প্রশাসনিক সংস্কার ও ২৪/৭ কর্মসংস্কৃতি: জাতীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত
দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করতে হলে জাতীয় প্রশাসনিক ও কর্মসংস্কৃতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা যেতে পারে।
হাসপাতাল, থানা, ফায়ার সার্ভিস কিংবা বিদ্যুৎ অফিসের মতো জরুরি সেবাগুলো যদি ২৪ ঘণ্টা চালু থাকতে পারে, তবে সকল সরকারি ও বেসরকারি দপ্তর প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা একেবারেই অসম্ভব কিছু নয়।
সপ্তাহের সাত দিনই প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু রেখে অপ্রয়োজনীয় দিবসের ছুটি বন্ধ করা যেতে পারে; কেবল প্রধান প্রধান ধর্মীয় উৎসবে সর্বোচ্চ তিন দিনের ছুটির বিধান রাখা এবং শুক্রবার দিন জুমার নামাজের জন্য কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনা যেতে পারে।
সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা এবং দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা- এই দুই শিফটে কার্যালয় পরিচালনা করলে একই পদে একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন। এতে ঘুষের জন্য ফাইল আটকে রাখা বা ব্যক্তিগত প্রভাব খাটানোর দুর্নীতির সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হবে এবং নাগরিক সেবা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। নির্দিষ্ট ৮ ঘণ্টা শিফট শেষে কিংবা শুরু করার আগে কর্মীরা স্বাধীনভাবে নিজস্ব ব্যবসা, ফ্রিল্যান্সিং বা কৃষিকাজে যুক্ত হয়ে আয়ের পথ প্রসারিত করতে পারবেন।
একইসাথে, বর্তমান বিসিএস ব্যবস্থার অবসান ঘটানো, কারণ সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে কম বয়সী কর্মকর্তারা বহু অভিজ্ঞ ও প্রবীণ কর্মচারীর ওপর প্রশাসনিক কর্তৃত্ব দেখায়, যা শিষ্টাচার পরিপন্থী এবং অহংকার ও স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ সৃষ্টি করে।
এর পরিবর্তে দাপ্তরিক কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, নির্দিষ্ট সেশন শর্ত এবং ওই দপ্তরের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যমেই কেবল পদোন্নতি ও পদমর্যাদা নির্ধারণ করা উচিত। এর ফলে অফিসে পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় থাকবে, হয়রানি বন্ধ হবে, কর্মসংস্থান দ্বিগুণ হবে এবং দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে গতিশীলতা আসবে।
মেছবাহ উদ্দিন
সাংবাদিক ও কলামিস্ট
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment