ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : আধুনিক বসুরহাট গড়ার প্রত্যয়ে ১১৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকার বাজেট: চরহাজারীর তরুণ মুখ, আগামীর সম্ভাবনা মহিন উদ্দিন জীবন : ছোট ফেনী কবি: সাইফুর রহমান (উজ্জ্বল) দুর্যোগ, দুর্ভোগ ও রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি,আমরা কতটা প্রস্তুত? ক্ষমতার লঙ্কা আর রাবণের গল্প,আমাদের ভাঙা-গড়ার রাজনীতি​: ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদসহ চার গুণী ব্যক্তিকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান: Anwar Hossain Faisal A Bangladeshi Expat Dedicated to Serving Humanity: চৌধুরীহাটে পূর্ণাঙ্গ ডাকঘরের দাবিতে এলাকাবাসী পোস্ট কোড জটিলতায় চরম ভোগান্তি: সুন্দরবনের ‘দুলাভাই বাহিনী’র সঙ্গে কোস্ট গার্ডের গোলাগুলিতে ৩ ডাকাত গুলিবিদ্ধ বর্ষাকালে সুস্থ থাকার উপায় সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধিই সুরক্ষার চাবিকাঠি:

ট্যাগের রাজনীতি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র :

ট্যাগের রাজনীতি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র :

ট্যাগের রাজনীতি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র :

একটি সুসংগঠিত চক্র পরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার কাজে লিপ্ত। এদের হাতে কোনো অস্ত্র নেই, নেই প্রকাশ্য বিদ্রোহের ভাষা তাদের প্রধান হাতিয়ার শব্দ, ট্যাগ ও বয়ান নির্মাণ। মব, উগ্রবাদী, জঙ্গি, ইসলামপন্থী এই শব্দগুলো আজ আর বিশ্লেষণের ভাষা নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে মানুষকে ঘায়েল করার কৌশল।

এই ট্যাগিং রাজনীতির মূল লক্ষ্য একটাই সাধারণ জনগণকে ভয় দেখানো, বিভক্ত করা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়া। মত প্রকাশ করলেই ‘উগ্র’, প্রতিবাদ করলেই ‘মব’, ধর্মীয় পরিচয় থাকলেই ‘জঙ্গি’ তকমা সেঁটে দেওয়া হচ্ছে।

এতে করে নাগরিক অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, আর গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো এই বয়ান নির্মাণে তথাকথিত কিছু বাম সুশীল ও প্রগতিশীল মহলের সক্রিয় ভূমিকা।

তারা নিজেদের বিবেকের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থাপন করলেও বাস্তবে তারা ক্ষমতার সুবিধাভোগী অংশ। রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা, প্রশাসনিক অন্যায় কিংবা জনগণের ওপর দমন-পীড়নের প্রশ্নে তারা রহস্যজনক নীরবতা পালন করে। অথচ সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ দেখলেই তাদের কলম ও কণ্ঠ হঠাৎ সক্রিয় হয়ে ওঠে।

একসময় যে চেতনাবাজি দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হতো, আজ তার দাপট অনেকটাই কমে গেছে। ‘প্রগতিশীলতা’ নামের বহু বুলি এখন জনতার কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। কারণ মানুষ বুঝতে শুরু করেছে যেখানে ন্যায় নেই, সেখানে প্রগতির সাইনবোর্ড শুধু প্রতারণা।

এই ষড়যন্ত্রের আরেকটি ভয়ংকর দিক হলো ইতিহাস বিকৃতি। যাদেরকে বছরের পর বছর ইতিহাসের নায়ক বানিয়ে রাখা হয়েছে, ইতিহাসবিদদের গবেষণায় দেখা যাচ্ছে তাদের অনেকেই আদর্শ নয়, ক্ষমতা ও সুবিধার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

গাদ্দারি সব সময় শত্রুপক্ষের পোশাকে আসে না, অনেক সময় তা আসে ‘জাতির ত্রাতা’র মুখোশ পরে।

তবে এই অস্থিরতার মাঝেও রাষ্ট্র টিকে আছে সাধারণ মানুষের কারণে।

প্রকৃত দেশপ্রেমিকরা কোনো টকশোতে যায় না, কোনো প্রচারণার ব্যানারে তাদের ছবি থাকে না। তারা মাঠে কাজ করে, কারখানায় ঘাম ঝরায়, সীমান্ত পাহারা দেয়, দুর্যোগে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের দেশপ্রেম কোনো স্লোগান নয়,এটি দায়িত্ব ও ত্যাগের বাস্তব চর্চা।

রাষ্ট্র কখনো টিকে থাকে না ষড়যন্ত্র দিয়ে, টিকে থাকে না ট্যাগ দিয়ে। রাষ্ট্র টিকে থাকে আস্থায়, ন্যায়বিচারে ও জবাবদিহিতায়। কিন্তু যখন রাষ্ট্র নিজেই গোপনীয়তার অজুহাতে অন্যায় ঢেকে রাখে এবং বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশ সেই অন্যায়ের সাফাই গায়, তখন সেই আস্থা ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আজ সবচেয়ে প্রয়োজন সত্যকে স্পষ্টভাবে বলা। শক্ত ভাষায় বলা দেশ কোনো পরীক্ষাগার নয়, জনগণ কোনো ‘মব’ নয়, আর ভিন্নমত কোনো অপরাধ নয়। ষড়যন্ত্রের রাজনীতি যতই চতুর হোক, ইতিহাস শেষ পর্যন্ত জনগণের পক্ষেই রায় দেয়।কারণ ট্যাগ দিয়ে রাষ্ট্র চালানো যায় না। রাষ্ট্র চলে ন্যায় দিয়ে।

মোঃ আল এমরান

সস্পাদক ও প্রকাশক

মাসিক নবজ্যোতি।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.