ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : মাটিবাহী ট্রাকের চাপায় প্রাণ গেল দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদীর কবিরহাটে জামায়াতের উদ্যোগে সীরাতুন্নবী (সা.) সম্মেলন ও না’তে রাসূল সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত ।।লোকে কী ভাববে।। মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ​মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম নোয়াখালীতে ইসলামী ছাত্র মজলিসের দিনব্যাপী কর্মী শিক্ষা সভা অনুষ্ঠিত ৭ই নভেম্বর ১৯৭৫ ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস: গোসাইরহাটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ইভটিজিং, বিপন্ন ছাত্রীদের শিক্ষাজীবন পরিবর্তনের পক্ষে, পরিবর্তনের লক্ষ্যে: মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম সুস্থতাই জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ: মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম বাংলা কবিতার একাল ও সেকাল: মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ​মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ​মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

​মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

​বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ঘটনাবহুল দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি ও জনতার অভূতপূর্ব ঐক্যের মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় সূচিত হয়েছিল। দিনটিকে 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' হিসেবে পালন করা হয়। এই দিনটি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির এক অনন্য স্মারক।

​ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

​১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল। ক্ষমতার দ্বন্দ্বে সেনাবহিনীতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং ৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে একটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। এর ফলে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করা হয় এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।

​এই পরিস্থিতিতে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়ে। বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ ও অভ্যন্তরীণ চক্রান্তের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক সিপাহি ও সাধারণ জনগণ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

​৭ নভেম্বরের গণঅভ্যুত্থান

​১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ভোরে ঢাকা সেনানিবাসের সাধারণ সিপাহিরা এবং সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। সিপাহি ও জনতার এই স্বতঃস্ফূর্ত অভ্যুত্থান কেবল একটি সামরিক ক্যু ছিল না; এটি ছিল দেশের স্বাধীনতা ও অখণ্ডতা রক্ষার একটি ঐতিহাসিক গণজাগরণ।

​রাজধানীর রাজপথে সাধারণ মানুষ ও সৈনিকেরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে উল্লাস প্রকাশ করেন। স্লোগান ওঠে, "সিপাহি-জনতা ভাই ভাই, দেশের স্বাধীনতা রক্ষা কর।" এই ঐক্যের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ অরাজকতা দূর হয় এবং একটি স্থিতিশীল পরিবেশের সূচনা ঘটে।

​দিবসটির তাৎপর্য

​সার্বভৌমত্ব রক্ষা: এই দিনটি প্রমাণ করে যে, সংকটময় মুহূর্তে দেশের সাধারণ মানুষ ও সিপাহিরা ভেদাভেদ ভুলে দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় একাট্টা হতে পারেন।

রাজনৈতিক মোড় পরিবর্তন: ৭ নভেম্বরের ঘটনার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথ প্রশস্ত হয়েছিল এবং একটি স্থিতিশীল সরকারব্যবস্থা গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল।

জাতীয় ঐক্য: জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে যেকোনো জাতীয় সংকটে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায় এই ঐতিহাসিক দিনটি।

​৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে কেবল একটি তারিখ নয়, এটি দেশপ্রেম, সংহতি ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। বহুমাত্রিক রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনতা ও সিপাহিদের ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। দেশের স্বার্থে দলমত নির্বিশেষে এই ঐক্যের চেতনা টিকিয়ে রাখাই হোক আমাদের আজকের অঙ্গীকার।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.