মাটিবাহী ট্রাকের চাপায় প্রাণ গেল দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদীর
নব জ্যোতি রিপোর্ট ডেস্কঃ
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া এলাকায় মাটিবাহী ট্রাকের চাপায় মেহেদী হাসান নামে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মেহেদী হাসান স্থানীয় একটি মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাড়ির পাশেই চলছিল বিয়ের অনুষ্ঠান। বাড়িতে ভাত খেয়ে পাশের বাড়ির বিয়ের গেট দেখতে আনন্দ নিয়ে বের হয়েছিল সে।
কিন্তু সেই আনন্দময় যাত্রাই তার জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে দাঁড়ায়। পথে বেপরোয়া গতির একটি মাটিবাহী ট্রাকের চাপায় প্রাণ হারায় শিশুটি।
একটি শিশুর জীবন মুহূর্তেই নিভে গেল। যে শিশুকে ঘিরে মা-বাবা ও স্বজনদের ছিল হাজারো স্বপ্ন, সেই মেহেদী আর কখনো বাড়ি ফিরবে না। সন্তানের এই অপূরণীয় ক্ষতির বেদনা সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হবে তার মা-বাবাকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলায় কৃষিজমি, নদীর কূল ও সরকারি খাসজমি থেকে মাটি উত্তোলন এবং তা পরিবহনের প্রবণতা বেড়েছে। এসব মাটিবাহী ট্রাক অনেক সময় বেপরোয়া গতিতে জনবসতিপূর্ণ সড়ক দিয়ে চলাচল করে।
ফলে সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে।
উপজেলায় মাটিদস্যুদের অবৈধ মাটি উত্তোলন ও পরিবহনের বিরুদ্ধে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দাবি, কৃষিজমি, নদীর তীর ও সরকারি খাসজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি অনুমোদনহীন ও বেপরোয়া গতির মাটিবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ করতে হবে।
প্রশাসনের কাছে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন-আর কত প্রাণ গেলে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে? জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে মানুষ কার কাছে নিরাপত্তা চাইবে?
আর কোনো মেহেদী যেন এভাবে প্রাণ না হারায়। কোনো মা-বাবার বুক যেন এভাবে খালি না হয়। মাটি ও বালু উত্তোলনের নামে অবৈধ কর্মকাণ্ড এবং বেপরোয়া যান চলাচল বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত, দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
মানুষের জীবনের চেয়ে কোনো ব্যবসা বা স্বার্থ বড় হতে পারে না। মেহেদীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার যথাযথ তদন্ত, দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এবং অবৈধ মাটিবাহী যান চলাচল বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment