ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : মাটিবাহী ট্রাকের চাপায় প্রাণ গেল দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদীর কবিরহাটে জামায়াতের উদ্যোগে সীরাতুন্নবী (সা.) সম্মেলন ও না’তে রাসূল সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত ।।লোকে কী ভাববে।। মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ​মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম নোয়াখালীতে ইসলামী ছাত্র মজলিসের দিনব্যাপী কর্মী শিক্ষা সভা অনুষ্ঠিত ৭ই নভেম্বর ১৯৭৫ ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস: গোসাইরহাটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ইভটিজিং, বিপন্ন ছাত্রীদের শিক্ষাজীবন পরিবর্তনের পক্ষে, পরিবর্তনের লক্ষ্যে: মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম সুস্থতাই জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ: মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম বাংলা কবিতার একাল ও সেকাল: মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

।।লোকে কী ভাববে।। মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

।।লোকে কী ভাববে।। মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

।।লোকে কী ভাববে।।

মুঃইব্রাহীম খলিল জসিম

আত্মবিশ্বাস, নিজস্বতা ও সফল জীবনের চাবিকাঠি

​সবচেয়ে বড় রোগ,লোকে কী বলবে!

​বাঙালি সমাজ তথা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এই বাক্যটি এক অদৃশ্য শিকলের মতো কাজ করে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপে মানুষ যেন এই একটিমাত্র ভয়ের কাছে জিম্মি হয়ে থাকে। সমাজ, প্রতিবেশী বা পরিচিত পরিমণ্ডলের মানুষের খামখেয়ালি মতামতের কথা ভেবে নিজের ভেতরের প্রতিভা, ভালোলাগা এবং স্বপ্নগুলোকে বিসর্জন দেওয়ার প্রবণতা এক মারাত্মক মানসিক ব্যাধি। অথচ জীবন কারো দয়ার দান নয়; এটি একান্তই নিজের। নিজের জীবনকে নিজের মতো করে সাজানো এবং আত্মমর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার সবারই রয়েছে।

​সামাজিক জুজুর ভয় ও সম্ভাবনার অপমৃত্যু

​মানুষ সামাজিক জীব— সমাজে বসবাস করতে গেলে চারপাশের মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা এবং তাদের মতামতকে সম্মান জানানো স্বাভাবিক। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন সমাজের প্রতিটি অনুশাসনকে নিজের ব্যক্তিসত্তার চেয়ে বড় করে দেখা হয়।

​সুপ্ত প্রতিভার বিনাশ: অনেক তরুণ-তরুণী চিত্রশিল্প, সাহিত্য, সঙ্গীত বা উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন বুকে লালন করেন। কিন্তু পরিবার বা সমাজের ভয়ে, লোকে কী বলবে এই পেশা বেছে নিলে?তারা সেই পথে হাঁটেন না।

​স্বাধীন চিন্তার অন্তরায়: নিজের পছন্দমতো পেশা, জীবনসঙ্গী বা জীবনযাপনের পথ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা কেড়ে নেয় এই অদৃশ্য সামাজিক ভয়।

​দিনের আলোর অপচয়: অন্যের সন্তুষ্টির পেছনে ছুটতে ছুটতে নিজের ভালো লাগার দিনগুলো হারিয়ে যায়, এবং একসময় অনুশোচনার পাহাড় জমে।

​জীবন আপনার, সিদ্ধান্তও আপনার

​কঠিন হলেও সত্য যে, আপনার সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না— সবকিছুর চূড়ান্ত পরিণতি নিজেকেই ভোগ করতে হয়।

​ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা: আপনার জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তের ফল ভালো হলে তার কৃতিত্ব যেমন আপনার, তেমনি খারাপ হলে তার দায়ও আপনার একারই।

​বাস্তবতার নির্মম রূপ: জীবনের কঠিন সময়ে যখন আপনি কষ্টে জর্জরিত থাকবেন, তখন সমাজের সমালোচকরা কেউ সান্ত্বনার আইফেল টাওয়ার বা তাজমহল হাতে নিয়ে আপনার পাশে এসে দাঁড়াবে না। আপনার লড়াই আপনাকে একাই লড়তে হবে।

​সুতরাং, যে মানুষগুলো আপনার কষ্টের অংশীদার হয় না, তাদের অহেতুক মতামতের ওপর কেন আপনার ভালো থাকার চাবিকাঠি সমর্পণ করবেন?

​নিজের ভেতরের 'আমি'কে জাগিয়ে তোলা

​দিনের পর দিন অন্যের মন জুগিয়ে চলতে চলতে মানুষ একসময় নিজের আসল সত্তা বা আত্মাকে হারিয়ে ফেলে।

এই দমবন্ধ করা অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সময় এখনই।

​নিজের ইচ্ছাকে সম্মান দিন: অন্যের তুষ্টির চেয়ে নিজের ভেতরের সুপ্ত ইচ্ছেগুলোকে প্রাধান্য দিন। আপনার ভেতরের জেদ, সৃজনশীলতা এবং স্বপ্নগুলোকে দমিয়ে রাখবেন না।

আত্মসম্মানবোধ বজায় রাখুন: নিজেকে নিজের প্রাপ্য সম্মানটুকু দিন। নিজের কাজের প্রতি বিশ্বাস রাখুন এবং নিজের ছোট ছোট অর্জনগুলোকে উদযাপন করুন।

নিজের ভেতরের মানুষটিকে শুনুন: সমাজের অন্ধ অনুশাসন থেকে বেরিয়ে নিজের মনের কথা শুনুন। আপনার ভেতরের দুমড়ানো-মুচড়ানো, লড়াকু 'আমি'কে টেনে বের করে আনুন।

​পরিশেষে বলা যায়, অন্যের ভাবনা বা বুলির ওপর ভিত্তি করে নিজের জীবনকে পরিচালনা করা মানে নিজের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা। জীবন নদীর স্রোতের মতো বহমান; কারোর জন্য এটি থেমে থাকে না। তাই লোকলজ্জার ভয়ে নিজেকে গুটিয়ে না রেখে নিজের শক্তির ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখুন।

​বিশ্বাস করুন, আপনার 'তুমি' ভীষণ দামী! অন্যের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য বা মতামতের চেয়ে আপনার নিজের সুখ, শান্তি এবং আত্মোপলব্ধি অনেক বেশি মূল্যবান। যেদিন আপনি নিজের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়া শুরু করবেন, দেখবেন মুহূর্তের মধ্যে আপনার চারপাশের পৃথিবীটা বদলে গেছে এবং এক নতুন সফলতার আলোয় আপনার জীবন আলোকিত হয়ে উঠেছে।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.