সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল কোম্পানীগঞ্জের আলমগীরের, দেশে ফেরানোর অপেক্ষায় স্বজনরা
মোহাম্মদ উল্যা
বিশেষ প্রতিনিধি:
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো. আলমগীর (৪৯) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ ২৫ বছর প্রবাসে কাটিয়ে পরিবারের সচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকা এই রেমিট্যান্সযোদ্ধার মৃত্যুতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের হাফর আল বাতিন শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে বুধবার বিকেলে নিজে গাড়ি চালিয়ে মালামাল আনতে যাওয়ার পথে গাড়ির সামনের চাকা পাংচার হয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।
নিহত মো. আলমগীর নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চরযাত্রা এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার আবুল খায়েরের ছেলে।
আলমগীরের খালাতো ভাই ও সৌদি প্রবাসী আবুল কালাম জানান, জীবিকার তাগিদে এবং পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় প্রায় ২৫ বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান আলমগীর। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাসের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
বুধবার নিজের গাড়ি চালিয়ে মালামাল আনতে যাওয়ার পথে গাড়ির সামনের চাকা পাংচার হয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে তিনি গুরুতর আহত হলে তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এদিকে দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা আলমগীরের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি গভীর শোক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। তাঁর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
আবুল কালাম জানান, মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বিভিন্ন জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন তাঁরা। এ অবস্থায় মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করতে বাংলাদেশ সরকার এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেছেন তাঁরা।
২৫ বছরের প্রবাসজীবনের অবসান ঘটিয়ে নিথর দেহে দেশে ফেরার অপেক্ষায় আলমগীর। তাঁর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর সহযোগিতা এখন স্বজনদের প্রত্যাশা।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment