চরপার্বতীর মৌলভীবাজার জামে মসজিদের স্বঘোষিত কমিটি নিয়ে বিতর্ক, চরমপন্থার প্রচারণার অভিযোগ:
অগণতান্ত্রিকভাবে গঠিত কমিটি, হিসাবহীনতা ও বয়ানে কট্ররপন্থার অভিযোগে উদ্বিগ্ন মুসল্লীরা:
বিশেষ প্রতিনিধি:
নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ২নং চরপার্বতী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত মৌলভীবাজার জামে মসজিদের স্বঘোষিত কমিটির সাথে এলাকাবাসীর বিতর্ক ও উগ্রপন্থা প্রচারের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় মুসল্লীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ শুক্রবার মসজিদে, স্বঘোষিত কমিটি থেকে বাৎসরিক হিসাব চাইলে স্থানীয় মুসল্লীদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় মুসল্লীদের অভিযোগ, মসজিদ পরিচালনা কমিটি গঠনে কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। বরং অল্প কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে কমিটি গঠন করেন, যা সাধারণ মুসল্লীদের মধ্যে অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে।
এলাকাবাসীর মতে, একটি মসজিদ কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সকল মুসল্লীর মতামত গ্রহণ কিংবা অন্তত একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।
কিন্তু তা না হওয়ায় বর্তমান কমিটিকে অনেকে অগণতান্ত্রিক ও অগ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখছেন।
অভিযোগ রয়েছে,একই দিন শুক্রবার বিকেলে স্বঘোষিত কমিটির কাছে আর্থিক হিসাব চাইলে তারা বিকেল বেলা সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হন।
ফলে মসজিদের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এছাড়াও, মসজিদের বারান্দায় উগ্রবাদী বক্তব্যসম্বলিত একটি ব্যানার টানানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে, যা পরবর্তীতে স্থানীয় সচেতন মহল সরিয়ে দেন।এ ঘটনায় কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় মুসল্লীরা আরও অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক জুমার খুতবায় পেশ ইমাম কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক আলোচনা থেকে সরে গিয়ে বিভাজনমূলক ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করা হচ্ছে, যা সাধারণ মুসল্লীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
এছাড়া, বর্তমান পেশ ইমামের বক্তব্য নিয়েও কিছু মুসল্লী অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার বিরুদ্ধে ফতোয়াবাজি, উসকানিমূলক বক্তব্য এবং রাষ্ট্রবিরোধী ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সচেতন মহল মনে করেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এ ধরনের বিভাজন ও উগ্রপন্থার বিস্তার সমাজের জন্য ক্ষতিকর। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
একই সঙ্গে সকল মুসল্লীর অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য, স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক কমিটি গঠন এবং কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক আদর্শে পরিচালিত যোগ্য ইমাম নিয়োগের দাবিও জোরালোভাবে উত্থাপিত হয়েছে।
Comments (0)
Be the first to comment on this article.
Leave a comment