ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : তকমার বাজারে সত্যের কলম ---------মোহাম্মদ উল্যা মিরাজ------- দ্রব্যমূল্য কমাও, দুর্নীতির লাগাম টানো —মোহাম্মদ উল্যা— শিক্ষক,সাংবাদিক প্রশাসনিক সংস্কার ও ২৪/৭ কর্মসংস্কৃতি: জাতীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত কোম্পানীগঞ্জে জন্মাষ্টমীর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উদযাপিতঃ কোম্পানীগঞ্জে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গণসমাবেশ ও বর্ণাঢ্য মিছিল কক্ষপথ মোহাম্মদ কুতুবউদ্দিন ৫ সেপ্টেম্বরের লংমার্চ সফল করতে বসুরহাটে জামায়াতের গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণঃ কোম্পানীগঞ্জে সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, আটক ৩ নোয়াখালীতে দুই আবাসিক হোটেলে ডিবির অভিযান, গ্রেপ্তার ৮ অশ্বদিয়ায় ছাত্রদলের বিজয় মিছিলে হামলার অভিযোগ, আহত ৩

কোম্পানীগঞ্জে জন্মাষ্টমীর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উদযাপিতঃ

কোম্পানীগঞ্জে জন্মাষ্টমীর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উদযাপিতঃ

কোম্পানীগঞ্জে জন্মাষ্টমীর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উদযাপিতঃ

ঢোল-কাঁসর, ভজন-কীর্তন আর সম্প্রীতির বার্তায় মুখর বসুরহাটঃ

মোঃ আল এমরান :

শরতের স্নিগ্ধ ভোর। ভাদ্রের রোদেলা সকাল। আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, বাতাসে উৎসবের আমেজ। সকাল গড়াতেই নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভা যেন বদলে যায় এক বর্ণিল উৎসবের নগরীতে।

ঢোল, কাঁসর ও বাদ্যের তালে তালে মুখর হয়ে ওঠে শহরের রাজপথ। কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, যুবক, প্রবীণ, নারী-পুরুষ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মিলনমেলায় প্রাণ ফিরে পায় বসুরহাট।

পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ আবির্ভাব তিথি জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ কোম্পানীগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, ভজন-কীর্তন ও প্রসাদ বিতরণসহ নানা ধর্মীয় কর্মসূচি।

শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদ্‌যাপন পরিষদ, কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি ফুটে ওঠে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের চিত্র।

সকালে অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র গীতা পাঠ করা হয়। পরে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির সূচনা হয়। সকাল ১০টায় বসুরহাট পৌরসভা মিলনায়তন বটতলাা থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও নানা সাজসজ্জা নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

শোভাযাত্রার অগ্রভাগে ছিল ধর্মীয় পতাকা ও ব্যানার। তার সঙ্গে ঢোল-কাঁসর ও বাদ্যের ছন্দ। কখনো ভজন-কীর্তনের সুর, কখনো শঙ্খধ্বনি সব মিলিয়ে সৃষ্টি হয় এক অনন্য উৎসবমুখর পরিবেশ।

শোভাযাত্রায় শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস যেমন ছিল চোখে পড়ার মতো, তেমনি প্রবীণদের মুখেও ছিল আনন্দের হাসি। ধর্মীয় আবেগ ও উৎসবের আনন্দে কয়েক ঘণ্টার জন্য বসুরহাটের রাজপথ হয়ে ওঠে মানুষের মিলনস্থল।

শোভাযাত্রাটি বসুরহাটের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পৌর বটতলা এলাকায় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও অতিথিরা বক্তব্য দেন। বক্তারা জন্মাষ্টমীর তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল জনাব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, মাননীয় সংসদ সদস্য, নোয়াখালী-৫। তবে অসুস্থতার কারণে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ মাসুদুর রহমান, উপজেলা অফিসার, কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল হাই সেলিম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমান রিপন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব জাহিদুর রহমান রাজন, কোম্পানীগঞ্জ পৌরসভা জামায়াতের আমির মাওলানা মোশারফ হোসেন, কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুল হাকিমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত সনাতনী নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক বাবু অরবিন্দ ভৌমিক। তিনি জন্মাষ্টমীর ধর্মীয় ও মানবিক তাৎপর্য তুলে ধরে সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করার আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে ধর্ম, বর্ণ ও মতের ভিন্নতা থাকলেও রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার সমান। ধর্মীয় উৎসব শুধু একটি সম্প্রদায়ের আনন্দের বিষয় নয় পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের মাধ্যমে তা সমাজের সামগ্রিক সম্প্রীতিকে আরও শক্তিশালী করে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে উচ্চারিত হয় সময়ের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা“ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।” এই একটি বাক্যের মধ্যেই যেন বহন করে বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সমাজের সৌন্দর্য। যার যার ধর্মীয় বিশ্বাস, আচার ও উৎসব স্বাধীনভাবে পালন করার পাশাপাশি অন্যের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকাই একটি শান্তিপূর্ণ সমাজের ভিত্তি।

হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে প্রতিবছর জন্মাষ্টমী পালিত হয়। এ উপলক্ষে প্রার্থনা, গীতা পাঠ, ভজন-কীর্তন, আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা ও প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়।

তবে উৎসবের অন্তর্নিহিত শিক্ষা কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়,সত্য, ন্যায়, মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও মানুষের কল্যাণের চেতনাও এর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

শোভাযাত্রা শেষে দুপুর ১টায় বসুরহাট পৌরসভার শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির কমপ্লেক্স ভবনে প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়। সেখানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে আনন্দ ও সৌহার্দ্য বিনিময়ের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

ভাদ্রের রোদ তখন আরও তীব্র। কিন্তু উৎসবের আনন্দে সেই রোদের তাপ যেন হার মেনে যায় মানুষের প্রাণের উচ্ছ্বাসের কাছে। ঢোলের শেষ তালে, কীর্তনের শেষ সুরে এবং প্রসাদের মিষ্টি ঘ্রাণে দিনটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়।

জন্মাষ্টমীর এই আয়োজন যেন আবারও মনে করিয়ে দিল মানুষের পরিচয় কেবল ধর্মে নয়, মানবিকতাতেও। ধর্ম যার যার বিশ্বাসের বিষয়, আর রাষ্ট্র সবার নিরাপদ আশ্রয়।

পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ভালোবাসার বন্ধন অটুট থাকলে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়তে পারে সমাজের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে।কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাটে জন্মাষ্টমীর এই বর্ণাঢ্য আয়োজন তাই শুধু একটি ধর্মীয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি ছিল সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি, যেখানে ভিন্নতার মাঝেও মিলনের সুর ধ্বনিত হয়েছে।

সেই সুরে উচ্চারিত হয়েছে একটি প্রত্যাশা বাংলাদেশ হোক শান্তি, সম্প্রীতি, মানবিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার দেশ।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.