশ নেবে ২,২৮৭ শিক্ষার্থী

কোম্পানীগঞ্জে ইউপি নির্বাচন ঘিরে সরব রাজনীতি, প্রচারণায় ব্যস্ত সম্ভাব্য প্রার্থীরা

কোম্পানীগঞ্জে ইউপি নির্বাচন ঘিরে সরব রাজনীতি, প্রচারণায় ব্যস্ত সম্ভাব্য প্রার্থীরা

কোম্পানীগঞ্জে ইউপি নির্বাচন ঘিরে সরব রাজনীতি, প্রচারণায় ব্যস্ত সম্ভাব্য প্রার্থীরা

বিএনপিতে মনোনয়ন ঘিরে বহুমুখী তৎপরতা, আওয়ামী লীগে নীরব কোন্দল; সাংগঠনিক ঐক্যে এগিয়ে থাকার দাবি জামায়াতের

মোহাম্মদ উল্যা

নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ক্রমেই বাড়ছে। পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে হাটবাজার, চায়ের দোকান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই এখন নির্বাচনী আলোচনা। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, অসুস্থ মানুষের খোঁজখবর নেওয়া, দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ঘরোয়া বৈঠকের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। নির্বাচন সামনে রেখে বাড়ছে চা-চক্র, উঠান বৈঠক ও সামাজিক যোগাযোগের পরিধি। একই সঙ্গে আলোচনায় আসছে দলীয় মনোনয়ন, সাংগঠনিক ঐক্য, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও প্রার্থীদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলো।

নির্বাচনী পরিবেশ ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল বাড়ছে। দীর্ঘদিন খোঁজ না নেওয়া অনেক পরিচিত মুখের আনাগোনা যেমন বেড়েছে, তেমনি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের প্রতিও সম্ভাব্য প্রার্থীদের আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে। কোথাও চলছে সৌজন্য সাক্ষাৎ, কোথাও ঘরোয়া বৈঠক, আবার কোথাও ভোটের সমীকরণ নিয়ে হিসাব-নিকাশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার, সমর্থকদের বক্তব্য এবং নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের নানা উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। তবে এসব অনানুষ্ঠানিক জরিপ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা প্রকৃত ভোটের ফলাফল নির্ধারণের নির্ভরযোগ্য মাপকাঠি নয়।

বিএনপিতে মনোনয়ন ঘিরে প্রতিযোগিতা

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর তৎপরতা দলটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে আলোচনায় এনেছে। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ, সমর্থন আদায় এবং সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াচ্ছেন। একাধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা দলটির জন্য যেমন নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করছে, তেমনি অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও ঐক্য ধরে রাখার চ্যালেঞ্জও সামনে আনছে।

স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় বিভাজন, নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা এবং মনোনয়নকেন্দ্রিক টানাপোড়েন নিয়ে আলোচনা রয়েছে। তবে এসব বিরোধের প্রকৃত মাত্রা ও প্রভাব নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন। মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, তৃণমূলের মতামতের গুরুত্ব এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই বিএনপির নির্বাচনী কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আওয়ামী লীগের প্রকাশ্য তৎপরতা সীমিত, আলোচনায় অভ্যন্তরীণ বিভাজন

অন্যদিকে কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রকাশ্য নির্বাচনী তৎপরতা তুলনামূলকভাবে সীমিত বলে স্থানীয় রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে আসছে। দলটির সাংগঠনিক অবস্থান, অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের সম্পর্ক এবং বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ও আলোচনার বাইরে নয়। অতীতে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলীয় ঐক্য নিয়ে যে ধারণা ছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা কতটা কার্যকর রয়েছে, সে প্রশ্নও উঠছে।

তবে প্রকাশ্য কার্যক্রম কম থাকা মানেই সাংগঠনিকভাবে দলটি নিষ্ক্রিয়—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যথাযথ হবে না। একইভাবে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মাত্রা ও নির্বাচনে তার সম্ভাব্য প্রভাবও নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। নির্বাচনী পরিস্থিতি, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সাংগঠনিক সক্ষমতা শেষ পর্যন্ত দলটির অবস্থান নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।

সাংগঠনিক শৃঙ্খলায় সুবিধা দেখছে জামায়াতে ইসলামী

এদিকে কোম্পানীগঞ্জে জামায়াতে ইসলামী নিজেদের সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও কর্মী-সমর্থকদের শৃঙ্খলাকে নির্বাচনী শক্তি হিসেবে তুলে ধরছে। দলটির স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দাবি, ইউনিয়নভিত্তিক প্রার্থী নির্ধারণ, সাংগঠনিক যোগাযোগ এবং কর্মীদের মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে তারা তুলনামূলকভাবে গোছানো অবস্থানে রয়েছে। দলীয় বিভাজন এড়িয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করতে পারলে নির্বাচনে ভালো ফল অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যক্তিগত কর্মজীবন, সামাজিক সম্পৃক্ততা, শিক্ষাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিচিতি এবং জনসম্পৃক্ততাও নির্বাচনী আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এসব বিষয় ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে প্রার্থীদের বাস্তব জনসমর্থন, স্থানীয় সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, নির্বাচনী প্রচারণা এবং ভোটারদের মূল্যায়নের ওপর।

জামায়াতের সাংগঠনিক ঐক্য ও প্রার্থী প্রস্তুতি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা থাকলেও প্রতিটি ইউনিয়নে তাদের মনোনয়ন চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত কি না, তা সংশ্লিষ্ট দলীয় সূত্র ও প্রকাশিত ঘোষণার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। একইভাবে কোনো দলের বিজয়কে নিশ্চিত বলা নির্বাচনের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

শেষ পর্যন্ত নির্ধারক ভোটারদের রায়

কোম্পানীগঞ্জের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে যে তৎপরতা শুরু হয়েছে, তা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন হিসাব-নিকাশ তৈরি করছে। বিএনপির মনোনয়ন প্রতিযোগিতা, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থান এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে নির্বাচনী সমীকরণ এখনো পরিবর্তনশীল।

এ অবস্থায় কোনো দলের সাংগঠনিক শক্তি কিংবা কোনো প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাই এককভাবে বিজয় নিশ্চিত করতে পারে না। ভোটারদের আস্থা অর্জন, অতীত কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন, এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান, সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতাই হয়ে উঠতে পারে প্রধান বিবেচ্য বিষয়।

বিশেষ করে সড়ক যোগাযোগ, জলাবদ্ধতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার মতো স্থানীয় সমস্যাগুলো নিয়ে প্রার্থীরা কতটা বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন, সেদিকেও নজর থাকবে ভোটারদের।

সব মিলিয়ে কোম্পানীগঞ্জের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতি, অভ্যন্তরীণ ঐক্য এবং জনসম্পৃক্ততার প্রতিযোগিতা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। শেষ পর্যন্ত কারা জনপ্রিয়তার দাবি বাস্তব ভোটে রূপান্তর করতে পারবেন, তা নির্ধারণ করবে নির্বাচনী পরিবেশ, প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা এবং সর্বোপরি জনগণের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ রায়।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.