কোম্পানীগঞ্জে মাদ্রাসাছাত্রকে নির্যাতনের অভিযোগ, গুরুতর অসুস্থ হয়ে বিছানায় ৯ বছরের আদিব
মোহাম্মদ উল্যা
বিশেষ প্রতিনিধি
ঢাকায় চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেও শারীরিক যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে শিশু, অভিযুক্ত মাদ্রাসা পরিচালক ও শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা পরিবারের
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের লোহারপুল এলাকার দারুস সালাম মডেল মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেন আদিবকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার পরিচালক দেলোয়ার হোসেন ও শিক্ষক শাব্বির আহমেদের বিরুদ্ধে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর বর্তমানে বাড়িতে শারীরিক যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে শিশুটি। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, গত ১৫ অক্টোবর মাদ্রাসার ভেতরে আদিবকে নির্মমভাবে মারধর করেন পরিচালক দেলোয়ার হোসেন ও শিক্ষক শাব্বির আহমেদ। একপর্যায়ে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে বসুরহাটের ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার শ্যামলীর শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরলেও এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি আদিব। পরিবারের দাবি, তার শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে গেছে এবং বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
আদিব সিরাজপুর ইউনিয়নের শাহাজাদপুর গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কামার বাড়ির বাসিন্দা এবং প্রবাসী শাহাব উদ্দিনের ছেলে।
আদিবের মা অভিযোগ করে বলেন, "দেলোয়ার ও শাব্বির প্রায় দুই বছর ধরে আমার ছেলেকে মারধর করে আসছেন। শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার দিন শিক্ষক শাব্বির আমার ছেলেকে আছাড় মেরেছেন। এতে তার শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে গেছে। আমার সন্তান এখনো যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। আমি এ নির্মম নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার চাই।"
এ বিষয়ে বসুরহাট ইবনে সিনা হাসপাতালের চেয়ারম্যান আলহাজ আবদুল কুদ্দুস জানান, আদিবকে হাসপাতালে আনা হলে তার শরীরে রক্তস্বল্পতা দেখা যায়। পরে তার শরীরে রক্ত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর স্বজনেরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যান।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে দারুস সালাম মডেল মাদ্রাসায় সরেজমিনে গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত পরিচালক দেলোয়ার হোসেন ও শিক্ষক শাব্বির আহমেদ সেখান থেকে চলে যান বলে জানা গেছে। পরবর্তী সময়ে তাদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
একটি শিশুশিক্ষার্থীর ওপর এমন নির্যাতনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়া উচিত শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল, যেখানে তারা স্নেহ, যত্ন ও শিক্ষার পরিবেশ পাবে। সেখানে কোনো শিক্ষার্থীর ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা জরুরি।
এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, শিশুটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন শিশুটির পরিবার। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আবিদের দরিদ্র পিতা শাহাব উদ্দীন।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment