ঢাকা    ,
সংবাদ শিরোনাম : চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন মনিরুল ইসলাম বকুল সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিল: শরিয়াহবিরোধী, নাকি স্বতন্ত্র সিভিল মডেল? চরপার্বতীতে মাদক নির্মূলে আলোচনা সভা ও র‍্যালি অনুষ্ঠিতঃ কোম্পানীগঞ্জে বিশ্বস্ততার সাথে অনলাইন ও ডিজিটাল সেবা দিচ্ছে ‘গাংচিল এন্টারপ্রাইজ এন্ড আধুনিক কম্পিউটার’​: বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট নিয়ে সরকারের বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন? চরপার্বতীতে মাদক নির্মূল ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় ৭ সেপ্টেম্বর আলোচনা সভা ও র‍্যালি: মডেল চরকাঁকড়া গড়ার লক্ষ্যে মাঠে গোলাম কিবরিয়া বি,এস,সি: সুইচ চাপলেই আলো জ্বলবে,সাধারণ মানুষের হিসাব কি এতটাই সরল? তকমার বাজারে সত্যের কলম ---------মোহাম্মদ উল্যা মিরাজ------- দ্রব্যমূল্য কমাও, দুর্নীতির লাগাম টানো —মোহাম্মদ উল্যা— শিক্ষক,সাংবাদিক

সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিল: শরিয়াহবিরোধী, নাকি স্বতন্ত্র সিভিল মডেল?

সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিল: শরিয়াহবিরোধী, নাকি স্বতন্ত্র সিভিল মডেল?

সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিল: শরিয়াহবিরোধী, নাকি স্বতন্ত্র সিভিল মডেল?

শাহাদাত হোসেন

বার্তা সম্পাদক,

নব জ্যোতি পএিকা।

পিতা-মাতা, দাদা-দাদি কিংবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে দাতার আজীবন ভোগদখলের অধিকার সংরক্ষণের সুযোগ রেখে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’।

গত ৬ সেপ্টেম্বর কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

বিলটি পাসের পর থেকেই এর আইনগত ও ফিকহি বৈধতা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিলটিকে ‘কুরআন-সুন্নাহবিরোধী’ এবং ইসলামি উত্তরাধিকার বিধানের পরিপন্থী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন এই বিধানের সঙ্গে শরিয়াহ আইনের কোনো সংঘাত নেই।

এটি প্রচলিত হিবা বা মুসলিম ব্যক্তিগত আইনকে বাতিল কিংবা সীমিত না করে একটি স্বতন্ত্র আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে কার্যকর হবে।

এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে,নতুন এই বিধান কি সত্যিই ইসলামি আইনের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক, নাকি এটি মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের পাশাপাশি একটি ঐচ্ছিক ও স্বতন্ত্র সিভিল-স্ট্যাটিউটরি ব্যবস্থা?

বিলের মূল বৈশিষ্ট্য কী?

১৮৮২ সালের Transfer of Property Act-এ নতুন ১২২এ ও ১২২বি ধারা সংযোজনের মাধ্যমে দাতার আজীবন ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি বিশেষ ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে।

নতুন ধারা ১২২এ অনুযায়ী, পিতা-মাতা, দাদা-দাদি বা স্বামী-স্ত্রী নির্দিষ্ট নিকটাত্মীয়ের কাছে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করলেও দাতা তাঁর জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তির ভোগ ও ব্যবহার করার অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন।

স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন আইনের বিধান অনুযায়ী নিবন্ধিত দলিলের প্রয়োজন হবে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দাতা জীবিত থাকা অবস্থায় গ্রহীতার মৃত্যু হলে সম্পত্তি গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে যেতে পারবে; তবে দাতার সংরক্ষিত ভোগাধিকার বহাল থাকবে।

বিধানটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো,এটি একটি স্বতন্ত্র হস্তান্তর পদ্ধতি। অর্থাৎ প্রচলিত হিবা, সাধারণ গিফট বা অন্য কোনো আইনগত হস্তান্তর পদ্ধতিকে এটি বাতিল, সীমিত বা অকার্যকর করছে না।

ধারা ১২২বি অনুযায়ী, নিবন্ধনের পর এ ধরনের হস্তান্তর সাধারণত অবাতিলযোগ্য হবে। তবে পক্ষগুলোর সম্মতিতে অথবা জেলা জজের অনুমোদনের মাধ্যমে আর্থিক, চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা পারিবারিক প্রয়োজনে তা পরিবর্তন বা বাতিলের সুযোগ রাখা হয়েছে।

ইসলামী হিবায় কবজা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে হিবা বা দানের বৈধতার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে তিনটি মৌলিক উপাদান আলোচিত হয়—দাতার ঘোষণা বা ইজাব, গ্রহীতার গ্রহণ বা কবুল এবং সম্পত্তির দখল বা কবজা হস্তান্তর।

তবে কবজা সব সময় শারীরিকভাবে সম্পত্তি হস্তান্তরের অর্থ বহন করে না। পরিস্থিতি অনুযায়ী বাস্তব (actual) অথবা গঠনমূলক (constructive) দখল হস্তান্তরও যথেষ্ট হতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে, মিউটেশন, দলিল হস্তান্তর, ভাড়াটিয়ার কাছে মালিকানা পরিবর্তনের ঘোষণা কিংবা সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা ও ভাড়া গ্রহণের অধিকার গ্রহীতার কাছে হস্তান্তরের মতো বিষয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে constructive possession-এর প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

দাতা ও গ্রহীতা একই বাড়িতে বসবাস করলেও প্রতিবার শারীরিকভাবে দাতা বাড়ি ছেড়ে গিয়ে গ্রহীতাকে প্রবেশ করানোই একমাত্র পদ্ধতি নয়। পরিস্থিতি ও পক্ষগুলোর আচরণ বিবেচনা করে আদালত দখল হস্তান্তরের বিষয়টি নির্ধারণ করতে পারে।

এ ছাড়া মুসলিম আইনে হিবা মৌখিকভাবেও সম্পন্ন হতে পারে, যদি প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ হয়। Transfer of Property Act-এর ১২৯ ধারাও মুসলিম হিবার ক্ষেত্রে সাধারণ গিফটের জন্য প্রযোজ্য কিছু আনুষ্ঠানিকতার ব্যতিক্রম স্বীকার করে।

এখানেই ১২২এ ধারার সঙ্গে হিবার পার্থক্য?

নতুন আইনের সঙ্গে প্রচলিত হিবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো দখল ও ভোগাধিকার।

প্রচলিত হিবার ক্ষেত্রে বৈধভাবে হিবা সম্পন্ন হওয়ার জন্য কবজা হস্তান্তর গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। অর্থাৎ হিবা সম্পন্ন হওয়ার পর সম্পত্তির মালিকানা ও দখল গ্রহীতার দিকে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে ১২২এ ধারার প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় মালিকানা হস্তান্তর হলেও দাতা তাঁর জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভোগদখলের অধিকার নিজের কাছে রাখতে পারেন।

ফলে কোনো মুসলিম ব্যক্তি যদি ১২২এ ধারার অধীনে সম্পত্তি হস্তান্তর করেন, তাহলে সেটিকে প্রচলিত ফিকহি অর্থে ‘হিবা’ হিসেবে চিহ্নিত করার আগে বিষয়টি আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

আইনগতভাবে এটি ‘জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক সম্পত্তি হস্তান্তর’ বা একটি স্বতন্ত্র statutory transfer mechanism হিসেবে বিবেচনা করাই অধিক নিরাপদ হতে পারে।

তাহলে কি এটি শরিয়াহবিরোধী?

এখানে বিষয়টি দুটি পৃথক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা প্রয়োজন আছে, আইনগত সংঘাত এবং ফিকহি সামঞ্জস্য।

আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, নতুন বিধানটি সরাসরি হিবা বা মুসলিম উত্তরাধিকার আইনকে বাতিল করছে না। বরং এটি একটি আলাদা দেওয়ানি হস্তান্তর পদ্ধতি তৈরি করছে।

অন্যদিকে ফিকহি দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নটি আরও সূক্ষ্ম। কারণ, প্রচলিত হিবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো কবজা হস্তান্তর। ১২২এ ধারায় দাতা মালিকানা হস্তান্তরের পরও জীবদ্দশায় ভোগদখলের অধিকার রাখছেন। এই বৈশিষ্ট্য প্রচলিত হিবার কাঠামোর সঙ্গে পুরোপুরি অভিন্ন নয়।

তাই দুটি ব্যবস্থাকে এক করে দেখার পরিবর্তে পৃথক হিসেবে দেখা অধিক যুক্তিসঙ্গত।

অর্থাৎ, ‘১২২এ-এর অধীনে সম্পত্তি হস্তান্তর’ এবং ‘শরিয়াহসম্মত হিবা’ একই আইনগত বা ফিকহি প্রতিষ্ঠান নয়—এই পার্থক্যটি স্পষ্ট রাখা জরুরি।

উত্তরাধিকার আইনের সঙ্গে কি সংঘাত তৈরি হবে?

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো,এই বিধান ইসলামি ফারায়েজ বা উত্তরাধিকার ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করছে কি না।

ফিকহের দৃষ্টিতে উত্তরাধিকার কার্যকর হয় মূলত মৃত্যুর পর। পক্ষান্তরে হিবা কিংবা ১২২এ ধারার মতো সম্পত্তি হস্তান্তর হলো জীবদ্দশার লেনদেন।

অতএব, কোনো ব্যক্তি জীবদ্দশায় বৈধভাবে তাঁর মালিকানাধীন সম্পত্তি হস্তান্তর করলে সেই সম্পত্তি পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যুর সময় উত্তরাধিকারযোগ্য সম্পত্তির অংশ হবে কি না,তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট হস্তান্তরটি আইনগত ও ফিকহি দৃষ্টিতে বৈধভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না তার ওপর।

সুতরাং নতুন আইন সরাসরি ফারায়েজের অংশের হিসাব বা উত্তরাধিকারীদের নির্ধারিত অংশ পরিবর্তন করছে এমনটি বলা সরলীকরণ হবে। তবে এর প্রয়োগ এমনভাবে হলে যাতে উত্তরাধিকারীদের শরিয়াহসম্মত অধিকার প্রতারণামূলকভাবে ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্য থাকে, তাহলে আলাদা ফিকহি ও আইনগত প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

সংসদীয় বিতর্কে দুই ধরনের অবস্থান:

বিলটি নিয়ে সংসদে তীব্র বিতর্ক হয়েছে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, দখল হস্তান্তর ছাড়া সম্পত্তি দানের এই ব্যবস্থা কুরআন-সুন্নাহ ও প্রচলিত ইসলামি উত্তরাধিকার বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইনটি কোনো ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইন বাতিল করছে না। বরং এটি একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি হিসেবে থাকবে এবং মুসলিম নাগরিক চাইলে প্রচলিত হিবা বা অন্যান্য বৈধ পদ্ধতিও অনুসরণ করতে পারবেন।

এই বিতর্কের মধ্যেই দেশের ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞ, মুফতি ও ফকিহদের মতামত নেওয়ার দাবিও উঠেছে।

বাস্তবে সুবিধা কোথায়?

নতুন ব্যবস্থাটির পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বাস্তবতা রয়েছে।

অনেক বৃদ্ধ পিতা-মাতা জীবদ্দশায় সন্তানদের নামে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পর নিজেদের বসবাস ও নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েন। কখনও কখনও সম্পত্তি হস্তান্তরের পর দাতা নিজের বাড়ি বা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতেও পড়েন।

১২২এ ধারার মূল উদ্দেশ্য যদি দাতার মালিকানা হস্তান্তরের পরও তাঁর জীবনকালীন বাসস্থান ও ভোগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়, তাহলে এটি একটি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

তবে এর অপব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে উত্তরাধিকারীদের বৈধ অধিকার ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তি কৃত্রিম বা প্রতারণামূলকভাবে সম্পত্তি হস্তান্তর করলে তা নিয়ে ভবিষ্যতে মামলা ও ফিকহি বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে।

মুসলিম দাতাদের জন্য কী সতর্কতা প্রয়োজন?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো,দাতা কোন পদ্ধতিতে সম্পত্তি হস্তান্তর করছেন, সেটি দলিলে স্পষ্ট থাকা।

কেউ যদি শরিয়াহসম্মত হিবা করতে চান, তাহলে হিবার প্রয়োজনীয় শর্ত ইজাব, কবুল ও কবজা, যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে কেউ যদি ১২২এ ধারার অধীনে দাতার আজীবন ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে চান, তাহলে সেটিকে আলাদা statutory transfer হিসেবে দলিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত।

বিশেষ করে মুসলিম নাগরিকদের ক্ষেত্রে দলিল করার আগে আইনজীবীর পাশাপাশি যোগ্য মুফতি বা ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া হলে ভবিষ্যৎ বিরোধের ঝুঁকি কমতে পারে।

আইনি-ফিকহি সমাধানের পথ কী?

এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে, হিবা ও ১২২এ ধারার হস্তান্তরকে পৃথক দুটি আইনি ও ফিকহি কাঠামো হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।

প্রথমত, প্রচলিত হিবার ক্ষেত্রে মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের শর্তগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, ১২২এ ধারার অধীনে হস্তান্তরকে ‘হিবা’ হিসেবে না দেখে স্বতন্ত্র সিভিল-স্ট্যাটিউটরি ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

তৃতীয়ত, মুসলিম দাতার ক্ষেত্রে দলিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে যে হস্তান্তরটি প্রচলিত মুসলিম আইনের হিবা নাকি নতুন আইনের অধীনে জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে সম্পত্তি হস্তান্তর।

চতুর্থত, সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োগবিধি বা নির্দেশিকায় সাধারণ নাগরিকদের জন্য স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

পঞ্চমত, ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞ, মুফতি, ফকিহ এবং দেওয়ানি আইনের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি ব্যাখ্যামূলক গাইডলাইন তৈরি করা হলে আইনটির প্রয়োগে ধর্মীয় ও আইনগত দ্বন্দ্ব অনেকটাই কমানো সম্ভব।

উপসংহার:

সবদিক বিবেচনায় বলা যায়, ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’-এর ১২২এ ও ১২২বি ধারা প্রচলিত মুসলিম হিবা আইনকে সরাসরি বাতিল বা পরিবর্তন করছে না। এটি বরং দাতার আজীবন ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি পৃথক দেওয়ানি আইনগত ব্যবস্থা তৈরি করছে।

তবে ফিকহি দৃষ্টিকোণ থেকে এর কাঠামো প্রচলিত হিবার সঙ্গে পুরোপুরি এক নয়। বিশেষ করে কবজা হস্তান্তর এবং দাতার আজীবন ভোগদখল বজায় রাখার প্রশ্নে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

তাই এটিকে সরাসরি ‘শরিয়াহসম্মত হিবা’ কিংবা ‘শরিয়াহবিরোধী হিবা’,এই দুইয়ের কোনো একটিতে সীমাবদ্ধ না করে একটি স্বতন্ত্র statutory transfer model হিসেবে বিশ্লেষণ করাই অধিক যুক্তিসঙ্গত।

একই সঙ্গে, কোনো মুসলিম নাগরিক যদি এই আইনের অধীনে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে চান, তাহলে তাঁর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো,তিনি হিবা করছেন, নাকি আইনগতভাবে স্বতন্ত্র ১২২এ মডেল গ্রহণ করছেন, তা পরিষ্কারভাবে বুঝে নেওয়া।

আমি আইনের ছাত্র হিসেবে মনে করি, এ বিষয়ে সরকার, আইন বিশেষজ্ঞ এবং ইসলামি আইন ও ফিকহের বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত ব্যাখ্যা ও ব্যবহারিক নির্দেশিকা প্রকাশ করে বিরোধ নিষ্পত্তি করা যাবে।

শাহাদাত হোসেন

সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা (পিআইবি)

মাস্টার্স (রাষ্ট্রবিজ্ঞান)

এলএল.বি. (অধ্যয়নরত)।

Comments (0)

Be the first to comment on this article.


Leave a comment

Your comment will be reviewed before publication.