সুইচ চাপলেই আলো জ্বলবে,সাধারণ মানুষের হিসাব কি এতটাই সরল?
শাহাদাত হোসেন
বার্তা সম্পাদক,
নবজ্যোতি পএিকা।
বিদ্যুতের সুইচ চাপলেই ঘরের বাতি জ্বলে উঠবে, সাধারণ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাবটা এতটাই সহজ। কিন্তু একটি সুইচের পেছনে রয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন, বিতরণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া।একজন সাধারণ গ্রাহক যখন ঘরের সুইচ চাপেন, তখন তার প্রত্যাশা থাকে সঙ্গে সঙ্গে আলো জ্বলবে। বিদ্যুৎ থাকবে, ভোল্টেজ স্বাভাবিক থাকবে এবং প্রয়োজনের সময় কোনো ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হবে না।
এই প্রত্যাশা অস্বাভাবিক নয়; কারণ বিদ্যুৎ এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ।তবে বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল। বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে শুরু করে জাতীয় গ্রিড, সঞ্চালন লাইন, উপকেন্দ্র এবং স্থানীয় বিতরণব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে বিদ্যুৎ পৌঁছে যায় একটি বাড়ির মিটার পর্যন্ত। কোথাও ত্রুটি, অতিরিক্ত চাপ, রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে পুরো ব্যবস্থার ওপরই তার প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন ও বিতরণ সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনও তৈরি হয়। শিল্পকারখানা, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে ঘরের সাধারণ বৈদ্যুতিক যন্ত্র,সবকিছুর ওপর নির্ভরতা বাড়ছে বিদ্যুতের।সাধারণ মানুষের হিসাব অবশ্য আরও সরল সুইচ চাপলে আলো জ্বলবে।
এই প্রত্যাশার মধ্যেই রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি।বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব শুধু বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া নয়; একই সঙ্গে অবকাঠামো আধুনিকীকরণ, পুরোনো লাইন ও যন্ত্রপাতি সংস্কার, দ্রুত ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করাও জরুরি।বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার জন্য উৎপাদনের পাশাপাশি সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।
একই সঙ্গে গ্রাহকদেরও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ অপচয় কমানো গেলে সামগ্রিক ব্যবস্থার ওপর চাপও কমে।শেষ পর্যন্ত একজন সাধারণ গ্রাহক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিশাল অবকাঠামো কিংবা প্রযুক্তিগত জটিলতা নিয়ে ভাবতে চান না।
তিনি শুধু চান প্রয়োজনের সময় সুইচ চাপবেন এবং আলো জ্বলবে।এই সহজ প্রত্যাশাটিই বিদ্যুৎ খাতের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার জায়গা। কারণ মানুষের কাছে বিদ্যুতের হিসাব যতটা সরল, সেই বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্নভাবে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার হিসাব ততটাই জটিল।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment