ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : কোম্পানীগঞ্জে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন, যুব ঋণের চেক ও প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল কোম্পানীগঞ্জের আলমগীরের, দেশে ফেরানোর অপেক্ষায় স্বজনরা কুমিল্লা বোর্ডে এইচএসসি ফলে তলানিতে নোয়াখালী, পাসের হার মাত্র ৩৮.৯০ শতাংশ কোম্পানীগঞ্জে এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফলাফল: কলেজ ৩৭.৬৫%, হাজারী হাট বিএম কলেজ (কারিগরি) ৭৫%, মাদ্রাসা ৬৫.২৫% কোম্পানীগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন প্রবাসের স্বপ্ন থেমে গেল ইতালির সড়কে বাস-স্কুটার সংঘর্ষে প্রাণ গেল ছাগলনাইয়ার জিয়াউর রহমান টিটুর শিষ্টাচার,সার্টিফিকেট নয়, মানুষের আসল পরিচয় কবি মুঃ ইব্রাহিম খলিল জসিম এর কবিতা। কোম্পানীগঞ্জে অনুমতিহীন ‘চায়না বাজার’ ঘিরে ক্ষোভ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি বসুরহাটে ‘চায়না মার্কেটের’ নামে ভ্রাম্যমাণ পণ্যের রমরমা বাণিজ্য, ক্ষতির মুখে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা

কোম্পানীগঞ্জে এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফলাফল: কলেজ ৩৭.৬৫%, হাজারী হাট বিএম কলেজ (কারিগরি) ৭৫%, মাদ্রাসা ৬৫.২৫%

কোম্পানীগঞ্জে এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফলাফল: কলেজ ৩৭.৬৫%, হাজারী হাট বিএম কলেজ (কারিগরি) ৭৫%, মাদ্রাসা ৬৫.২৫%

কোম্পানীগঞ্জে এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফলাফল: কলেজ ৩৭.৬৫%, হাজারী হাট বিএম কলেজ (কারিগরি) ৭৫%,

মাদ্রাসা ৬৫.২৫%

মোহাম্মদ উল্যা

বিশেষ প্রতিনিধি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফলাফলে কলেজের তুলনায় মাদ্রাসা পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সাফল্য বেশি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উপজেলার ছয়টি কলেজে মোট ১ হাজার ৯৫৭ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৭৩০ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। অন্যদিকে, পাঁচটি মাদ্রাসায় ২৯২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৮২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১৮৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। আলিম পরীক্ষায় পাসের হার ৬৫ দশমিক ২৫ শতাংশ।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রকাশিত ‘এক নজরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাধীন এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষা-২০২৬’ শীর্ষক ফলাফল বিবরণী এবং হাজারিহাট বি.এম. কলেজের দেওয়া তথ্য থেকে এসব চিত্র পাওয়া গেছে।

কলেজ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, বামনী কলেজে ২৭৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৬৯ জন অংশ নিয়ে ১১১ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার ৪১ দশমিক ২৬ শতাংশ। চৌধুরীহাট কলেজে ৭৬ জনের মধ্যে ৭৫ জন অংশ নিয়ে পাস করেছেন ১৪ জন। পাসের হার ১৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

কোম্পানীগঞ্জ সরকারি কলেজে ১ হাজার ৪৫৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৪০১ জন অংশ নিয়ে ৫৫২ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার ৩৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। হাজিরহাট হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২৭ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অংশ নিলেও পাস করেছেন মাত্র ৪ জন। পাসের হার ১৪ দশমিক ৮১ শতাংশ।

জয়তুন নাহার কাদের মহিলা কলেজে ৭৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭১ জন অংশ নিয়ে ১৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার ১৮ দশমিক ৩১ শতাংশ।

অন্যদিকে, হাজারিহাট বি.এম. কলেজে ৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। এ কলেজের পাসের হার ৭৫ শতাংশ। কলেজটির ফলাফল উপজেলার কলেজ পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের মূল ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী, পাঁচটি কলেজে মোট ছয়জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। হাজারিহাট বি.এম. কলেজের জিপিএ-৫ প্রাপ্তির তথ্য আলাদাভাবে পাওয়া যায়নি।

আলিম পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে বামনী আতসিরিয়া আলিম মাদ্রাসা সবচেয়ে ভালো ফল করেছে। এ মাদ্রাসায় ৩৪ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অংশ নিয়ে ৩১ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার ৯১ দশমিক ১৮ শতাংশ।

বসুরহাট ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় ১৯৫ জনের মধ্যে ১৮৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১১১ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার ৫৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ। হাজিরহাট আলিম মাদ্রাসায় ২২ জনের মধ্যে ২০ জন অংশ নিয়ে ১৪ জন পাস করেছেন। পাসের হার ৭০ শতাংশ।

জামিয়া শরাফতিয়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ১৪ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অংশ নিয়ে ১০ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার ৭১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। রংমালা দারুস সুন্নাহ মডেল আলিম মাদ্রাসায় ২৭ জনের সবাই অংশ নিয়ে ১৮ জন পাস করেছেন। পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। আলিম পর্যায়ে মোট ১০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, কলেজ পর্যায়ে সর্বোচ্চসংখ্যক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন কোম্পানীগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে। তবে পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে হাজারিহাট বি.এম. কলেজ। অন্যদিকে, মাদ্রাসা পর্যায়ে সর্বোচ্চ পাসের হার বামনী আতসিরিয়া আলিম মাদ্রাসার।

সামগ্রিক ফলাফলে মাদ্রাসা পর্যায়ে সন্তোষজনক সাফল্য থাকলেও কলেজ পর্যায়ে পাসের হার প্রত্যাশার তুলনায় কম। বিশেষ করে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিম্ন পাসের হার শিক্ষার গুণগত মান, পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং যথাযথ তদারকি নিয়ে নতুন করে ভাবনার অবকাশ তৈরি করেছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, শুধু পরীক্ষার ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠাভ্যাস, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান, শিক্ষকদের জবাবদিহি এবং অভিভাবকদের সচেতনতা নিশ্চিত করা গেলে আগামীতে এ অবস্থার উন্নতি সম্ভব।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. দিদার হোসেন স্বাক্ষরিত ফলাফল বিবরণীতে কলেজ ও মাদ্রাসার এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.