শিক্ষার নবজাগরণের প্রত্যয়ে কোম্পানীগঞ্জ সরকারি কলেজে শিক্ষামন্ত্রীর মতবিনিময় সভা:
উচ্চশিক্ষার প্রসার, নতুন শিক্ষক নিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রয়াত মওদুদ আহমদের স্মৃতিচারণায় মুখরিত কলেজ প্রাঙ্গণ:
মোঃ আল এমরান।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ সরকারি কলেজে শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং উচ্চশিক্ষার প্রসার নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার ২২ জুন ২০২৬ সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ড. আনম এহসানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ মো. ফখরুল ইসলাম এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কোম্পানীগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আফতাব উদ্দিন।শিক্ষামন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে বিকেল থেকেই কলেজ প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বিভিন্ন সড়ক ও প্রবেশপথে নির্মাণ করা হয় বর্ণিল তোরণ। কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে প্রিয় ক্যাম্পাস। নির্ধারিত সময় বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষামন্ত্রী সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় কলেজে পৌঁছান।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ফুলেল শুভেচ্ছায় তাঁকে বরণ করে নেন।পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর পরিবেশিত হয় জাতীয় সংগীত। কলেজ ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ শিক্ষামন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং কলেজের পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
একইভাবে স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন,
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নুরুল আলম শিকদার।
তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানীগঞ্জ সরকারি কলেজ দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের উচ্চশিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। তবে বর্তমানে কলেজে প্রয়োজনীয় ২৪ জন শিক্ষকের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৩ জন।
তিনি ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অন্যান্য বিষয়ে অনার্স কোর্স চালুর পাশাপাশি নতুন অডিটোরিয়াম, ছাত্রাবাস ও একাডেমিক ভবন নির্মাণের দাবি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আফতাব উদ্দিন কলেজের সার্বিক উন্নয়নে শিক্ষামন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি অতীতে শিক্ষামন্ত্রীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে বলেন, শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, উপকূলীয় ও নদীভাঙনপ্রবণ কোম্পানীগঞ্জের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের অন্যতম হাতিয়ার হলো শিক্ষা।
তিনি কলেজে ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু, শিক্ষার্থীদের জন্য ডরমিটরি নির্মাণ, আধুনিক অডিটোরিয়াম ও মসজিদ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকার শিক্ষার্থীরা অধিকতর সুযোগ-সুবিধা লাভ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আনম এহসানুল হক মিলন প্রয়াত বিএনপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ-এর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, “মওদুদ আহমদ ছিলেন জাতীয় রাজনীতির একজন উচ্চমানের নেতা, চিন্তাবিদ ও লেখক। তাঁর অবদান জাতি দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।”
তিনি জানান, কোম্পানীগঞ্জে তাঁর আগমনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল প্রয়াত এ নেতার কবর জিয়ারত করা।শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা খাতে সরকার ব্যাপক সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে সেশনজটমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য পোশাক, জুতা, মোজা ও টিফিন সুবিধা চালুর পরিকল্পনার বিষয়েও তিনি বক্তব্য দেন। একইসঙ্গে দেশের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, সারাদেশে লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে নতুনশিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
তিনি আরও ঘোষণা দেন যে, কোম্পানীগঞ্জে প্রয়াত মওদুদ আহমদের প্রতিষ্ঠিত কবি জসীমউদ্দীন স্কুল আধুনিকায়নের কাজ আগামী জুলাই মাসের শুরুতেই শুরু হবে। পাশাপাশি এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নের বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি অতীতের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম, হামলা-মামলা ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ভবিষ্যতেও কোম্পানীগঞ্জের মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি আবারও এ জনপদে আসার প্রতিশ্রুতি দেন।মতবিনিময় সভায় উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপির নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর কোম্পানীগঞ্জ পৌরসভা আমির মাওলানা মোশারফ হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।শিক্ষার উন্নয়ন, অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার নানা প্রতিশ্রুতিতে মুখর এ আয়োজন কোম্পানীগঞ্জের শিক্ষা অঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সচেতন মহলের প্রত্যাশা-ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় এ অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment