কোম্পানীগঞ্জে ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত:
উপশিরোনাম:
ইফতার মাহফিলে ঐক্যের বার্তা ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়।
নব জ্যোতি রিপোর্ট ডেস্ক:
নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (ডিএমএফ) চিকিৎসকদের যৌথ উদ্যোগে এক আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন উপজেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ডিপ্লোমা চিকিৎসক, স্থানীয় সাংবাদিক ও স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ধর্মীয় আবহে আয়োজিত এই ইফতার মাহফিলটি শেষ পর্যন্ত এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।রোববার ৮ মার্চ ২০২৬ বিকেলে বসুরহাট বাজারের গ্র্যান্ড হোটেল অ্যান্ড পার্টি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনের সভাপতিত্ব করেন ডিপ্লোমা চিকিৎসক মো. আবু নাছের। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিডিএমএ) নোয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি চিকিৎসক এম. এ. হাতেম খান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের জেলা সেক্রেটারি চিকিৎসক আকতার উদ্দিন। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন চিকিৎসক কাওছারসহ স্থানীয় ডিপ্লোমা চিকিৎসকরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র আল কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে পরিবেশ হয়ে ওঠে পবিত্র ও স্নিগ্ধ। কোরআনের সুমধুর তেলাওয়াতের পর শুরু হয় আলোচনা পর্ব। বক্তারা তাদের বক্তব্যে পবিত্র রমজানের তাৎপর্য, আত্মসংযম, ধৈর্য এবং তাকওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, রমজান কেবল রোজা রাখার মাস নয়,এটি মানুষের আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক উন্নতির এক অনন্য সুযোগ।
এই মাস মানুষকে অন্যের কষ্ট উপলব্ধি করতে শেখায় এবং সমাজে সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে।
বক্তারা আরও বলেন, রমজানের শিক্ষা কেবল ব্যক্তিগত জীবনে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না,বরং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে নৈতিকতা, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার চর্চার মধ্য দিয়ে এর প্রকৃত তাৎপর্য বাস্তবায়ন করতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিডিএমএ জেলা সভাপতি চিকিৎসক এম. এ. হাতেম খান বলেন, রমজান হচ্ছে তাকওয়া ও আত্মসমালোচনার মাস। এই মাস মানুষকে সংযম ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ডিপ্লোমাধারী চিকিৎসকরা দীর্ঘদিন ধরে দিন-রাত মানুষের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।
প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।
তিনি বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার বড় একটি অংশ ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এত বড় অবদান রাখার পরও অনেক ক্ষেত্রে তারা যথাযথ মর্যাদা ও মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তিনি সরকারের প্রতি ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের ন্যায্য স্বীকৃতি ও সম্মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বিডিএমএ জেলা সেক্রেটারি চিকিৎসক আকতার উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালে দেশে প্রথমবারের মতো মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) চালু করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে চার বছরের ডিপ্লোমা কোর্স ও ছয় মাসের ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করে ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (ডিএমএফ) ডিগ্রিধারী চিকিৎসক তৈরি করা হয়।
তিনি জানান, এই কোর্সে ভর্তি হওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত মানতে হতো পড়াশোনা শেষ করে কমপক্ষে পাঁচ থেকে দশ বছর সরকারি চাকরি করতে হবে। সেই শর্ত মেনে অনেক শিক্ষার্থী দেশের স্বাস্থ্যসেবায় নিজেদের নিয়োজিত করেন।
দীর্ঘদিন ধরে তারা সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নির্ধারিত সিলেবাস ও প্রশিক্ষণ অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে আসছেন। তিনি আরও বলেন, একসময় ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের নামের আগে “ডাক্তার” উপাধি ব্যবহৃত হতো। তবে ২০১০ সালে একটি মহলের প্রভাবে সেই উপাধি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এরপরও নানা সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তারা মানুষের সেবায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি চিকিৎসক আবু নাছের তাঁর বক্তব্যে বলেন, ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের নিয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি জানান, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা দিতে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। সেখানে ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের ইতিহাস, বাস্তবতা ও অবদান সম্পর্কে গণমাধ্যমের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।
বক্তারা এ সময় ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের প্রতি বিদ্যমান বৈষম্য দূর করা, “ডিপ্লোমা মেডিকেল অফিসার” হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, পূর্বের নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি চাকরির নিশ্চয়তা, নতুন নিয়োগ বৃদ্ধি এবং উচ্চতর প্রশিক্ষণ বা ডিগ্রির সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানান। তারা বলেন, দেশের গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে উপস্থিত অতিথিরা একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন।
আয়োজকদের মতে, এই ইফতার মাহফিল কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানই নয়,বরং এটি ছিল পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ঐক্য ও পেশাগত সংহতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। রমজানের পবিত্র বার্তা হৃদয়ে ধারণ করে সমাজের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত চিকিৎসকরা।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment