ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : ছোটগল্প: নিহা ও একটি অদৃশ্য উপাখ্যান। একনেকে মুছাপুর রেগুলেটর প্রকল্প অনুমোদন মুছাপুরে উৎসবের আমেজ সন্তানের সঠিক পথচলায় অভিভাবকদের সচেতনতা অপরিহার্য: সহকারী অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ আমার মেয়ে। কবি আল হেলাল। কবি মুঃ ইব্রাহিম খলিল জসিমের কবিতার মেলা। গ্রাম আদালত সক্রিয় হলে সহজে বিচার পাবেন গ্রামের মানুষ: নোয়াখালীতে সমন্বয় সভা কবি কুতুবউদ্দিনের একগুচ্ছ সনেট কবিতা । একনেকে মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণে ৭৫২ কোটি টাকা অনুমোদন কোম্পানীগঞ্জের রাজনীতিতে তিন দশকের পথ চলায় জাহিদুর রহমান রাজন কোম্পানীগঞ্জে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের আহ্বায়ক কমিটির পরিচিতি সভা

জনপ্রতিনিধি নাকি নিজের ভাগ্যের কারিগর? ক্ষমতা কি জনগণের জন্য, নাকি ব্যক্তিস্বার্থের সিঁড়ি?

জনপ্রতিনিধি নাকি নিজের ভাগ্যের কারিগর?  ক্ষমতা কি জনগণের জন্য, নাকি ব্যক্তিস্বার্থের সিঁড়ি?

জনপ্রতিনিধি নাকি নিজের ভাগ্যের কারিগর?

ক্ষমতা কি জনগণের জন্য, নাকি ব্যক্তিস্বার্থের সিঁড়ি?

সংসদ সদস্য জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন—নিজের ভাগ্য বদলাতে নয়, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের দায়িত্ব নিতে। কিন্তু কতিপয় জনপ্রতিনিধির চলন-বলন, কথন ও ক্ষমতার আস্ফালন দেখে কখনো কখনো মনে প্রশ্ন জাগে—তাঁরা কি সত্যিই জনসেবায় এসেছেন, নাকি রাজনীতিকে নিজেদের জীবন গোছানোর একটি লাভজনক সিঁড়ি হিসেবে দেখছেন?

জনগণের ভোট কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পদ নয়; এটি রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের অর্পিত একটি আমানত। সেই আমানতের বিনিময়ে জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব হওয়া উচিত আইন প্রণয়ন, রাষ্ট্রীয় অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং মানুষের মৌলিক অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখা। অথচ যখন কোনো জনপ্রতিনিধির কাছে জনস্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থ বড় হয়ে ওঠে, রাষ্ট্রীয় সম্পদের চেয়ে নিজের সম্পদ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, তখন প্রশ্ন উঠতেই পারে—এটি কি গণসেবা, নাকি ক্ষমতার ব্যক্তিগত ব্যবসা?

রাষ্ট্রের অর্থ জনগণের অর্থ। করদাতার টাকা, কৃষকের ঘাম, শ্রমিকের শ্রম, প্রবাসীর পাঠানো রেমিট্যান্স—সব মিলেই রাষ্ট্রীয় কোষাগার। এই অর্থ কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত ভাণ্ডার নয়। জনগণের অর্থে নিজের পকেট ভারী করা, ক্ষমতার প্রভাব কাজে লাগিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধা আদায় করা কিংবা রাজনৈতিক পদকে সম্পদ বৃদ্ধির হাতিয়ার বানানো শুধু নৈতিক অবক্ষয় নয়; এটি জনগণের বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতারণা।

একজন প্রকৃত জনপ্রতিনিধির পরিচয় তাঁর গাড়িবহর, অর্থবিত্ত, প্রভাব কিংবা আস্ফালনে নয়; তাঁর পরিচয় মানুষের পাশে দাঁড়ানোয়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায়, রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় এবং নিজের ক্ষমতারও জবাবদিহি নিশ্চিত করায়।

রাজনীতি যদি হয় আত্মস্বার্থের বিনিয়োগ, তাহলে গণতন্ত্র তার অর্থ হারায়। আর রাজনীতি যদি হয় মানুষের কল্যাণের অঙ্গীকার, তাহলে একজন সৎ জনপ্রতিনিধির প্রতিটি দিন হয়ে ওঠে জনসেবার ইতিহাস।

মনে রাখা দরকার—ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, পদও নয়; কিন্তু জনগণের জন্য করা ভালো কাজ ইতিহাসে বেঁচে থাকে। তাই জনপ্রতিনিধির সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হওয়া উচিত—ক্ষমতার মেয়াদ শেষে নিজের জন্য কতটুকু অর্জন করেছি, তা নয়; বরং জনগণের জন্য কী রেখে যেতে পেরেছি?

কারণ জনগণ ভোট দিয়ে কাউকে রাজা বানায় না; বানায় একজন প্রতিনিধি। আর প্রতিনিধি হওয়ার অর্থ জনগণের ওপরে ওঠা নয়—বরং জনগণের কাছে আরও বেশি দায়বদ্ধ হওয়া।

যে রাজনীতি নিজের ভাগ্য বদলায়, তা ক্ষমতার রাজনীতি; আর যে রাজনীতি মানুষের ভাগ্য বদলায়, সেটিই প্রকৃত জনসেবা।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.